fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

পাহাড় থেকে সমতল বিজেপিময়…..

রক্তিম দাশ, কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রীর সাধের পাহাড়ে এখন পরিবর্তনের হাওয়া। দার্জিলিং লোকসভার অর্ন্তগত পাহাড় থেকে সমতলের বিধানসভাগুলোতে প্রবল গেরুয়া হাওয়ার চাপে বির্পযস্ত তৃণমূল। গত ২০১৬-ও বিধানসভা নির্বাচনে এই দার্জিলিঙের অর্ন্তগত ৭ টি বিধানসভার মধ্যে ৪টি আসনে প্রার্থী দিয়ে তৃতীয় স্থানে ছিল বিজেপি। তিনবছর পরে লোকসভা নির্বাচনের সময় দার্জিলিং বিধানসভার উপনির্বাচনে এই আসনটি জেতে বিজেপি। শুধু তাই নয় গেরুয়া শিবির এই লোকসভার ৬টি বিধানসভায় প্রথম স্থানে এগিয়ে থেকে একুশের লড়াই শুরু করছে।

দার্জিলিং লোকসভা কালিম্পং, দার্জিলিং, কার্শিয়াং, মাটিগড়া-নকশালবাড়ি, শিলিগুড়ি, ফাঁসিদেওয়া এবং চোপরা বিধানসভা নিয়ে গঠিত।

দার্জিলিং বিধানসভার মোট ভোটার ২৩৭৪৭০। প্রথম থেকে এই আসনটি বেশিরভাগ সময় অখিল ভারতীয় গোর্খা লিগের দখলে ছিল। ১৯৮২ ও ৮৭ ছিল সিপিএমের দখলে। এরপর ১৯৯১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত ছিল জিএনএলএফের দখলে। ২০১১ এবং ২০১৬-তে ছিল জনমুক্তি মোর্চার দখলে। ২০১৯ এর বিধানসভা উপনির্বাচনে এই আসনটি জেতে বিজেপি। বিজেপির নীরজ জিম্বা ৮৮১৬১ (৬১.৮০ শতাংশ), জনমুক্তি মোর্চার (বিনয়) এর বিনয় তামাং ৪১৬২৩ ভোট পান। বিজেপি এই আসনে জেতে ৪৬৫৩৮ ভোটে। এই জয় অব্যহত থাকে একই সঙ্গে লোকসভার ভোটেও। এই আসনে বিজেপির রাজু সিং বিস্ত ১১৯৪২৮, তৃণমূলের অমর সিং রাই ৩৩৬০৪ এবং কংগ্রেসের ২৭৬১ ভোট পান। উপনির্বাচনের থেকে অনেক ভোট বাড়িয়ে বিজেপি এখানে এগিয়ে ৮৫৮২৪ ভোটে।

আরও পড়ুন:আলিপুরদুয়ারে পিছিয়ে তৃণমূল সব আসনে এগিয়ে বিজেপি

কালিম্পং বিধানসভার মোট ভোটার ২০০১৭৪। ১৯৯৬ থেকে ২০০৬ এটি ছিল জিএনএলএফের দখলে। ২০১১ এবং ২০১৬-তে ছিল জনমুক্তি মোর্চার দখলে।২০১৬-ও বিধানসভায় জনমুক্তি মোর্চার সরিতা রাই ৬৭৬৯৩ (৪৯.০৬ শতাংশ) এবং জন আন্দোলন পার্টির হরকা বাহাদুর ছেত্রি ৫৬২৬২ (৪০.৭৭ শতাংশ)। বিজেপির কোনও প্রার্থী ছিল না।
জনমুক্তি মোর্চা এই আসনটি জেতে ১১৪৩১ ভোটে। ২০১৯-র লোকসভা নির্বাচনে এই আসনটিতে বিজেপি ৯৬৮৭৭, তৃণমূল ৩৪৩০২ এবং কংগ্রেস ৩৩৬২ ভোট পায়। বিজেপি এই আসনে ৬২৫৭৫ ভোটে এগিয়ে।

কার্শিয়াং বিধানসভার মোট ভোটার ২০৯০৮১। এই বিধানসভাটি ১৯৯৬ থেকে ২০০৬ এটি ছিল জিএনএলএফের দখলে। ২০১১ এবং ২০১৬-তে ছিল জনমুক্তি মোর্চার দখলে।২০১৬ তে এই আসনে জনমুক্তি মোর্চার রোহিত শর্মা ৮৬৯৪৭ (৫৩.০৩ শতাংশ), তৃণমূলের শান্তা ছেত্রী ৫৩২২১ (৩২.৪৬ শতাংশ) ভোট পান। জনমুক্তি মোর্চা এই আসনটি জেতে ৩৩৭২৬ ভোটে। এখানেও বিজেপি কোনও প্রার্থী ছিল না। ২০১৯ এর লোকসভা ভোটে বিজেপি ১২২৩৯৩, তৃণমূল ৩৪৭৯৬ এবং কংগ্রেস ১২১৪ ভোট পায়। বিজেপি এই আসনে এগিয়ে ৮৭৫৯৭ ভোটে।

