fbpx
গুরুত্বপূর্ণদেশপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

চিন-ভারত সংঘর্ষে শহিদ বীরভূমের জওয়ান

দেশের জন্য প্রাণ দেওয়ায় গর্বিত রাজেশের বাবা মা, ভারত সরকারের কাছে দাবি বদলার

সৌরভ বড়াল ও প্রদীপ্ত দত্ত: বাড়িতে বলে গিয়েছিল লকডাউন উঠে গেলেই বাড়ি আসবে রাজেশ। কিন্তু এবার আর পায়ে হেঁটে আসা হল না। দেশের জন্য সীমান্তে প্রাণ দিয়ে কফিন বন্দি হয়ে বাড়ি ফিরতে চলেছেন বীরভূমের মহম্মদ বাজারের শহিদ জওয়ান রাজেশ ওরাং।

 

 

 

মঙ্গলবার লাদাখ ভারত চিন সীমান্তের আর্মি অফিস থেকে একটি ফোন আচমকা এসে পৌঁছায় শহিদের বাড়িতে। “রাজেশ ওরাং শহীদ হয়েছেন”। আর এই একটি ফোন যেন বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠছিল না শহীদের পরিবারের। তাই বিষয়টি নিশ্চিত হতে আরো কয়েকবার আর্মি অফিসে ফোন করলেও খবর আর বদল হল না। আর সেই দুঃসংবাদ শুনে কার্যত কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন শহীদের পরিবার। কান্নায় ভেঙ্গে পড়ল গোটা গ্রাম। সময় যত এগিয়ে যেতে থাকে শহিদের পরিবার ধিরে ধিরে মন শক্ত করে অবশেষে সংবাদ মাধ্যমের সামনে প্রতিবেশি চীনের বিরুদ্ধে গর্জে উঠে দাবী জানালেন শহীদের পরিবার “বদলা চাই। চিনকে এর যোগ্য জবাব দেওয়ার সময় এসেছে।”

 

 

 

এই ঘটনার কিছুক্ষনের মধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভাষণ যখন টিভি দেখেন এবং জানতে পারেন শহিদের পরিবার যে ভারত সরকার-এর যোগ্য জবাব দেবে। সেই কথা শুনে খুশির আনন্দে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন শহিদের মা। শহিদ রাজেশের ভাই অভিজিৎ ওরাং জানিয়েছেন, “কাল যখন শুনলাম আর্মি অফিস থেকে ফোন এসেছিল। ওরা বলেছিল তোমার দাদা শহিদ হয়ে গেছে। খবরটা শুনে দারুন খারাপ লেগেছিল। দাদার বয়স মাত্র ২৫ বছর। ওর বিয়ের ব্যবস্থা হচ্ছিল। মা বোন বাবা সবাই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছে। পরে একটা বিষয় খুব গর্ব বোধ হচ্ছে দাদা দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছে এটা ভেবে। ও দেশের শত্রু পক্ষ থেকে শেষ অবধি জবাব দিয়েছে ওদের ভাষায়। এখন আমরা চাই ভারত সরকার এর যোগ্য জবাব দিক। আমার দাদার মতো শহীদদের প্রাণ বলিদান যেন বিফলে না যায়।”

 

 

বুধবার শহীদের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় শহীদের পরিবারকে পাঁচ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরন এবং শহিদের পরিবারের এক সদস্যকে সরকারি চাকরি দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন।
উল্লেখ্য গত বেশ কয়েকদিন ধরে ভারত চীন সীমান্ত লাদাখে চীনা সেনাবাহিনীর কিছু অসন্তোষ জনক ভূমিকা দেখা যায়। যেখানে সরকারি ভাবে জানা গেছে চীনারা ভারত অধীনস্থ লাদাখ ভূখন্ড দখল করতে তৎপর হয়েছিল। সেই মোতাবেক গত কয়েকদিন ধরেই চীনাদের তরফে ভারতকে নানা ভাবে প্ররোচনা দেওয়া হচ্ছিল। এরপর মঙ্গলবার চীনা সেনাবাহিনীর সাথে ভারতীয় সেনা বাহিনীর লড়াইয়ে শহীদ হয়েছেন ২০ জন ভারতীয় জাওয়ান। যার মধ্যে একজন ছিলেন বীরভূমের মহম্মদ বাজারের বাসিন্দা রাজেশ ওরাং।

 

 

অন্যদিকে রাজেশের মৃত্যুর ঘটনায় শোকাহত তাঁর বন্ধুরাও। তারাও রীতি মতো কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছেন। রাজেশের কথায় বন্ধুরা সবাই চীনা অ্যাপ টিকটক ডিলিট করেছিল। রাজেশ নিজে ডিলিট করিয়েছিল বন্ধুদের। রাজেশের এক বন্ধু কৃষ্ণ রজক জানিয়েছেন, “আমরা ছোট থেকে একসাথে মাঠে প্রাক্টিস করেছিল। ও আমাদের উৎসাহ দিত যে আমরাও যাতে আরো জোর কদমে চেষ্ঠা করে আর্মিতে যেতে পাড়ি। ওর ছোট থেকেই ইচ্ছা ছিল আর্মিতে চাকরি করার। আমরা খুব গর্বিত ও দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছে।”

Related Articles

Back to top button
Close