fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

জন সংযোগ বাড়াতে প্রশান্ত কিশোরের পাল্টা স্ট্র্যাটেজি নিয়ে গৃহ সম্পর্ক যাত্রা কর্মসূচি শুরু করল বিজেপি

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: করোনা পরিস্থিতি যাই থাক লক্ষ একটাই। ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে বাংলা জয়। সেই লক্ষকে সামনে রেখে একের পর এক রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে ময়দানে নেমে পড়েছে বঙ্গ বিজেপি। ভার্চুয়াল সভার পর এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির চিঠিকে হাতিয়ার করে বঙ্গ বিজেপি শুরু করে দিল গৃহ সম্পর্ক অভিযান। বিজেপি কার্যকর্তারা রাজ্য জুড়ে ১৬ জুন থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত এই কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ।

এই কর্মসূচিকে সামনে রেখে মঙ্গলবার থেকেই গৃহস্থের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে যাওয়া শুরু করেদিলেন বিজেপি কার্যকর্তারা। রাজ্যের অন্যান্য জেলার পাশাপাশি এদিন পূর্ব বর্ধমান জেলাতেও গৃহ সম্পর্ক যাত্রা কর্মসূচি শুরু হল। রাজ্য বিজেপির সহ সভাপতি প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায়, জেলা সভাপতি সন্দীপ নন্দী, জেলা কার্যকর্তা সুনীল গুপ্ত, সৌম্যরাজ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখরা এদিন জেলায় এই কর্মসূচির সূচনা করেন। শাসক শিবির বিজেপির পাল্টা কি কর্মসূচি নেয় সেদিকেই এখন তাকিয়ে জেলার রাজনৈতিক মহল।

রাজ্য বিজেপি সহ সভাপতি প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “প্রতিটি বুথ এলাকার ১০০ টি পরিবারের সাথে সম্পর্ক তৈরি করার লক্ষ্যেই এই কর্মসূচি। এই কটাদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির চিঠি নিয়ে প্রতিটি বুথের বিজেপি কর্যকর্তারা গৃহস্থের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে যাবেন। তাঁদের সুখ দুঃখের খবর নেবেন। ওই গৃহস্থ পরিবারে কেউ করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন কিনা সেই বিষয়েও খোঁজ নেবেন। পাশাপাশি ওই গৃহস্থ পরিবারে পরিযায়ী শ্রমিক থাকলে তাঁর সম্পর্কেও বিস্তারিত খোঁজ নেবেন। কার্যকর্তারা ওই পরিযায়ী শ্রমিকের কাছে জানতে চাইবেন ভিন রাজ্য কোথায় তিনি কাজ করতেন। সেখানে কাজের মেয়াদ এখনও আছে কিনা, বাংলায় ফিরে এসে পরিযায়ী শ্রমিকরা কেমন আছেন সেই বিষয়েও বিজেপি কর্যকর্তারা তথ্য সংগ্রহ করবেন। পরিবার গুলির ফোন নম্বারও সংগ্রহ করে রাখবেন বিজেপি কার্যকর্তারা।
এছাড়াও বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকার সম্পর্কে গৃহস্থ পরিবারের কোন অভিযোগ থাকলে সেটাও বিজেপি কার্যকর্তারা গুরুত্ব দিয়ে শুনবেন। অভিযোগের বিষয়গুলি নিয়ে দল পর্যালোচনা করবে । ”

এমন কর্মসূচি নেওয়ার কারণ প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপি সহ সভাপতি প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন , কেন্দ্রের সরকার উদার ভাবে বাংলার মানুষকে সাহায্য করতে চাইছে । কিন্তু এই রাজ্যের সরকার সেই সাহায়্য পেতে দিতে চাইছে না । রাজ্যের কৃষকরাও কেন্দ্রীয় সরকারের সাহায্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে । ত্রাণ বিলি নিয়ে তৃণমূল দলবাজি করছে । এই রাজ্যে আমফানে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য কেন্দ্র ১০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে ।

কিন্তু প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা কোনও সহায়তা পাচ্ছেন না। সহায়তা পাচ্ছে বাছাই করা তৃণমূলের লোকজন। এই রাজ্যে করোনায় মৃতদের প্রকৃত তথ্যও গোপন করা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি না আসলে জানাই যেতনা বাংলায় কতজন করোনা আক্রান্তের মৃত্যু হয়েছে। পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়েও রাজনীতি হচ্ছে। গৃহ সম্পর্ক যাত্রা কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বিজেপি কার্যকর্তা এই সব বিষয় গুলিই জনতার দরবারে হাজির করে তুলে ধরবেন।

বর্ধমানবাসী মনে করছেন বিজেপির এমন ‘গৃহ সম্পর্ক যাত্রা’ কর্মসূচি আদতে তৃণমূলের ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোরের পাল্টা রাজনৈতিক স্ট্র্যাটেজি। সবেরই মুখ্য উদ্দেশ্য সেই ২০২১ এর ভোট।

বিজেপির এই কর্মসূচিকে যদিও কোন গুরুত্বই দিতে চাইছেনা জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব । পূর্ব বর্ধমান জেলাপরিষদের মেন্টর তথা তৃণমূলের এস সি সেলের রাজ্য সভাপতি উজ্জ্বল প্রামাণিক বলেন, বাংলা জয়ের অলিক স্বপ্ন দেখছে বিজেপি। এই রাজ্য ও এই জেলার প্রতিটি মানুষ জানেন বাংলার উন্নয়নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিকি কাজ করেছেন। কারা বিপদে মানুষের পাশে থাকে ।

উজ্বল বাবু বলেন , কেন্দ্রের সরকার যে শুধু ভাঁওতা দিয়ে চলেছে তাও রাজ্যবাসী বুঝে গেছেন। ২০২১ শে এই রাজ্যের মানুষ দাঙ্গাবাজ দলকে উচিৎ শিক্ষা দিয়ে দেবে। বিজেপির বাংলা জয়ের স্বপ্ন অধরাই রয়ে যাবে।
ছবি আছে ।

Related Articles

Back to top button
Close