আরও পড়ুন:জলপাইগুড়িতে পিছিয়ে মন্ত্রী গৌতম…. অ্যাডভান্টেজ বিজেপির, চাপে তৃণমূল

মাটিগড়া-নকশালবাড়ি বিধানসভার মোট ভোটার ২৪৯৪০৮। ডিলিমিটেশনের কারণে এই বিধানসভাটি তৈরি হয় ২০১১-তে।
প্রথমবার ও ২০১৬-তে এই বিধানসভাটি যায় কংগ্রেসের দখলে। ২০১৬-তে কংগ্রেসের শঙ্কর মালাকার ৮৬৪৪১ (৪১.২৮ শতাংশ), তৃণমূলের অমর সিনাহা ৬৭৮১৪ (৩২.৩৯ শতাংশ) এবং বিজেপির আনন্দময় বর্মণ ৪৪৬২৫ (২১.৩১ শতাংশ) ভোট পান। কংগ্রেস এই আসনটিতে জয়লাভ করে ১৮৬২৭ ভোটে। ২০১৯-র লোকসভায় এই বিধানসভার ফল উলটে বিপুল ভোট বাড়িয়ে বিজেপি ১৪৪১৭৫,তৃণমূল ৪৫২৭৭ এবং কংগ্রেস ১০৭৩৩ ভোট পায়। এই বিধানসভায় বিজেপি ৯৮৮৯৮ ভোটে এগিয়ে তৃণমূলের থেকে।

শিলিগুড়ি বিধানসভার মোট ভোটার ২০৮৭১৯। এই বিধানসভাটি বরাবরই সিপিএমের শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিতি। ১৯৭৭ থেকে টানা ২০০৬ পর্যন্ত বিধানসভাটি ছিল সিপিএমের দখলে থাকার পর ২০১১-তে তৃণমূলের দখলে এলেও ২০১৬-তে আবার সিপিএম তা পুনরুদ্ধার করে। সিপিএমের অশোক ভট্টাচার্য ৭৮০৫৪ (৪৬.৩৬ শতাংশ), তৃণমূলের বাইচুং ভুটিয়া ৬৩৯৮২ (৩৮.০১ শতাংশ) এবং বিজেপির গীতা চট্টোপাধ্যায় ১৯৩০০ (১১.৪৬) ভোট পান। সিপিএম এই আসনে ১৪০৭২ ভোটে জয়লাভ করে। কিন্তু ২০১৯ এর লোকসভা ভোটে এই আসনে সিপিএম তৃতীয় স্থানে চলে যায়। বিজেপি ১০৫১৪৮, তৃণমূল ৩৯৬৬২, সিপিএম ১৩৯০১ ভোট পায়। বিজেপি ব্যাপক ভোট বাড়িয়ে এগিয়ে আছে ৬৫৪৮৬ ভোটে তৃণমূলের থেকে।

ফাঁসিদেওয়া বিধানসভার ভোটার ২০৬৩৬২। এই বিধানসভাটি ১৯৭৭ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত ছিল সিপিএমের দখলে। ২০১১ এবং ২০১৬-তে এটি যায় কংগ্রেসের দখলে। ২০১৬-র বিধানভা ভোটে কংগ্রেসের সুনীলচন্দ্র তিরকে ৭৩১৫৮ (৪০৩৬ শতাংশ), তৃণমূলের কার্লস লাকরা ৬৬০৮৪ (৩৬.৪৫ শতাংশ) এবং বিজেপি দুর্গা মুর্মু ৩২৮৯৪ (১৮.১৫ শতাংশ) ভোট পান। কংগ্রেস ৭০৭৪ ভোটে জয়লাভ করে। ২০১৯ লোকসভা ভোটে হিসাব উলটে দিয়ে বিজেপি ১০৭১১৫, তৃণমূল ৫৩৮৫৪ এবং কংগ্রেস ১৫৫২৬ ভোট পায়। কংগ্রেসকে তৃতীয় স্থানে ঠেলে দিয়ে বিজেপি তৃণমূলের থেকে ৫৩২৬১ ভোটে এগিয়ে রয়েছে।

আরও পড়ুন:গণপতি উৎসব নিয়ে কড়া নির্দেশিকা জারি মহারাষ্ট্র সরকারের, বেধে দেওয়া হল প্রতিমার উচ্চতা

চোপড়া বিধানসভার মোট ভোটার ২০৯৯৬৬। এই বিধানসভাটি ১৯৭৭ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত ছিল সিপিএমের দখলে। ২০০১ এবং ২০১১ আসনটি যায় নির্দলের দখলে। ২০০৬-তে আসনটি পায় সিপিএম। ২০১৬-তে এই আসন চলে যায় তৃণমূলের দখলে। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই বিধানসভাটিতে ২০১৬-তে তৃণমূলের হামিদুল রহমান ৭৪৩৯০ (৪১.৮২ শতাংশ), সিপিএমের আক্রামুল হক ৫৭৫৩০ (৩২.৩৪ শতাংশ) এবং বিজেপির সুজনরাম সিংহ ১৫৮১৫ (৮.৮৯ শতাংশ) ভোট পান। তৃণমূল এই আসনে ১৬৮৬০ ভোটে জয়লাভ করে। ২০১৯-র লোকসভা ভোটের নিরীখে এই বিধানসভাটিতেই একমাত্র তৃণমূল এগিয়ে। এখানে তৃণমূল ৯৪২৯৮, বিজেপি ৪৯৫২১ এবং কংগ্রেস ২২৭৬৯ এবং সিপিএম ১১৪০৩। বিজেপির গত বিধানসভার থেকে ভোট বাড়লেও তারা তৃণমূলের থেকে এই আসনে ৪৪৭৭৭ ভোটে পিছিয়ে রয়েছে।

Related Articles

Back to top button
Close