fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

তপনে দিঘীর জায়গা দখল করে নিজেদের নামে করার অভিযোগ তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি বিজেপির

পিন্টু কুন্ডু , বালুরঘাট: দক্ষিণ দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী তপন দিঘীর জমি দখলকে ঘিরে নয়া মোড়। দুমাস আগে মরে যাওয়া লোককে দেখিয়ে জমি রেজিস্ট্রি করার অভিযোগ একঝাঁক তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে। রবিবার অনলাইনে সাংবাদিক বৈঠক করে তপনের মন্ত্রী ও বিধায়কের বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিতে সরব হয়েছেন বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। দিঘীর জায়গা নিয়ে দুর্নীতি ইশুতে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট হওয়া ওই মহিলার মৃত্যুর শংসাপত্র দেখিয়ে তপনের তৃণমূল নেতাদের লাগামহীন দুর্নীতি নিয়ে সরব হয়েছেন সাংসদ। যাকে ঘিরে কার্যত বিপাকে পড়েছে শাসক শিবির। জমির মালিকের মৃত্যুর পরে তার নাম দিয়ে কিভাবে ওই জমি রেজিস্ট্রি হল তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন সাংসদ। তবে কি ভূত এসে ওই তৃণমূল নেতাদের জমি রেজিস্ট্রি দিয়েছে, এদিন সাংবাদিক বৈঠকে সেই প্রশ্ন তুলেও সরব হয়েছেন সুকান্তবাবু। নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হচ্ছেন তিনি বলেও জানিয়েছেন সাংসদ।

উল্লেখ্য, গত ১২-ই জুলাই সাংবাদিক বৈঠক করে তপন দিঘীর পার্শ্ববর্তী জমি হস্তান্তর হওয়ার ঘটনায় অনিয়মের অভিযোগ তোলেন বিজেপি সাংসদ। রাতারাতি সেই জমি ১০ তৃণমূল নেতার নামে সমপরিমানে রেকর্ড হয়ে যাবারও অভিযোগ তোলেন তিনি। যে তালিকায় জায়গা পায় তৃণমূল নেতা তথা উত্তরবঙ্গ উন্নয়ণ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী বাচ্চু হাসদা ও বিধায়ক গৌতম দাসের ঘনিষ্ঠরা। তালিকায় থাকা দশ জনের বিরুদ্ধেই অবৈধভাবে প্রাচীন তপন দিঘির জমি হস্তান্তরের অভিযোগ তুলে আন্দোলনের নামে বিজেপি দল। যদিও সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছিলেন তৃণমূল নেতৃত্ব। তাদের দাবি কোন সরকারি সম্পত্তি নয়, রায়তি সম্পত্তি হিসাবেই ওই জমি এক মহিলার কাছ থেকে কিনেছিলেন তৃণমূল ঘনিষ্ঠরা। কিন্তু যে মহিলার কাছে ওই জমি কিনেছিলেন বলে দাবি করেছিল তৃণমূল নেতারা, সেই মহিলার দুমাস আগেই মৃত্যু হয়েছে। যার শংসাপত্র দেখিয়েই লাগামহীন এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে তুমুল সরব হয়েছেন বালুরঘাটের সাংসদ। জমির মালিক ওই মহিলার মৃত্যুর দুমাস পর কিভাবে তিনি ওই জমি তৃণমূল নেতাদের নামে রেজিস্ট্রি দিলেন সেই প্রশ্নে সরব হয়েছেন সুকান্ত মজুমদার। তবে কি রেনুকা বসাক ভুত হয়ে এসেই ওই জমি রেজিস্ট্রি দিয়েছেন বাচ্চু হাসদা ও গৌতম দাসের ঘনিষ্ঠদের? সেই প্রশ্ন তুলেও সরব হয়েছেন সাংসদ। সেই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই রীতিমতো আলোড়ন তৈরি হয়েছে জেলাজুড়ে।

সাংসদ সুকান্ত মজুমদার বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া জমির মালিকের মৃত্যুর শংসাপত্রে দেখা যাচ্ছে। রেনুকা বসাক নামের ওই মহিলার মৃত্যু হয়েছে ১-লা এপ্রিল ২০২০ তারিখে। অথচ রেনুকা বসাক জমিটি হস্তান্তর করেছে ২৭শে মে ২০২০ তারিখে, তাহলে কি রেনুকা বসাক-এর ভূতকে নিয়ে এসে জমি হস্তান্তর করা হয়েছে ? যে কারণে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করেছেন সাংসদ। একই সঙ্গে জমি রেজিস্টার আধিকারিকের বিরুদ্ধেও তদন্তের দাবী তুলেছেন তিনি।

তপন ব্লকের বিধায়ক তথা উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী বাচ্চু হাঁসদা জানিয়েছেন, জমি রেজিস্ট্রি বিষয়টি বিএলআরও ভালো বলতে পারবেন। সে বিষয়ে তার কোন মন্তব্য নেই।

ডিস্ট্রিক্ট রেজিস্ট্রার অনিন্দ্য সুন্দর প্রধান জানিয়েছেন, মৃত ব্যক্তি কখনই জমি রেজিস্ট্রি করতে পারে না। বিষয়টি খোজ নিয়ে দেখছেন।

Related Articles

Back to top button
Close