fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

পাহাড় ইস্যুতে বিনয়কে ডাক মমতার

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক:  পাহাড়ের একদা প্রতাপশালী নেতা বিমল গুরুংয়ের আচমকা প্রত্যাবর্তন পুজোর মরশুমে তোলপাড় ফেলেছিল বঙ্গ রাজনীতিতে। আগামী ৩ নভেম্বর জিটিএ-র বর্তমান প্রেসিডেন্ট বিনয় তামাং এর তাঁর সহকারী অনীত থাপা আসছেন কলকাতায়। শনিবার কার্শিয়াংয়ে গুরুং বিরোধী মিছিল থেকে এ কথা জানালেন অনীত থাপা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমর্থন করবেন, এই ঘোষণা করে তিনি রাজনীতির পরবর্তী ইনিংস শুরু করার ভূমিকা করে রাখলেন। আর ঠিক তার পর থেকেই বিনয় তামাং অনীত থাপা গোষ্ঠী বিমল গুরুংয়ের বিরোধিতা করে নানা রকম বার্তা দিচ্ছে। পাহাড়ে বের করছে শান্তি মিছিল। আজ, শনিবারই এরকম একটি মিছিল ছিল।

বোঝাই যাচ্ছে, বিনয় তামাং-অনীত থাপা গোষ্ঠী বিমলকে নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছে। কেননা, মমতাকে সমর্থনের বার্তা দিয়ে নতুন করে পাহাড়ের রাজনীতিতে পা রাখতে চলা বিমলকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঠিক কতটা গুরুত্ব দেন এবং তার জেরে বিনয়ের সংসারেই-বা কী কী পরিবর্তন ঘটতে পারে, এ নিয়ে দ্বিধায় তারা। যদিও বিমল-উত্তর নতুন পরিস্থিতিতে মমতা পরিষ্কার করে দিয়েছেন, পাহাড়ের প্রশাসনিক প্রধান বিনয়ই।

২০১৭ সালের জুন মাসে দার্জিলিংয়ে রাজ্য সরকারের বিরোধিতায় তীব্র অশান্তি তৈরির পর ফেরার হয়ে গিয়েছিলেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার তৎকালীন প্রধান বিমল গুরুং। তাঁর বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার অভিযোগে UAPA ধারায় মামলা দায়ের হয়। দীর্ঘ সময়ে অজ্ঞাতবাসে থাকার পর পঞ্চমীর বিকেলে আচমকাই কলকাতায় উদয় হন তিনি। সল্টলেকের গোর্খা ভবনে গিয়ে ঢুকতে না পেরে এক পাঁচতারা হোটেলে সাংবাদিক বৈঠক করেন। সেখানে গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে অনড় থেকেও বিজেপির সঙ্গে জোট ছিন্ন করে শাসকদলের হাত ধরার ইচ্ছাপ্রকাশ করেন গুরুং। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফের মুখ্যমন্ত্রী দেখতে চেয় একুশের লড়াইয়ে তৃণমূলের হয়ে জান লড়িয়ে দেওয়ার কথাও বলেন। রাতারাতি তৃণমূলও তাঁকে স্বাগত জানিয়ে টুইট করে বসে। মুখ কালো হয়ে যায় বর্তমানে জিটিএ’র দায়িত্বে থাকা বিনয় তামাংদের। তাঁরা গুরুংয়ের প্রত্যাবর্তন নিয়ে মুখে কার্যত কুলুপ এঁটেছিলেন।

আগামী ৩-৪ মাসের মধ্যেই রাজ্য বিধানসভার নির্বাচন। গুরুং ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন মোর্চা সেই নির্বাচনে তৃণমূলকে সমর্থন করবে ও তৃণমূলের সঙ্গে জোট গড়েই লড়াই করবে। কিন্তু গুরুংয়ের পাহাড়ে প্রত্যাবর্তনের পথে কাঁটা হয়ে উঠছিলেন বিনয় তামাং ও অনিত থাপারা। কারন গুরুং পাহাড়ে ফিরলে তাঁদের ক্ষমতা হারাবার ভয় দেখা দিয়েছিল। সে জায়গা থেকেই তাঁরা শুরু গুরুংকে প্রত্যাবর্তনের ভয় পাচ্ছিলেন তাই নয়, রাজ্য সরকারের সঙ্গেও দূরত্ব তৈরি করছিলেন। এমনকি বিজেপিও এগিয়ে এসেছিল তাঁদের সমর্থন জোগাতে। ঘটনাচক্রে এদিনই পাহাড়মুখী হয়েছেন রাজ্যপাল। সেখানে তিনি প্রায় ১ মাস থাকবেন। এদিনই জানা গিয়েছে রাজ্যপাল বিনয় তামাং আর অনিত থাপার সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন। কিন্তু তার আগেই মাস্টারস্ট্রোক দিয়ে বসলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী যা সামলাতে এখন বিজেপির নাজেহাল দশা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী একদমই চান না পাহাড়ে আবার অশান্তির আগুন জ্বলে উঠুক। তিনি চান পাহাড়ে থাকুক শান্তি আর উন্নয়ন। বিজেপি এখন এই শান্তি আর উন্নয়নের বিরোধীতা করে রাজনৈতিক ভাবে জলঘোলা করতে উঠেপড়ে লেগেছে। রাজ্যপালের পাহাড় সফর কার্যত তারই অঙ্গ।

আরও  পড়ুন: নবান্ন অভিযানে মার খাওয়া কর্মীদের সম্বর্ধনা দেবে যুবমোর্চা

কিন্তু যতটা সহজে পাহাড়ের জমি ফিরে পাওয়া যাবে বলে আশা ছিল গুরুংয়ের, বাস্তব তেমনটা নয়। পুজোর মাঝেই দার্জিলিংয়ের বিভিন্ন জায়গায় গুরুং বিরোধী মিছিল শুরু হয়, ‘গো ব্ল্যাক’ স্লোগান ওঠে। গত সপ্তাহের পর শনিবারও কার্শিয়াংয়ে বিনয় তামাংয়ের নেতৃত্বে শান্তি মিছিলে যোগ দেন হাজার হাজার মোর্চা সমর্থক। পাহাড়ে অশান্তি তৈরি করা কাউকে আর চান না, এমনও মতামত শোনা যায় সমর্থকদের মুখে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে এখন সব চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে পাহাড়ে শান্তি বজায় রাখা এবং সেখানে উন্নয়ন চালু রাখা। সামনেই ভোট। সেখানে বিমলের নিজস্ব সমর্থকের সংখ্যাটা কম নয়। যা ভোট-অঙ্কে সুবিধায় রাখবে তৃণমূলকে। আর এই সব দিক ভাল ভাবে সামলাতে গেলে হাসতেই হবে পাহাড়কে। কিন্তু বিমল-বিনয় সমঝোতার অভাবে সেই হাসি ফুটবে না বরফমোড়া দিগন্তে। তাই তিনি বিবদমান এই দুই গোষ্ঠীকে মিলিয়ে দেওয়ার চেষ্টাই করছেন। সেই চেষ্টারই প্রথম ধাপ হিসেবে সম্ভবত মমতা বিনয় তামাংকে ডেকে পাঠালেন নবান্নে। জানা গিয়েছে, অনীত থাপাকে ফোন করেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী ৩ নভেম্বর, মঙ্গলবার নবান্নে এই সাক্ষাত্‍ হওয়ার কথা।

Related Articles

Back to top button
Close