fbpx
দেশহেডলাইন

‘নারীশক্তির আত্মবিশ্বাসই বিহারে জিতিয়েছে লোকতন্ত্রকে’: টুইট মোদির

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্কগত দুই দশকে সম্ভবত ভোট গণনা নিয়ে এত রোমহর্ষক উত্তেজনা কখনও হয়নি। মাঝরাত পেরিয়ে গিয়ে প্রকাশিত হয়েছে ফল। ২৪৩ আসনের বিহার বিধানসভায় বিজেপি জিতে নিয়েছে ১২৫টি আসন। আরজেডি-র নেতৃত্বে মহাজোট জিতেছে ১১০ টি আসনে। রীতিমতো হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের শেষে বিহার নির্বাচনে জয় এসেছে এনডিএ-র। মঙ্গলবার গভীর রাতে ফলপ্রকাশের শেষ পর্যায়ে নরেন্দ্র মোদী টুইট করলেন, ‘জনতা-জনার্দনের আশীর্বাদেই বিহারে আরও একবার লোকতন্ত্রের জয় হল।’ মোদীর মতে, সাধারণ মানুষ কী চাইছেন, তা এই ভোটের ফলে কার্যত পরিষ্কার। বিহারের গণনা শেষ পর্যায়ে আসার পর এমনটাই বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মোদী এদিন টুইটে প্রশংসা করেন কর্মী-সমর্থকদের। লেখেন, ‘আমি কার্যকর্তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি এবং বিহারের মানুষের প্রতি অন্তর থেকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’

তবে এই একটিই নয়, আরও দুটি টুইট করেন মোদী। তিনি লেখেন, ‘বিহারের প্রতিটি সাধারণ গরিব মানুষ, কৃষক-শ্রমিক, ব্যবসায়ী-দোকানদার- সমস্ত স্তর থেকে মানুষ এনডিএ-র ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস’ এই মূলমন্ত্রের উপর ভরসা করেছেন। আমি বিহারের প্রতিটি মানুষকে আরও একবার আশ্বস্ত করছি, যে প্রতি ক্ষেত্রে প্রতিটি মানুষের বিকাশের জন্য নিজেদের পুরোপুরি নিয়োজিত করে কাজ করব আমরা।’

পাশাপাশিই মোদীর আরও বক্তব্য, ‘বিহারের বোনেরা ও মেয়েরা এই বার ভোট দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন যে আত্মনির্ভর বিহার গড়ে তোলায় ওঁদের ভূমিকা কতটা বড়। বিহারের মাতৃশক্তিকে নতুন আত্মবিশ্বাস জোগাতে পেরেছে এনডিএ, এতে আমি খুবই সন্তুষ্ট। এই আত্মবিশ্বাস বিহারকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার শক্তি দেবে আমাদের।’

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিহারে বিজেপি-জেডিইউ জোটের জয় ঘোষণার কয়েক মুহূর্ত আগেই হিন্দিতে এই টুইট করেন নমো। তিনি টুইটে বলেন, ”বিহার বিশ্বকে গণতন্ত্রের প্রথম পাঠ দিয়েছে। আজ বিহার সারা বিশ্বকে আরও একবার দেখিয়ে দিয়েছে কী ভাবে গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করা যায়। বিহারের রেকর্ড সংখ্যক দরিদ্র, বঞ্চিত মানুষ এবং মহিলারা ভোট দিয়েছেন। উন্নয়নের পক্ষে তাঁরা সিদ্ধান্তমূলক মত প্রকাশ করেছে।” তিনি আরও বলেন, ”দরিদ্র গ্রামবাসী, কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, দোকানদার থেকে শুরু করে বিহারের বিভিন্ন স্তরের মানুষ এনডিএ-র সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস মন্ত্রে আস্থা রেখেছে। বিহারের প্রতিটি অঞ্চলে, প্রত্যেক ব্যক্তির সামঞ্জস্যপূর্ণ বিকাশের লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাব। আমি বিহারের জনগণকে আস্বস্ত করছি।”

মঙ্গলবার গণনা শুরুর প্রথমার্ধে হুহু করে এগিয়ে যাচ্ছিল মহাজোট। কিন্তু বেলা বাড়তেই খেলা ঘুরে যায়। আরজেডি,কংগ্রেস, বামদলগুলির মহাজোটকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যায় বিজেপি-নীতীশ কুমারের জোট। বিকেলের পর থেকে আবার রুদ্ধশ্বাস লড়াই। গায়ে গায়ে এসে পড়ে আসন সংখ্যা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তামাম বুথ ফেরত সমীক্ষাকে দশ গোল দিয়ে বিহারে ফের সরকার গঠন করে বিজেপি-নীতীশ কুমার।

বিহারে গত পনেরো বছর ধরে টানা ক্ষমতাসীন জোটে রয়েছে বিজেপি। কিন্তু ঘোর বাস্তব হল, প্যান বিহার গ্রহণযোগ্য নেতা বিজেপির নেই। বাংলায় যেমন, অরূপ বিশ্বাস, ববি হাকিমরা বড় মন্ত্রী হলেও রাজ্যের সর্বত্র তাঁদের ব্যক্তিগত আবেদন কাজ করে না। বিহারে রবিশঙ্কর প্রসাদ, রাজীব প্রতাপ রুডি, শাহনওয়াজ হোসেনের মতো নেতারাও সব এলাকার নেতা। কিন্তু সমগ্র বিহারে নরেন্দ্র মোদীর এখনও ভাল গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। বিহারে ভোটের সময়ে মোদীর সভায় ভিড় দেখে যেমন তা বোঝা গিয়েছে, তেমনই এ কথা বিহারের বিজেপি নেতারা ঘরোয়া ভাবে বলছিলেন। ভোটের ফল প্রকাশের পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এক বাক্যে স্বীকার করছেন, বিহারে নীতীশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা ভরপুর ছিল। বলা যেতে পারে মোদিই তাঁকে টেনে তুলেছেন।

 

 

 

Related Articles

Back to top button
Close