fbpx
দেশহেডলাইন

এও কি সম্ভব! ১৩ মাসে আট সন্তানের জন্ম দিলেন ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা!

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: ১৩ মাসে আট সন্তানের জন্ম দিলেন ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা! এমনই আশ্চর্যজনক ঘটনা ঘটল বিহারে। অতীতে এমন ঘটনা আরও ঘটেছে। আকছার না-হলেও কালেভদ্রে দেশ-বিদেশে এমন খবর শোনা গিয়েছে। কিন্তু, খটকা যেখানে, প্রসূতির বয়স বর্তমানে ৬৫। এবং তিনি একসঙ্গে ওই আট শিশুর জন্ম দেননি। ১৩ মাসের মধ্যে কিছুদিনের ব্যবধানে একে একে আট সন্তান প্রসব করেছেন।

আর প্রতিবারই সন্তান জন্ম দেওয়ার পর মিলেছে সরকারি সাহায্য। এই ঘটনার তদন্ত নামতেই কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বেরিয়ে এল। আট সন্তান তো দূরাস্ত, এক গত ২০ বছরে এক সন্তানেরও জন্ম দেয়নি ওই মহিলা। প্রসূতি ও সদ্যোজাতের দেখভালের জন্য মিলছে সরকারি সাহায্য। আর সেই অর্থ আত্মসাতের জন্যই এই ষড়যন্ত্রের ফাঁদ পাতা হয়েছিল। বিষয়টি সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। বিহারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মঙ্গল পান্ডে জানান, NRHM কেলেঙ্কারিতে চার সদস্যের একটি কমিটি তৈরি করা হয়েছে। ওই কমিটি তদন্ত করবে। দোষীদের রেয়াত করা হবে না।

উত্তরপ্রদেশের মুজফফরপুরের মুসাহারি ব্লকের বাসিন্দা লীলা দেবী। ২১ বছরের এক সন্তান রয়েছে তাঁর। অর্থঅথ ২১ বছর আগে চতুর্থ সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন তিনি। অথচ তাঁর নামেই এল ন্যাশনাল স্কিমের টাকা। সন্তান জন্মালে এক্ষেত্রে মা’কে ১৪০০ টাকা ও আশাকর্মীকে সাহায্যের জন্য ৬০০ টাকা দেওয়া হয়। কিন্তু টাকা পেয়েছেন দেখেই অবাক লীলা দেবী। সন্তান তো জন্মেছে ২১ বছর আগে। তাহলে এখন কীসের টাকা? সংবাদমাধ্যমের হাতে লীলা দেবীর নামে যে রেকর্ড উঠে এসেছে তাতে, গত ১৩ মাসে ৮ বার সন্তানের জন্ম দিয়েছেন তিনি। ফলে, NRHM তহবিলের টাকা যে আত্মসাত্‍‌ করা হয়েছে, তা সামনে চলে আসে। কিন্তু, শান্তি দেবী নিজে সেই টাকার এক আনাও পাননি। তিনি আট সন্তানের জন্ম দিয়েছেন বলে উল্লেখ করে কেউ বা কারা টাকা তুলেছেন, এর বিন্দুবিসর্গ তিনি অনেক দিন পর্যন্ত জানতে পারেননি।

তদন্তে জানা যায়, বিগত ২০ বছরের মধ্যে মুজফ্‌ফরপুরের ওই বৃদ্ধা কোনও সন্তানের জন্ম দেননি। শান্তি দেবীর ছোট ছেলের বয়স এখন ২০। মুজফ্‌ফরপুরের মুশারি ব্লকের ওই বৃদ্ধা জানেনও না ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২০ সালের অগস্টের মধ্যে তাঁকে ১,৪০০ টাকা করে আট বার দেওয়া হয়েছে। প্রতিবার তাঁর অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়ার পরদিনই কেউ একজন সেই টাকা তুলে নিয়েছেন। বিষয়টি নজরে আসার পরেই শান্তি দেবীর পরিবার তা ব্যাংকে জানায়।

আরও পড়ুন: করোনার ওষুধ তৈরির দাবি, চিকিৎসকের কাছে ১০ হাজার টাকা জরিমানা শীর্ষ আদালতের

কিন্তু, শান্তি দেবীতেই শেষ নয়। বিহারে আরও অনেক জনের সঙ্গেই একই ঘটনা ঘটেছে। তেমনই আর একজন লীলা দেবী। বাড়ি ওই একই ব্লকের ছোটি কোঠিয়া গ্রামে। লীলা দেবীকেও দেখানো হয়, ১৩ মাসে তিনিও আট সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। তার মধ্যে সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী, একদিনে দু’বার সন্তান প্রসবও তিনি করেছেন। হকিকত হল, বিগত একদশকের মধ্যে তাঁর কোনও সন্তান হয়নি। অনেক আগেই তিনি পরিবার পরিকল্পনায় অস্ত্রোপচার করিয়ে নিয়েছেন। লীলা দেবীর ক্ষেত্রেও টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা পড়ার পরদিনই গায়েব হয়ে গিয়েছে।

পাবলিক হেলথ সেন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডাক্তার উপেন্দ্র চৌধুরিকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে, তিনি এ বিষয়ে কিছু বলতে পারেননি। জানান, দায়িত্বপ্রাপ্ত করণিক ছুটিতে আছেন। তাই তাঁর পক্ষে কিছু বলা সম্ভব নয়। তবে, সিভিস সার্জন ডাক্তার এসপি সিং প্রতিশ্রুতি দেন, প্রকল্পের টাকা যাঁরা আত্মসাত্‍‌ করেছেন, সেই কালপ্রিটদের খুঁজে বের করে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। এ জন্য তাঁরা তদন্ত করবেন বলেও আশ্বস্ত করেছেন।

 

Related Articles

Back to top button
Close