fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

বিধায়কের ওসি সরানোর মন্তব্যে উত্তাল দাসপুর, পাল্টা চাপ বিজেপির, অস্বস্তিতে তৃণমূল

তারক হরি, পশ্চিম মেদিনীপুর: পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুর ব্লকের চাঁইপাটে গত রবিবার তৃণমূলের বিজয় সম্মিলনী অনুষ্ঠানের সভামঞ্চে বিধায়কের ওসি সরানোর প্রকাশ্য মন্তব্যে ঘিরে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বিধায়কা মমতা ভূঁইয়ার এই বক্তব্যকে লুফে নিয়ে ঘাটাল বিজেপি সাংগঠনিক নেতারা বেশ সুর চড়িয়ে তৃণমূলকে বিঁধতে কসুর করেনি। বলেন যে, এটাই প্রমাণ করে তৃণমূল বিজেপি কে ভয় পেয়েছেন, এমনই মন্তব্য বিজেপির ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা কমিটির যুব মোর্চার সভাপতি রাজু আড়ি’র।

তিনি বলেন, এটা তৃণমূলের কালচার! সারা রাজ্য জুড়ে চলছে এটা নতুন কিছু বিষয় নয়। যে সমস্ত আমলা, আইএস,বা  পুলিশ অফিসার তারা অ্যাডমিনিস্ট্রেশন নিষ্ঠার সঙ্গে বা নিরপেক্ষভাবে চালানোর চেষ্টা করে, তখনই তৃণমূলের রোষানলে পড়তে হয় সেই সব পুলিশ আধিকারিকদের। দাসপুরের তৃণমূল বিধায়িকা যেটা বলেছেন সেটা সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক! হয়তো কোথাও কাটমানি পেতে অসুবিধা হচ্ছে, তাই তিনি এমন মন্তব্য করেছেন। ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষে আজ সকল স্তরের মানুষ সমর্থন করছে তাই ২০২১-এ পশ্চিমবঙ্গের বুকে ২০০ আসনের বেশি সিট পাবে, এ নিয়ে কোন দ্বিমত নেই। ওরা পুলিশকে যতই কাজে লাগাক বা পুলিশ অফিসারদের বদল করুক ওনারা কিছুই করতে পারবে না। মানুষ স্থির করে নিয়েছে ২০২১ এ ভারতীয় জনতা পার্টিকে প্রতিষ্ঠা করবে এই পশ্চিমবঙ্গে।”

উল্লেখ্য, এ দিনের তৃণমূলের বিজয় সম্মিলনীর সভামঞ্চে তৃণমূলের জেলা সভাপতি অজিত মাইতির উপস্থিতিতেই দাসপুরের বিধায়িকা মমতা ভূঁইয়া প্রকাশ্যে দাসপুর থানার ওসিকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, “এই ওসি থাকলে আগামী নির্বাচনের লড়াই অনেক কঠিন হবে। এই ওসির সাথে বিজেপি যোগ আছে, যদি ওসিকে শিগগিরই না বদলান তাহলে ২৪টি অঞ্চলের আমাদের কর্মীদের লড়াই খুব কঠিন হবে” বিধায়কের এই মন্তব্য মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে থাকে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

বিধায়কের বিরুদ্ধে নিন্দার ঝড় বইতে শুরু করে। প্রশ্ন ওঠে একজন বিধায়কের পক্ষে এমন মন্তব্য করা কতটা যুক্তিযুক্ত? আরও মন্তব্য আসতে থাকে দাসপুরের বর্তমান ওসি সুদীপ ঘোষাল নিরপেক্ষতা বজায় রেখে আইনের শাসন কায়েম রাখার ফল কি এটাই পেলেন? অন্যদিকে বিধায়কের ওসি সরানোর মন্তব্যে সাংবাদিকদের ছোঁড়া প্রশ্নে অজিত বাবু জানিয়েছেন “এটা পুলিশ প্রশাসনের ব্যাপার, এই ব্যাপারে আমি কোনো মন্তব্য করতে পারবোনা। কারণ আমি দলীয় লোক, রাজনীতির লোক, পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে আমি অহেতুক মন্তব্য করব না।”

তবে বিধায়কের এই ওসি সরানোর মন্তব্যে যে জেলা তৃণমূলকে বেশ খানিকটা অস্বস্তিতে ফেলেছে, তা সহজেই অনুমেয় করা যায়, এই নিয়ে দুই পক্ষের বাদানুবাদে বেশ সরগরম রয়েছে জেলা রাজনীতি।

 

Related Articles

Back to top button
Close