fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণদেশহেডলাইন

পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকীর ‘আশীর্বাদ’ চাইছে বিজেপি! দিল্লি ডেকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ফোন

মোকতার হোসেন মন্ডল: বাংলায় মুসলিম ভোট পেতে ফুরফুরা শরীফের জনপ্রিয় পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকীর ‘আশীর্বাদ’ চাইছে বিজেপি! আর তাই দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কল এল পীরজাদার ফোনে। সূত্রের খবর, পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকীর সঙ্গে বৈঠক করতে চাইছেন বিজেপি নেতারা। কেননা, পশ্চিমবঙ্গের বিরাট সংখ্যক সংখ্যালঘু মুসলিম ভোট ছাড়া শুধু হিন্দুত্বের তাস খেলে জেতা সম্ভব নয়।

পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকী জানান, বিজেপির কেন্দ্র ও রাজ্য নেতারা ফোন করেছিল। কিন্তু আমি সাফ জানিয়ে দিয়েছি, সাম্প্রদায়িক দলের সঙ্গে বৈঠকে নেই। কিন্তু বৈঠক কোথায় হওয়ার কথা ছিল? জানা গেছে, ত্বহা সিদ্দিকীকে দিল্লিতে ডেকেছিলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। কিন্তু তিনি রাজি হননি। ফুরফুরা শরীফে বিভিন্ন জাতির মানুষের জন্য দরজা খোলা থাকে। প্রায় সব রাজনৈতিক দলের নেতারা এখানে এসে ‘আশীর্বাদ’ নিয়ে যান। ত্বহা সিদ্দিকীর মতে, ফুরফুরায় সবার জন্য দরজা খোলা। কেউ আসতে চাইলে তাকে নিষেধ করতে পারিনা। কিন্তু সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে বসতে পারি না।

আরও পড়ুন: সাংবাদিকদের প্রশ্নের মধ্যেই রাহুল সিনহা প্রসঙ্গে বিরোধীদের জল্পনা ওড়ালেন মুকুল রায়

আমি যে কোনও সাম্প্রদায়িক মনোভাবাপন্ন গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পথে নামি। শুধু বিজেপি নয়, তৃণমূল কংগ্রেস,সিপিএম, কংগ্রেসের অনেকে সাম্প্রদায়িক। তৃণমূলের অনেকে দিনে তৃণমূল করে রাতে বিজেপি করে। আমি সব রকম সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে। সম্প্রীতির বাংলায় সাম্প্রদায়িকতার কোনও জায়গা নেই। তাঁর আরও মন্তব্য, ‘আমি বিজেপিকে ছেড়েই তৃণমূল, সিপিএম, কংগ্রেসকে বলছি, আপনারা তো ভোটের সময় সংখ্যালঘু দরদী কথা মুখে খুব আউড়ান, ২০২১ নির্বাচনে প্রতিটি দল সংখ্যা অনুপাতে ৭০ থেকে ৮০টি মুসলিম প্রার্থী দিয়ে প্রকৃত সংখ্যালঘু দরদির প্রমাণ দিন,তাহলেই বুঝতে পারবে আসলে আপনারা কী চান।

কিন্তু ২০১১ সালের নির্বাচনে আপনি তো তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ নিয়েছিলেন। একুশের নির্বাচনেও কি তেমন নেবেন? ত্বহা সিদ্দিকীর জবাব, আমি ২০১১ সালে কোনও দলকে সমর্থন করতে বলেছি প্রমাণ নেই। অত্যাচারের বিরুদ্ধে ভোট দিতে বলেছি। একুশেও বলবো, শান্তি,সম্প্রীতির জন্য ভোট দাও। আমরা আফরাজুল, আখলাকের ঘটনা বাংলায় দেখতে চাইনা। আগামী একুশের নির্বাচনে কে জিতবে আল্লাহ ভালো জানেন,কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস জেতার সম্ভাবনা বেশি।

তবে ত্বহা সিদ্দিকী যাই বলুন, বিজেপি মুসলিম ভোটের একটা অংশ পেতে চাইছে। কেননা,এ রাজ্যে ১৩০ টি আসনে মুসলিমরা নিয়ন্ত্রক। এমন প্রায় ৮০ টি কেন্দ্র আছে যেখানে সরাসরি মুসলিম ভোট প্রভাব মূল ফ্যাক্টর। বাকি আসনেও সংখ্যালঘু বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তাই বাংলায় যেই দলেই ক্ষমতায় আসুক,মুসলিম ভোট তাদের পেতে হবে। এক্ষেত্রে বিজেপি একাধিক কৌশল নিচ্ছে বলে জানা গেছে। প্রথমত মুসলিম ভোট পাওয়ার চেষ্টা, দ্বিতীয়ত তৃণমূলের মুসলিম ভোটে ভাঙন ধরানো।
বিজেপির এক রাজ্য নেতা জানান, ২০২১ সালের নির্বাচনে জেতার জন্য সব রকম কৌশল নেওয়া হচ্ছে। মুসলিম প্রার্থীও বেশি হবে। আমরা সবাইকে নিয়ে চলি।

Related Articles

Back to top button
Close