fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

বিধান চন্দ্র রায়ের জন্ম ও মৃত্যু বার্ষিকী পালন কল্যানীতে

অভিষেক আচার্য, কল্যাণী: সারা রাজ্যজুড়ে পালিত হচ্ছে রাজ্যের দ্বিতীয় মুখ্যমন্ত্রী ও বাংলার রূপকার ডা: বিধান চন্দ্র রায়ের জন্ম ও মৃত্যু বার্ষিকী। বিধান রায়ের মূর্তিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন নেতারা। শুধু শহর নয়, জেলার বিভিন্ন জায়গায় বিধানচন্দ্র রায়ের মূর্তিতে মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। নদীয়ার কল্যাণীতে মহাসমারোহে পালিত হচ্ছে একাধারে তাঁর জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। অন্যদিকে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিধান চন্দ্র রায়ের জন্মদিন উপলক্ষে ছুটি ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার৷ অর্থ দফতর নির্দেশিকা জারি করে জানিয়েছে, এদিন দুপুর দুটোর পর ছুটি হয়ে যাবে সব সরকারি দফতর।

প্রসঙ্গত,  বিহারের পাটনাতে ১৮৮২ সালে এই দিনটিতে জন্মগ্রহন করেছিলেন বিধানচন্দ্র রায়। প্রথম দিন থেকেই পড়াশুনায় যথেষ্ট মেধাবী ছিলেন তিনি। ১৯১১ সালে ইংল্যান্ড থেকে এফ.আর.সি.এস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে কলকাতার ক্যাম্বেল মেডিক্যাল স্কুলে (বর্তমানে নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ) শিক্ষকতা ও চিকিৎসা ব্যবসা শুরু করেন। পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেনেট সদস্য, রয়্যাল সোসাইটি অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড হাইজিন ও আমেরিকান সোসাইটি অফ চেস্ট ফিজিশিয়ানের ফেলো নির্বাচিত হন। ১৯২৩ সালে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের প্রভাবে রাজনীতিতে যোগ দিয়ে বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক সভার নির্বাচনে সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেন। পরে কলকাতা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ও কলকাতা পৌরসংস্থার মেয়র নির্বাচিত হন। ১৯৩১ সালে মহাত্মা গান্ধীর ডাকে আইন অমান্য আন্দোলনে যোগ দিয়ে কারাবরণ করেন। ১৯৪২ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মনোনীত হন। ১৯৪৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন কেন্দ্র থেকে কংগ্রেস প্রার্থীরূপে আইনসভায় নির্বাচিত হন। ১৯৪৮ সালে গ্রহণ করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর চোদ্দো বছরের মুখ্যমন্ত্রিত্বকালে নবগঠিত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের প্রভূত উন্নতি সম্ভব হয়েছিল। এই কারণে তাঁকে পশ্চিমবঙ্গের রূপকার নামে অভিহিত করা হয়।

১৯৬১ সালে তিনি ভারতের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ভারতরত্নে ভূষিত হন। মৃত্যুর পর তাঁর সম্মানে কলকাতার উপনগরী সল্টলেকের নামকরণ করা হয় বিধাননগর। তাঁর জন্ম ও মৃত্যুদিন (১ জুলাই) সারা ভারতে “চিকিৎসক দিবস” রূপে পালিত হয়। বিধানবাবু এক জন বহুমুখী সক্রিয় ব্যক্তি ছিলেন। ভারী শিল্প এবং সমস্ত নতুন নতুন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর, সবই তো ব্যক্তিগত ভাবে তাঁর নিজের হাতে করা। আমাদের যাদের শিকড় আজ বাংলার মাটিতে, তাদের বোধহয় আরও বেশি করে, বিশেষত নতুন প্রজন্মের বিধানবাবুকে নিয়ে পড়াশোনা করার সময় এসেছে।

Related Articles

Back to top button
Close