fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

দুঃস্থ মেধাবীদের পাশে বিশ্বপ্রেমিক সংঘ

ভাস্করব্রত পতি, তমলুক: স্বামী প্রশান্তানন্দ মহারাজজীর ইচ্ছে ছিল একটি আশ্রমিক আবাসিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার। বিভিন্ন অসুবিধার জন্য এই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি ঠিকই, কিন্তু তিনি দুঃস্থ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার জন্য একটি “এডুকেশন প্রমোশন স্কিম” চালু করেছিলেন। এই স্কিমের উদ্দেশ্য ছিল, দুঃস্থ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান, পাঠ্যপুস্তক প্রদান। এই কাজটি তাঁরই উপস্থিতিতে এবং তাঁরই তত্ত্বাবধানে প্রতি বৎসর সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হত।

এই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই মহারাজজীর পূণ্য স্মৃতির উদ্দেশ্যে এই গ্রামের দুটি বিদ্যালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় কৃতি ছাত্র-ছাত্রীদের পুরস্কার বিতরণ এবং সম্বর্ধনা জানানোর এই অনুষ্ঠান ২০১৩ সাল থেকে শুরু হয়েছে। সঙ্ঘের দুই সদস্য এবং স্কুল শিক্ষক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী এবং হেরম্বনাথ চক্রবর্তী, হাড়মাসড়া গ্রামের দুই ঐতিহ্য প্রাচীন বিদ্যালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের চার কৃতি ছাত্র ছাত্রীকে পুরস্কৃত করলেন।

বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে স্বামী প্রশান্তানন্দ মহারাজের জীবনাদর্শ তুলে ধরেন। সমগ্র অনুষ্ঠানটি কোভিড প্রোটোকল মেনে অনুষ্ঠিত হয়। স্বামী প্রশান্তানন্দ মহারাজ হলেন শিক্ষাগুরু। ৪৫ বছরেরও কিছু বেশি সময় মহারাজজীর একনিষ্ঠ সান্নিধ্য অনেকেই লাভ করেছেন। মহারাজজীর জীবনাদর্শ সকলকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। এই এলাকার সঙ্গে, বিশেষ করে এই গ্রামের সঙ্গে মহারাজজীর ছিল এক আত্মিক সম্পর্ক। শিক্ষার মানোন্নয়নে তিনি ছিলেন সদা ব্রতী। এই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে এবং গুরুদেবের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে সঙ্ঘের সদস্য তথা স্কুল শিক্ষকদ্বয়ের শিক্ষার মান উন্নয়নে, এলাকার কৃতী ছাত্র-ছাত্রীদের পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
হাড়মাসড়া সার্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির সাংস্কৃতিক মঞ্চে শারদীয়া সংখ্যা প্রকাশনার পরই এই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাঁকুড়া খ্রিস্টান কলেজের পদার্থবিদ্যা বিভাগের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান ও বাঁকুড়া বিশ্ব প্রেমিক সঙ্ঘের একনিষ্ঠ কর্ণধার সুদর্শন চক্রবর্তী, হাড়মাসড়া উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন সহ প্রধান শিক্ষক রঞ্জিত চক্রবর্তী, শিক্ষক উদ্ধব সিংহ মহাপাত্র। এছাড়াও ছিলেন এই অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা তথা স্কুল শিক্ষক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী এবং হেরম্বনাথ চক্রবর্তী, উৎসব কমিটির পক্ষে শিক্ষক দেবীদাস পাত্র এবং আরও অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

আরও পড়ুন:মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সততা, স্বচ্ছতাকে ভাঙিয়ে যারা আখেড় গোছাবেন, তৃণমূলে তাদের স্থান নেই: মহুয়া মৈত্র

পুরস্কার স্বরূপ প্রত্যেককে সুদৃশ্য ট্রফি, ইংরেজি বাংলা অভিধান, স্বামী বিবেকানন্দের ভাবাদর্শের কিছু পুস্তক, মেডেল এবং করোনা সতর্কতার জন্য N95 মাক্স ও স্যানিটাইজার তুলে দেওয়া হয়।

Related Articles

Back to top button
Close