fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

দামোদরের ভাঙ্গনে তলিয়ে যাচ্ছে বিঘার পর বিঘা চাষ জমি, আতঙ্কে জামালপুরবাসী

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: বর্ষায় জল বাড়তেই দামোদরের বিস্তীর্ণ পাড় জুড়ে শুরু হয়েছে ভাঙ্গন। চাষ জমি তলিয়ে যাচ্ছে দামোদরের গর্ভে। এই ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর ব্লকের বেরুগ্রাম পঞ্চায়েতের কনকপুর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে। ভাঙন আটকানোর কাজ দ্রুত করা না হলে আরও অনেক চাষীর জমি দামোদরে তলিয়েযাবে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। ঘটনা জানার পরেই নড়ে চড়ে বসেছে ব্লক প্রশাসন ও সেচ দপ্তর।

দামোদরের ভাঙন ব্যাপক আকার নেবার খবর পেয়েই মঙ্গলবার ব্লক প্রসাসনের আধিকারিকরা কনকপুর গ্রামে পৌঁছান।তাঁরা সরোজমিনে ভাঙন পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। দামোদরের ভাঙনের বিষয়টি নিয়ে ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেচ দপ্তরকেও জানানো হয়।

বিডিও শুভঙ্কর মজুমদার বলেন, বর্ষায় দামোদরে জল বাড়তেই বেরুগ্রাম পঞ্চায়েতের কনপুরে নদী পাড়ে ব্যাপক ভাঙ্গন শুরু হয়েছে বলে গ্রামবাসীরা জানান। এই খবর পেয়েই মঙ্গলবার ব্লক প্রশাসনের আধিকারিক দল ভাঙ্গন পরিস্থিতি সবিস্তার খতিয়ে দেখতে কনকপুর গ্রামে যান। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, “দামোদর নদের বাম দিকের পাড় ঘেঁষে বেলে মাটির বড় চড় তৈরি হয়েছে। সেই কারণে জলের স্রোত নদীর ডান দিকের পাড়ে ধাক্কা মারছে। ফলে কনকপুর গ্রামের ৪০০ মিটারেরও বেশি এলাকা জুড়ে দামোদরের পাড়ে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে।

এলাকার চাষিরা জানিয়েছেন, বিগত ১০ দিনের ভাঙ্গনে অনেকেরই চাষ জমির একটা বড় অংশ দামোদরে তলিয়ে গিয়েছে। জল বাড়লে আরও বেশি এলাকা জুড়ে ভাঙ্গন হবার সম্ভাবনা রয়েছে ।” ভাঙ্গন পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সেচ দপ্তরের আধিকারিকরাও বুধবার কনকপুর গ্রামে যান। ভাঙ্গন আটকানোর ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ব্লক প্রসাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ভাঙ্গন সংক্রান্ত বিস্তারিত রিপোর্ট মহকুমা শাসক (পূর্ব বর্ধমান দক্ষিন ) কে পাঠানো হয়েছে। সেচ দপ্তরকেও সবিস্তার জানানো হয়েছে। সেচ দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে জল একটু কমলেই জরুরী ভিত্তিতে ভাঙ্গন রোখার কাজ শুরু করা হবে।

কনকপুর গ্রামের বাসিন্দা কিশোর ঘোষ ,
ধর্মদাস দাস প্রমুখরা বলেন ,দামোদরের বাম দিকের পাড় ঘেঁষে বড় চড় তৈরি হওয়াতেই বিপত্তি তৈরি হয়েছে। বিগত দুই বছর যাবৎ দামোদরে জল বাড়লেই স্রোত ডানদিকের পাড়ে ধাক্কা মারছে। ফলে পাড় ভাঙছে। এবছর ভাঙ্গন মারাত্মক ভাবে শুরু হয়েছে । গ্রামে প্রায় হাজার ঘর চাষী পরিবার বসবাস করেন । দামোদরের ভাঙ্গনে অনেকের চাষ জমি ইতিমধ্যেই নদী গর্ভে তলিয়ে গিয়েছে। ভাঙ্গন আটকাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে গ্রামের অনেক চাষি জমিহারা হবেন। এমনটা হলে চাষিরা পরিবারে সংকট দেখা দেবে।

মহকুমা শাসক সুদীপ দাস জানিয়েছেন , কনকপুর গ্রামে দামোদরের ভঙ্গন সংক্রান্ত সবিস্তার রিপোর্ট সেচ দপ্তরের একজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারকে পাঠানো হয়েছে। ওনাদের দপ্তরের লোকজনও ভাঙ্গন পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে গেছেন। সেচ দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, “যেহেতু এখন দামোদরে জল বেশি রয়েছে তাই ভাঙ্গন আটকানোর কাজ এক্ষুনি শুরু করা যাচ্ছে না । জল একটু কমলে জরুরী ভিত্তিতে ভাঙ্গন আটাকানোর কাজ শুরু করা হবে বলে সেচ দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে । ”

Related Articles

Back to top button
Close