fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

বিধায়কের রহস্যমৃত্যুর ঘটনার প্রকৃত তদন্তের দাবীতে বিজেপির ডাকা বনধে ভালো সাড়া জেলাতে

মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবী বিজেপি সাংসদের

শান্তনু চট্টোপাধ্যায়, রায়গঞ্জ: দলীয় বিধায়কের রহস্যজনক মৃত্যুর প্রতিবাদে ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবীতে বিজেপির ডাকা উত্তরবঙ্গ বনধে ভালো সাড়া পড়লো উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ ও ইসলামপুর মহকুমার বিভিন্ন জায়গায়।

অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ব্যাপক পুলিশি প্রহরার আয়োজন ছিলো রায়গঞ্জ জেলা পুলিশের৷ রায়গঞ্জ শহর জুড়ে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিলো এদিন। দোকানপাট, বাজার ছিল বন্ধ। রাস্তায় সরকারি বাস চলাচল করলেও দেখা মেলেনি বেসরকারি বাসের। অন্যদিকে বিধায়কের মৃত্যুর বহু প্রয়োজনীয় নথি লোপাট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবী করলেন বিজেপি সাংসদ নিশীথ প্রামানিক। মঙ্গলবার মৃত বিধায়কের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির একঝাঁক নেতা -সাংসদ।

মঙ্গলবার সকাল থেকেই বিজেপির কর্মী সমর্থকেরা রাস্তায় নেমে পিকেটিং শুরু করে। উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থার রায়গঞ্জ ডিপোর সামনে সরকারি বাস চলাচলে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে তারা। বনধের বিরোধিতায় পাল্টা বিক্ষোভে সামিল হয় তৃণমূল কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠনের সদস্যরাও। পরিস্থিতি উত্তেজক হয়ে উঠলে ডি এসপি প্রসাদ প্রধানের নেতৃত্বে ছুটে আসে বিশাল পুলিশ বাহিনী। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে বাস চলাচলে বাঁধা ও পিকেটিং এর সময় একাধিক বিজেপিকে কর্মী সমর্থককে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

অন্যদিকে হেমতাবাদের কাকরসিং এলাকায় পিকেটিং করার সময় বিজেপি সমর্থকদের উপর লাঠিচার্জের অভিযোগ ওঠে সিভিক ভলাণ্টিয়ারের বিরুদ্ধে। বিজেপির অভিযোগ, লাঠির আঘাতে তাদের এক কর্মীর পা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত লেগেছে। তাকে রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে রায়গঞ্জ -বালুরঘাট রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি কর্মীরা। পরে হেমতাবাদ থানার ওসি দিলীপ পালের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবরোধকারীদের সরিয়ে দেয়। যদিও লাঠিচার্জের অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ। অন্যদিকে কালিযাগঞ্জে ও রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি কর্মী,সমর্থকেরা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরোধকারী দের সরিয়ে দেয়। এসময় পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়ে বিজেপি সমর্থকেরা। বনধের প্রভাবে কালিয়াগঞ্জে ও দোকানপাট ছিল বন্ধ।

অন্যদিকে দলীয় বিধায়কের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যোগ দিতে মঙ্গলবার রায়গঞ্জে আসেন কোচবিহারের বিজেপি সাংসদ নিশীথ  প্রামাণিক , জলপাইগুড়ি র সাংসদ জয়ন্ত রায়, উত্তর মালদার সাংসদ খগেন মূর্মু, রায়গঞ্জের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী, বিজেপির রাজ্য নেতা বিশ্বপ্রিয় রায়চৌধুরী সহ অন্যান্য নেতৃত্ব। নিশিথবাবু বলেন,” রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা বলে কিছু নেই। দলদাসে পরিনত হয়েছে পুলিশ। অবিলম্বে মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত। দেবেনবাবুর মৃত্যু সম্পর্কিত বহু তথ্য লোপাট করা হচ্ছে বলে জানতে পারছি। সি আই ডি তদন্তে আস্থা নেই আমাদের। রহস্যময় মৃত্যুর প্রকৃত কারন জানতে সিবিআই তদন্তের দাবি জানাচ্ছি আমরা।

Related Articles

Back to top button
Close