fbpx
কলকাতাহেডলাইন

টালিগঞ্জ বিধাসভার বিশ্বাস গড়ে নিশ্বাস ফেলছে গেরুয়া বাহিনী

শংকর দত্ত, কলকাতা: এই মাত্র ৪ বছর আগের কথা। ২০১৬ বিধানসভায় দক্ষিণ কলকাতার এই গ্ল্যামারাস বিধানসভায় সেই অর্থে বিজিপির পতাকা নিয়ে প্রকাশ্যে রাস্তায় ঘোরার তেমন লোক পাওয়া যেত না। তবে বিজেপি করতো না যে কেউ এমনটা নয়। একদিন শিক্ষিত বামপন্থীদের দাপট অন্যদিকে তৃণমূলের বিজয়উল্লাস।

লাল দুর্গ অনেক আগেই ছেয়ে গেছিলো ঘাসফুলে। তবে লাল পতাকার রং তখনও ফিকে হয়ে যায়নি। আর চার বছর কাটতে না কাটতেই সেই টালিগঞ্জ এখন গেরুয়া বাহিনীর দাপটে টলমল। কিন্তু কেন এমন হলো? উত্তর দিলেন এই অঞ্চলের বিজেপির ৩ নম্বর মণ্ডল সভাপতি অসীম চক্রবর্তী। বললেন, ‘আমি কিন্তু নিঃশব্দে দলটা করছি সেই নব্বইয়ের দশক থেকে। অনেক যাওয়া আসা দেখলাম।

বামেদের অত্যাচার,তৃণমূলের বাড়বাড়ন্ত সব কিছু। কিন্তু এবার আর রক্ষে নেই। এখানে এখন আমরা শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে। যদি পুরভোটে হতো বুঝতেন আমার মন্ডলের অন্তর্গত তিনটে ওয়ার্ডেই আমরা জিতে যেতাম।’ কিভাবে এটা জানতে চাইলেই স্ট্রেট জানান, ‘আসলে এখানকার বিধায়ক ও মন্ত্রীএকটা কাটমানি খোর। কোথায় কিভাবে ইললিগাল বিল্ডিং থেকে টাকা খাবেন সেটাই তাঁর মূল লক্ষ্য ছিলো।’ অবশ্য তাঁর কথার প্রতিধ্বনি পাওয়া গেলো বিজেপির ১ নম্বর মণ্ডল সভাপতি এলাকার দাপুটে ও ঠোঁট কাটা নেত্রী হিসাবে পরিচিত সোমা ঘোষের কণ্ঠে। বরং তিনি আরও ঝাঁঝালো, ‘ আচ্ছা বলুন তো তৃণমূলে কার দুর্নীতি নেই? এখানকার বিধায়ক বা মন্ত্রীর কাজটাই হচ্ছে দল-ভিত্তিক রাজনীতি করা। সে আমফান,আইলা বা করোনা মোকাবিলা যাই বলুন। সব কিছুতেই উনি দলের লোকজনকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। সাধারণ মানুষ হাহাকার করছেন।’

তাঁর জোরালো দাবী, ‘ আমরা কিন্তু উজলা যোজনার কাজ করতে গিয়ে প্রকৃত মানুষকে খুঁজে বের করছি। ওয়ার্ডে গিয়ে বুথে গিয়ে আসল গরীব দের পাশে দাঁড়ানোর চেস্টা করছি। কোনও দল দেখে নয়।’
টালিগঞ্জ মানেই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি। একসময় হাজার হাজার মানুষের প্রতিদিনকার রুটিরুজি দিতো এই রুপোলি জগৎ। কিন্তু সেখানেও এখন কাজের ভাঁটা। এ অঞ্চলের বাসিন্দা প্রবীণ পরিচালক মিলন ভৌমিক এখন প্রকাশ্যেই বিজেপি শিবিরে। তাঁর নেতৃত্বে গড়ে উঠছে অসহায় শিল্পী-কলাকুশলী ও টেকনিশিয়ানদের নিয়ে বিজেপি পন্থী একটা বড় সংগঠন। তাঁর প্রতিবাদ মূলত বিশ্বাস পরিবারের একচ্ছত্র আধিপত্যের বিরুদ্ধে।

তিনি বলেন,’এই যে স্বরূপ বিশ্বাসের ডানা ছাঁটলেন মমতা ব্যানার্জি।উনি কি জানতেন না এখানে কী সাংঘাতিক গোষ্ঠীবাজি হচ্ছে? ফেডারেশন থেকে শুরু করে সমস্ত ক্ষেত্রে অবৈধ্য ভাবে থাবা বসিয়েছে এই বিশ্বাস -ব্রাদার।টালিগঞ্জ বিধানসভা মন্ডল তিন টা ওয়ার্ড মন্ডল ওয়ান মন্ডল 2 মন্ডল 3 যেখানেই কোনো কন্সট্রাকশন কাজ হচ্ছে সেখানেই পার স্কয়ারফিট তাদের দালালি দিতে হবে, না হলে কাজ বন্দ ۔ আজ ২০ বছর আমি আছি এই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি এর সঙ্গে কোনোদিন এত দালালি আর সর্বনাশের খেলা দেখিনি যা গত ৮۔ বছর দেখছি ۔ এতো বছরের পরিচালক হয়েও গরীব টেকনিশিয়ান দের পাশে দাঁড়াতে পারিনি। শুধু মাত্র চামচা বাজি করা দলীয় লোকজনই এখানে সব কিছুতে সুযোগ পায়। তবে এ দিন আর থাকবে না। আমরা বিজেপি কর্মীরা আগামী বছরেই সব ঠাণ্ডা করে দেব,বিজেপি আসছেই।’ এ অঞ্চলের আর এক বিজেপি নেতা বলে পরিচিত দীলিপ চন্দ তিনিও সমর্থন করলেন মিলন বাবুকে।

