fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

অবশেষে স্বস্তির হাসি ফুটল বিড়ি শ্রমিকদের মুখে

বিজয় চন্দ্র বর্মন, মেখলিগঞ্জ: লকডাউনে সরকারি ভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল বিড়ি শিল্পের ওপরে। ফলে পাততাড়ি গুটিয়ে নিয়েছিল বিড়ি তৈরীর শিল্প গুলি। কাজ হারিয়ে কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছিল বিড়ি শ্রমিকদের। এদিকে বিড়ি শিল্প গুলি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দিন দিন লক লকিয়ে বাড়ছিল বিড়ির দাম।বিড়ি নিয়ে শুরু হয়ে গিয়েছিল কালোবাজারি। যেখানে আগে বিড়ির প্যাকেটের দাম ছিল ১৫ টাকা সেখানে কোথাও কোথাও বিড়ির প্যাকেটের দাম এই লক ডাউনের বাজারে দাঁড়িয়েছে ২৫ টাকা থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত।

সম্প্রতি সরকার লক ডাউনের মধ্যেও শর্ত সাপেক্ষে বিড়ি শিল্পের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় হাসি ফুটেছে বিড়ি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকদের। অনেকে আছেন যারা এই শিল্পে শ্রমিকের কাজ করে জীবন জীবিকা নির্বাহ করে। সংসারের যাবতীয় খরচ ও ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালায়। লকডাউনে বিড়ি তৈরী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম অভাবে পড়েছেন মেখলিগঞ্জের বিড়ি শ্রমিকরা। রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকের সংসারে চরম দারিদ্রতা ও খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। লক ডাউনের মধ্যেই বিড়ি শিল্পের ওপর ছাড় দেওয়ায় ফের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে বিড়ি শিল্প গুলি। কাজ পেয়ে হাসি ফুটেছে শ্রমিকদের মুখে। বুধবার দিন কাজে যোগ দিয়েই তারা জানালেন সে কথা।

মেখলিগঞ্জ ব্লকের রানিরহাটের একটি বিড়ি তৈরীর কারখানায় লক্ষ্য করা গেলো বিড়ি তৈরী ও প্যাকেট বন্দি করার চরম ব্যস্ততা। বিড়ি মালিক গোপাল রায় জানালেন, সরকারের এই সিদ্ধান্ত সত্যিই অভিনন্দন যোগ্য। কারন এই কারখানায় অনেক পুরুষ ও মহিলা শ্রমিক বিড়ি তৈরী ও প্যাকেট করার কাজে যুক্ত। একাজ করেই যা রোজগার হয় তাই দিয়েই ওদের সংসার চলে। লক ডাউনে বিড়ি তৈরী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই এক মাসে তাদের সংসার চালানো খুব কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সরকার বিড়ি শিল্পে ছাড় দিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে আমরা সরকারি নির্দেশিকা মেনেই কাজ করছি। কর্মচারিদের মুখে মাস্ক পড়ে কাজ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কারখানায় এসে প্রথমে সাবান বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পা ধুঁয়ে তার পর কাজে যুক্ত হওয়ার নিদান দেওয়া হয়েছে। কাজ করার সময়ও বজায় রাখা হচ্ছে সামাজিক দূরত্ব।

এক মহিলা কর্মচারি অর্পিতা রায় জানালেন, কবে কারখানা খুলবে এই নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় ছিলাম। কারন বিড়ি তৈরী করে যা রোজগার হয় তাই দিয়ে আমার সংসারের যাবতীয় খরচ চলে। আমার স্বামী অসুস্থ। কাজ কর্ম করতে না পেরে ঘরে বসা। এ অবস্থায় হঠাৎ করে বিড়ি তৈরী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ফাঁপড়ে পড়েছিলাম।এই এক মাস খুব কষ্ট করে চলতে হয়েছে। আবার কারখানা চালু হওয়ায় ভালো লাগছে। আর এক বিড়ি শ্রমিক জানালেন, দীর্ঘ দিন থেকে এই কারখানায় কাজ করি। অন্য কোনও পেশায় তিনি কোনও দিন আসেননি। লক ডাউনে বিড়ি শিল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ায় খুব চিন্তায় ছিলাম। এখন ফের কারখানা চালু হওয়ায় চিন্তা অনেকটাই কেটে গিয়েছে। এর জন্য সরকারকে আমরা ধন্যবাদ জানাই।

Related Articles

Back to top button
Close