fbpx
কলকাতাহেডলাইন

বিজেপি বাংলা ও বাঙালিয়ানা ধ্বংসের রাজনীতি করছে, ব্রাত্য বসু

অভিষেক গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: বিজেপি বাঙালিকে কখনও সম্মান জানায় নি। তোপ দাগলেন তৃণমূল মুখপাত্র তথা রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু। শুক্রবার তৃণমূল ভবনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে বাংলা ও বাঙালিয়ানা নিয়ে ক্ষোভ উগড়ে দেন। তিনি বলেন, ‘বিজেপি বাঙালি ও বাঙালিয়ানা ধ্বংসের রাজনীতি করছে। পশ্চিমি রাজ্যের শাসন চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বাংলার ওপর।’ সম্প্রতি রাজ্যে এসেছেন বিজেপি পাঁচ সদস্যের পর‌্যবেক্ষকের প্রতিনিধি দল। তার কয়েকদিন আগেই ঘুড়ে গিয়েছেন কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতা তথা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি বাংলার প্রতিটি কোনায় গিয়ে দেখা করে গিয়েছেন সব সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে। আর তাতেই একুশের নির্বাচনের আগে চাপ বাড়ছে শাসক শিবিরে। তাই বিজেপির নিন্দায় সরব তৃণমূল নেতৃত্ব। এদিনও ব্রাত্য বসুর বক্তব্যে তাঁর ব্যতিক্রম ছিল না।

এদিন বাঙালি আবেগ তাড়িত হয়ে ব্রাত্য বলেন, ‘বিজেপির সময়কালে কোনও বঙলিকেই পূর্ণ সম্মান জানানো হয় নি। অথচ বাইডেন আমেরিকার ক্ষমতায় এসে এক বাঙালিকে সর্বোচ্চ স্থানে বসিয়ে বাঙালির ওপর আস্থা রেখেছেন। দৃষ্টান্ত স্বরূপ বলা যেতে পারে ভারতবর্ষের কোনও রাজ্যে বা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীত্বে কোনও বাঙালিকে পূর্ণ মন্ত্রিত্ব দেওয়া হয়নি। সবাইকে হাফ প্যান্ট পড়িয়ে রাখা হয়েছে। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেত্রীত্বে এমন ঘটনা কখনও ঘটেনি। কোনও সম্মানই দেওয়া হয় নি বাঙালিকে। উলটে কোনঠাসা করার চেষ্টা চলেছে। এমন কি আন্দামানের সেলুলার জেলে একাধিক বাঙালি বিপ্লবী বীর সাভারকরের সঙ্গে ছিলেন। তারাও স্বাধীনতা সংগ্রামে গিয়ে সমপরিমান কষ্ট ভোগ করেছেন বৃটিশদের হাতে। তাদের নাম কখনও নেওয়া হয় নি। কিন্তু পাঁচ বারের মুচলেখা দেওয়া বীর সাভারকরের নাম স্বগৌরবে নেওয়া হয় বারেবারে। তার নামে আন্দামান সেলুলার জেলের নামকরণও করা হয়। এখন সব টাই মানুষের হাতে তারা যা করবেন।’

ইতিমধ্যেই ২০২১ এর নির্বাচনকে সামনে রেখে চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে বিজেপি। বিজেপির পাঁচ সাংগঠনিক জোনে রাজ্য নেতাদের উপরে পর্যবেক্ষক ও আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছে পাঁচ কেন্দ্রীয় নেতা। নাম  না করে তাদের কটাক্ষ করে ব্রাত্য বলেন ‘বহিরাগতরা বাংলার সংস্কৃতি বোঝেনা।’

বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে ব্রাত্য বসু আরও বলেন, ‘ বাংলায় বহিরাগতদের তান্ডব চলছে। বাংলায় বিজেপির কেন্দ্রীয় দল আর বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙ্গা তারই একটা নিদর্শন। বহিরাগতরা কি বাংলায় রাজনীতি চালাবে? বহিরাগতদের দিয়ে বাংলা নিয়ন্ত্রণ চলবে না।বাঙালিয়ানার অবক্ষয় হচ্ছে’।

এরপরেই মতুয়াদের প্রসঙ্গ টেনে ব্রাত্য বসু বলেন,’ মতুয়াদের অবহেলা করছে বিজেপি। মতুযদের যোগ্য সম্মান দেয় নি। রাম মন্দিরে ১৭ টি মন্দির থাকলেও সেখানে গুরুচাঁদ ঠাকুরের নামে কোনও মন্দির নেই। উলটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মতুয়াদের মধ্যে থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী করেছিলেন। গুরুচাঁদ ঠাকুরের নামে কলেজ করেছেন।’

Related Articles

Back to top button
Close