fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হোস্টেলে ব্যাপক বোমাবাজি, মারধর, আহত ৪ ছাত্র

তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, অভিযোগ এবিভিপির

অভিষেক আচার্য, কল্যাণী: ফের খবরের শিরোনামে নদীয়ার বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। ছাত্র হোস্টেলে বোমাবাজি, দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে উত্তাল হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস চত্বর। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হন ৪ ছাত্র। অভিযোগের তীর এবিভিপি ছাত্র সংগঠনের দিকে। তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের শিকার ছাত্ররা, পাল্টা অভিযোগ এবিভিপির।

 

সূত্রের খবর, রবিবার ভোর রাতে বিধান চন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসের মধ্যে রবীন্দ্র আবাস হোস্টেলে ব্যাপক বোমাবাজি হয়। অভিযোগ, তৃণমূল ছাত্র পরিষদের ইউনিট প্রেসিডেন্ট অনুভব হুইকে রড দিয়ে ব্যাপক মারধর করে কয়েকজন বহিরাগত। এমনকি বিয়ারের বোতল ভেঙে তাঁকে খুনের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। অনুভবকে বাঁচাতে গেলে আহত হন আরো তিন জন ছাত্র। কয়েক মিনিট হোস্টেলে তান্ডব চালানোর পর ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যায় বহিরাগতরা।

 

 

এই বিষয়ে অনুভব হুই বলেন, ভোর রাতে ৭-৮ জন বহিরাগত আমাদের হোস্টেলে ঢুকে আমার রুম লক্ষ্য করে দুটি বোম ছোঁড়ে। তারপর আমাকে লোহার রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। এছাড়া হোস্টেলে থাকা সৌরকান্তি সরকার, দোলগোবিন্দ পাল ও সুমন্ত পান্ডা কেও বেধড়ক মারধর করে বহিরাগতরা।

 

 

গত সপ্তাহেই উপাচার্য ধরনীধর পাত্রের পদত্যাগের দাবিতে তৃণমূল সংগঠনগুলির আন্দোলন-বিক্ষোভে শোরগোল পরে গিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে। সেই আন্দোলনের জেরে পদত্যাগ করেন উপাচার্য। সেই রেশ না কাটতেই হোস্টেলে বোমাবাজি, ছাত্র সংঘর্ষ শুরু হয়। এই ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এই বিষয়ে ছাত্র সুমন্ত পান্ডা বলেন, এই দৃশ্য আগে কোনোদিন দেখিনি। আমাকেও মারধর করে বহিরাগতরা। খুব আতঙ্কের মধ্যে আমরা রয়েছি।

 

 

কয়েকজন ছাত্রের অভিযোগ, এই তান্ডব এবিভিপি ছাত্ররা চালিয়েছে। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের এক ছাত্র জানান, অনুভব কৃষিবিভাগের এমএসসি-র দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। এবিভিপির মদতপুষ্ট কয়েকজন ছাত্র এই কান্ড ঘটিয়েছে। যদিও অনেকে এই সংঘর্ষকে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বলেই আখ্যা দিচ্ছেন। যদিও সেই আখ্যা পুরোপুরি খারিজ করে দেন রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেসের ছাত্র পরিষদের সম্পাদক রাকেশ পাঁরুই। তিনি বলেন, এখানে দলের কোনো গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নেই। কিছু বহিরাগত এই হামলা চালিয়েছে। আহত চার ছাত্রের মধ্যে দুজনের অবস্থা স্থিতিশীল। গুরুতর আহত হয়েছে অনুভব। তাঁর মাথায় ও শরীরে চোট লেগেছে।

 

 

ঘটনাস্থলের চিত্রটা ঠিক এরকম, রবীন্দ্র আবাসের দ্বিতীয়তলার দুটি রুম পুরো তছনছ করে দিয়েছে হামলাকারীরা। বোমার আঘাতের চিন্হ রয়েছে ঘরের মেঝেতে। খাট ও মেঝেতে আহতদের রক্তের দাগ সদ্য শুকিয়েছে। বিয়ারের বোতলের টুকরো ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে চতুর্দিকে। এখন প্রশ্ন, বোমা নিয়ে কি করে বহিরাগতরা হোস্টেলে প্রবেশ করলো? আর অনুভব কোন রুমে রয়েছে সেটাই বা বহিরাগতরা জানলো কি করে? তাহলে কি দলের অন্দরেই রয়েছে সর্ষের ভূত?

 

যদিও এই বিষয়টি পুরোপুরি এড়িয়ে গিয়েছেন তৃণমূলের নেতারা। এই বিষয়ে বিজেপি নেতা মানবেন্দ্র রায় বলেন, এবিভিপি কোনোভাবেই এর মধ্যে জড়িত নয়। তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরেই রয়েছে। গোষ্ঠীদ্বন্দ ছাত্রদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে। একই দলের দুটি গোষ্ঠীর লড়াই। এর সঙ্গে এবিভিপির কোনো সম্পর্ক নেই। এবিভিপির তরফ থেকে বিশ্বজিৎ দাস বলেন, তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দের শিকার ছাত্ররা। আমাদের ছাত্র সংগঠন এর মধ্যে জড়িত নয়।
বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের ওপর এই হামলার ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল ছাত্রদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ বিশ্ববিদ্যালয়। এমনকি নিরাপত্তারক্ষীদের দায়িত্ব নিয়েও উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন।

Related Articles

Back to top button
Close