fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

চোপড়ার ঘটনায় তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি না দেওয়া হলে বাংলা জুড়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি বিজেপির

দীপঙ্কর দে, ইসলামপুর: ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতাল থেকে নির্যাতিতার মরদেহ নিয়ে চোপড়ার উদ্যেশ্যে বিজেপি সাংসদ নেতৃত্বরা রওনা হলে হাসপাতালের মুখে জাতীয় সড়কের উপর পুলিশ তাঁদের আটকে দেয়। পুলিশি প্রতিরোধের জেরে কোচবিহারের সাংসদ নিশীথ প্রামানিক, বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার, বিজেপির রাজ্য সহ সভাপতি রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়, জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ লাহিড়ী, জেলা সহ সভাপতি সুরজিৎ সেন সহ বিজেপির অন্যান্য নেতৃত্বরা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমন করেন। সাত দিনের মধ্যে ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি না দেওয়া হলে বাংলা জুড়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিজেপি। বিজেপি নেতৃত্বদের মরদেহ নিয়ে যেতে বাধা দিলেও প্রশাসনের নজরদারিতে পরিবারের উপস্থিতিতে শিলিগুড়িতে নাবালিকার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।


অন্যদিকে এদিন চোপড়ার নাবালিকার রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় নয়া মোড় নেয়। নাবালিকাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধারের জায়গা থেকে একটু নীচে নয়নজলিতে সোমবার উদ্ধার হয় অভিযুক্ত যুবকের মৃতদেহ। যুবকের মৃতদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই চোপড়ার ভইসপিটা এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে তৃণমূল কর্মীরা ঘটনায় দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবীতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। একটা প্রেমের ঘটনাকে ধর্ষণ বলে এলাকায় অশান্তি লাগাতে চাইছে বিজেপি বলে অভিযোগ তোলেন তৃনমুলের জয়হিন্দ বাহিনীর চোপড়া ব্লক সভাপতি জাহিদুল রহমান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়। এদিকে নাবালিকার ময়নাতদন্তের রিপোর্টে শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি, যৌন নির্যাতনের কোনও চিহ্ন মিলেনি, বিষক্রিয়ায় মৃত্যু বলে জানা গিয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বদের এলাকায় যেতে পুলিশ আটকে দিলেও নির্যাতিতা ও মৃত যুবকের বাড়ি যান পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব, শ্রম প্রতিমন্ত্রী গোলাম রব্বানী, মালদার প্রাক্তন সাংসদ মৌসম নুর, জেলা তৃনমুল সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়াল, বিধায়ক হামিদুল রহমান সহ অন্যান্য নেতৃত্বরা।

 

চোপড়ার চোতরাগছ গ্রামে নির্যাতিতার বাড়ি গিয়ে পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব নির্যাতিতার মায়ের পাশাপাশি গ্রামবাসীদের সাথে কথা বলেন। নির্যাতিতার পরিবারকে সমবেদনা জানান মন্ত্রী গৌতম দেব এবং পাশে থাকার আশ্বাস দেন। মন্ত্রী বলেন, চোপড়ার ঘটনায় তিনি ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মর্মাহত। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। এছাড়াও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির বিষয়ে রাজ্য সরকার পদক্ষেপ গ্রহন করেছে। নির্যাতিতার পরিবার শান্তিপ্রিয় মানুষ ওনারা রাজনীতি বোঝেন না। তবে বিজেপি তৃনমুল রাজনীতির বিষয়ে গ্রামে মুখ খোলেননি মন্ত্রী গৌতম দেব। তবে চোপড়ার ওই এলাকা থেকেই উদ্ধার হওয়া মৃত যুবকের বাড়িতে গিয়ে বিজেপি নোংরা রাজনীতি করছে, ঘটনার তীব্র ধিক্কার জানাই বলে জানান মন্ত্রী গৌতম দেব। উল্লেখ্য, গতকাল রবিবার নাবালিকাকে গণধর্ষন করে খুনের অভিযোগে চোপড়ার কালাগছ এলাকা উত্তাল হয়ে ওঠে। বেশকয়েকটি পুলিশের গাড়ি সহ সরকারী বাস আগুনে পুড়েছে। দীর্ঘক্ষন ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি। চোপড়ার ঘটনায় বেষকয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও পুলিশ প্রশাসনের তরফে এখনও কিছুই জানানো হয়নি। সবমিলিয়ে নাবালিকার রহস্যজনক মৃত্যুর পর অভিযুক্ত যুবকের মৃতদেহ উদ্ধারে এলাকায় চাপা উত্তেজনার পাশাপাশি ঘটনার তদন্ত নিয়ে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে পুলিশ প্রশাসন।

Related Articles

Back to top button
Close