বললেন, ফিল্ম জগতের মানুষ হয়েও আমফান পরিস্থিতিতে যেভাবে এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন মিলন বাবু সেটা নজির বিহীন। এই জগতে তাঁর কাজের অবশ্য প্রশংসা করেছেন আরও দুই মণ্ডল সভাপতি।মন্ডল ৩ এর সভাপতি অসীম চক্রবর্তী তো এক বাক্কেই স্বীকার করেনিলেন টালিগঞ্জ বিধানসভা জুড়ে মিলান বাবুর কর্ম পদ্ধতি ۔এমনকী বিজেপির রাজ্যস্তরের দুই হেভিওয়েট নেতাও স্বীকার করলেন অরাজনৈতিক ব্যক্তি হয়েও তিনি বিজেপি শিবিরকে টালিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিতে প্রতিষ্ঠা করবার জন্য যে লড়াই করছেন সেটা প্রশংসনীয়। টলি পাড়ার প্রবীন টেকনিশিয়ান সন্তোষ পাল। দীর্ঘ বছর রূপলি পর্দার বহু নামী-দামীদের মুখে আলো-ক্যামেরা পরেছে তাঁর ক্যারামতিতেই।স্টুডিও পাড়ার একজন খুব বড়ো সাপ্লায়ার তিনিও মেনে নিলেন এ অঞ্চলে কলাকুশলীদের পাশে থাকার মিলন বাবুর ভূমিকার কথা। অন্য দিকে এই বিধানসভার বিজেপির মণ্ডল দুই এর সভাপতি দেবাশীষ দেও আগামী বিধানসভায় টালিগঞ্জে বিজেপির জয় নিয়ে নিশ্চিত।

তিনি বলেন, ‘যে অঞ্চলের বিধায়ক শুধুমাত্র ক্লাব কালচার নিয়ে ব্যস্ত থাকেন,যিনি বেছে বেছে নিজের দলের লোকজন খুঁজে ফান্ড পাইয়ে দেন এবং সব জায়গায় মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণার ব্যানার ও পোস্টার লাগিয়ে নাম কিনতে চান,তিনি আসলে জন-বিচ্ছিন্ন। এলাকার মানুষ তাঁদের নিজের বিধায়ককে চোখে দেখতে পান না। স্বাভাবিক ভাবেই মানুষ এখন বিজেপির পক্ষেই।’ কিন্তু এ অঞ্চলে সিপিএমের ভোট তো একটা বড় ফ্যাক্টর? ‘এটা ছিলো। কিন্তু এখন আর এই তত্ত্ব মিলছে না। যদিও লড়াইটা আপাত দৃষ্টিতে তিনটি দলের মধ্যেই হবে। তবে আমাদের মূল লড়াই এখন শাসক দলের সঙ্গেই। আর তো কয়েকটা মাস। মিলিয়ে নেবেন টালিগঞ্জ হবে আমাদের স্বপ্নের বিধানসভা। টালিগঞ্জ বিধানসবার অধীনে ৯৪ ওয়ার্ড এর বাসিন্দা তথা শিল্পী শর্মিষ্ঠা রায় এর সঙ্গে কথা হলে , উনি বললেন, শিল্পীর শিল্পিত হারিয়ে গেছে, সেদিন যেদিন টিএম ছির বিশ্বাস & কোম্পানি এর হাতে চলেগেছে পুরো সংস্কৃতি জগৎ , এখানে টি এম ছির জাৰ্ছী গায়ে না দিলে কোনো কিছু করা সম্ভব নয়, বুঝতে পেরে আমি বিজেপি পরিবারে এর একজন সক্রিয় সদস্য হয়ে ওদের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করে, আমি আমার ওয়ার্ড এ কাজ করে যাচ্ছি ۔আমি আমার ওয়ার্ড এ বিজেপি এর সংঘটন এর শক্ত ভীত তৈরী করছি, যাতে আগামী বিধান সভাতে আমরা আমাদের ওয়ার্ড থেকে যাতে বিজেপি কে সম্পুর্ন্ন লিড দিতে পারি ۔ উনি আরো বললেন টালিগঞ্জের বিজেপি এর সংস্কৃতির সংঘটন বি সি এস এস এর উনি একজন সক্রিয় সদস্য , মিলন ভৌমিক এর নেতৃত্বে এই সংঘটন বিশ্বাস & কোম্পানিকে জোর ধাক্কা দিয়েছে ,যার ফলে টালিগঞ্জের কলাকুশলীরা ওদের ছেড়ে বিজেপি এর সংঘটনে নাম লেখাচ্ছে ২০২১-এ টিএমসি হবে ফিনিশ ۔কী হবে যদিও এখানকার মানুষ বলবেন আগামী বছর। তবে এ অঞ্চলের গেরুয়া ব্রিগেড যে এই বিধানসভা দখলে মরিয়া সেটা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। কয়েক মাস পরেই অবশ্য পরিষ্কার আকাশের মতো জানা যাবে আসলে বিজেপি বিশ্বাস-গোষ্ঠিতে নিশ্বাস ফেলতে আদৌ পারছে কিনা!!

Related Articles

Back to top button
Close