fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

এবার বীরভুমে ধরা পড়ল কোভিড -19 পজিটিভ!

সুব্রত মুখোপাধ্যায়, সাঁইথিয়া: জেলার সীমানা সিল করেও শেষরক্ষা করতে পারল না বীরভুম প্রশাসন। পশ্চিমবঙ্গে গ্রীন জোনে বীরভূম জেলা ছিল অন্য ৪ টি জেলার সঙ্গে। আজই সকালে লালারস পরীক্ষায় ধরা পড়ল তিনজন পজিটিভ রোগীর। এই তিনজন মল্লারপুর থানার ঝেকোড্ডা গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত মহুরাপুরের বাসিন্দা। মুম্বইয়ের টাটা ক্যানসার হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা করে দিন পাঁচেক আগে মহুরাপুরে ফিরেছিলেন।

সাতাশ এপ্রিল তাদের লালারস সংগ্রহ করা হয়। কাল বিকেলে টেস্ট রেজাল্টে জানতে পারা যায় তারা কোভিড পজিটিভ। পজিটিভ রোগীদের মধ্যে দুজন মহিলা এবং একজন পুরুষ। তাদের সকলকে বোলপুর কোভিড হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর সঙ্গেই মহুরাপুরের আরও সতেরো জনকে চোদ্দ দিনের কোয়ারেন্টিনে পাঠানোর ব্যবস্হা করা হয়েছে বলে জানা গেল।

গ্রীন জোন এ থাকা বীরভূম এবার অরেঞ্জ জোনে যেতে চলেছে….

বীরভূম থেকে সৌরভ বড়ালের সংযোজন :

করোনা ভাইরাস ভারতবর্ষে থাবা বসানোর পর থেকে চার মাস বেরিয়ে যাবার পর পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলা প্রথম থেকেই গ্রীন জনের মধ্যে অবস্থান করছিল। রাজ্য প্রশাসন তথা জেলা প্রশাসন কড়া নজরদারির মধ্যে এই জেলাকে রাখার পরেও আর শেষ রক্ষা হলো না। অবশেষে গ্রীন জনে থাকা বীরভূম জেলায় থাবা বসাল করোনা ভাইরাস। শুক্রবার সকালে জেলা স্বাস্থ্য দফতরে তরফে খবর আসে বীরভূমের ময়ূরেশ্বর ১ নম্বর ব্লকে একই পরিবারের তিনজন করোনাভাইরাস পজিটিভ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন।

একই সঙ্গে বীরভূমের দুবরাজপুর ব্লক থেকে দুজন ব্যক্তি কে করোনাভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহে চিহ্নিত করেছে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর। শুক্রবার সকালে এই ঘটনা সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে জেলা জুড়ে ছড়িয়ে পড়তেই কার্যত চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গেছে, দুদিন আগে ময়ূরেশ্বর ১ নম্বর ব্লকের একই পরিবারের যে তিনজন করোনাভাইরাস পজেটিভ চিহ্নিত হয়েছে তাদের নমুনা মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। শুক্রবার জেলা স্বাস্থ্য দফতরের কাছে এসে পৌঁছলো সেই অঘটনের খবর। একই পরিবারের তিনজনই করোনাভাইরাস পজিটিভ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ওই তিনজনকে দ্রুত বোলপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্র অর্থাৎ যেখানে জেলার কোয়ারেন্টাইন এবং করোনা চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে রাখা হয়েছে সেখানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে খবর, ময়ূরেশ্বর এর বই ৩ ব্যক্তির করোনা পজেটিভ হওয়ার কথা স্থানীয় এলাকায় জানাজানি হতেই তাদেরকে একটি ঘরে কোয়ারেন্টাইন করা হয়। আক্রান্তদের মধ্যে প্রত্যেকের বয়স ৫০ এর উর্ধে। আক্রান্তদের মধ্যে দুজন মহিলা ও একজন পুরুষ রয়েছেন। সেই সঙ্গে ওই পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের হোম কোয়ারেন্টাইন থাকার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।

পাশাপাশি ওই এলাকায় ওই পরিবারের সঙ্গে সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদেরও চিহ্নিত করে হোম কোয়ারেন্টাইন এ পাঠানোর ব্যবস্থা করছে জেলা স্বাস্থ্য দফতর। তবে প্রাথমিকভাবে তাদের শরীরে করোনা ভাইরাস এর কোনও সংক্রমণ দেখা না গেলেও মুম্বাই ফেরত এই ব্যক্তিদের লালা রস পরীক্ষা করা হয় সংক্রমিত মুম্বই থেকে ফেরত আসার কারণে। অন্যদিকে দুবরাজপুর ব্লক এ যে দুজন ব্যক্তিকে করোনাভাইরাস সন্দেহে চিহ্নিত করা হয়েছে তাদের ফাইনাল রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত ওই দুজনকে এবং তাদের পরিবারকে হোম কোয়ারেন্টাইন এ থাকার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর।

সূত্রের খবর ময়ূরেশ্বর এর ওই তিনজন ব্যক্তি যাদের করোনা ভাইরাস সংক্রমণ পজিটিভ নিশ্চিত হয়েছে তারা কিছুদিন আগেই মুম্বাই থেকে ফিরেছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ,তারা মুম্বাই থেকে ফিরেছেন একথা প্রশাসনকে জানানো সত্ত্বেও কেন তাদেরকে তখনই কোয়ারেন্টাইন এ পাঠানোর ব্যবস্থা নিলোনা জেলা প্রশাসন।

প্রসঙ্গত, রাজ্যে করোনা সংক্রমণের শুরু থেকেই বীরভূম জেলা কার্যত গ্রীন জনের মধ্যেই ছিল। তাই কিছুটা গা-ছাড়া ভাব দেখা দিয়েছিল বীরভূম জেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং সর্বোপরি জেলার বাসিন্দাদের মধ্যে। লকডাউন কে কার্যকর করার জন্য জেলা পুলিশ প্রশাসনের তরফে নিয়মিত রাস্তায় নেমে সাধারণ মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে। বেশ কিছু ক্ষেত্রে পুলিশ লকডাউন ভঙ্গকারীদের গ্রেফতার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে বিপর্যয় মোকাবিলা আইনে মামলা রুজু করেছে পুলিশ। কিন্তু তার পরেও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তুলতে কার্যত ব্যর্থ হয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

বীরভূমের সংক্রমণ নেই একথা ধরে নিয়ে দিনের একটি বিশেষ সময় বিশেষত সকাল ছয়টা থেকে সন্ধ্যে ছটা পর্যন্ত অবাধে জেলা সদরসহ জেলার বিভিন্ন শহর ও গ্রামাঞ্চলে সাধারণ মানুষজন ঘুরে বেড়িয়েছেন। কিছু ক্ষেত্রে পুলিশ কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও কিছু ক্ষেত্রে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে তর্কের খাতিরে কিছুটা ছাড় দিয়েছিল পুলিশ প্রশাসন। যার পরিণাম এবার ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করল বীরভূমে।

অন্যদিকে বীরভূম গ্রীনজনে থাকার জন্য রাজ্য প্রশাসন গ্রীন জনে থাকাই বীরভূমে আগামী সোমবার থেকে জেলার মধ্যে কুড়ি জন যাত্রী নিয়ে বাস চালানোর মতো সিদ্ধান্ত নিয়ে বসে ছিল। প্রশাসনের তরফে বাস চালানো নিয়ে শেষ সিদ্ধান্ত না জানা গেলেও পরিস্থিতি মোতাবেক বীরভূম জেলায় এখনই কোন যানবাহন না চলায় স্বাভাবিক। শুধু তাই নয় জেলা স্বাস্থ্য দফতরের এবং চিকিৎসকদের এক বৃহৎ অংশের পরামর্শ দ্রুত বীরভূম জেলার আনাচে-কানাচে গ্রামগঞ্জে কড়া ভাবে পুনরায় লকডাউন কার্যকর করা দরকার। বীরভূম জেলায় করোনা সংক্রমণ নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এদিন বীরভূম জেলা পরিষদে।

Related Articles

Back to top button
Close