fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

বাংলায় পরিবর্তনের জন্যই বিজেপি লড়ছে, দিলীপ ঘোষ

নিজস্ব প্রতিনিধি, বোলপুর: রাজ্যে বিজেপির কর্মীরা রোজ আক্রান্ত হচ্ছেন, বাড়ি ঘর ভাঙা হচ্ছে। বাড়িতে চড়াও হয়ে গুলি করা হচ্ছে বিজেপির মহিলা নেত্রীকে, খুন করে গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আর এসব কিছুই হচ্ছে শাসকদলের আশ্রিত দুষ্কৃতীদের নেতৃত্বে, পুলিশের ভূমিকা নীরব দর্শকের। মঙ্গলবার বীরভূমের কীর্ণাহারে এ প্রসঙ্গেই সরব হন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, ‘ যেখানে এই ধরনের স্বৈরাচারী শাসক আছে সেখানে গণতন্ত্র নেই। তারা বিরোধীদের ভয় দেখায়, হত্যা করে, কেস দেয়। এটাই হচ্ছে পশ্চিমবাংলায়, এটা যত বাড়বে পরিবর্তন তত তাড়াতাড়ি হবে। রাজ্যের মানুষ ত্রাহিত্রাহি করছেন এই অত্যাচারে।’

তিনি আরও বলেন,’ তৃনমূলের দলের লোকেরাও আজ সুরক্ষিত নয়, তাদেরও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে প্রাণ যাচ্ছে। রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা বলে কিছু নেই, রাজনৈতিক হিংসায় ছেয়ে গিয়েছে। এর পরিবর্তনের জন্য বিজেপি লড়াই করছে। অনেকে কর্মী মারা গিয়েছেন, আরও মারা যাবেন। কিন্তু আমরা এর শেষ দেখে ছাড়বো।’ এদিন রাজ্যে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, পুলিশের ভূমিকা এখান পালটে গিয়েছে। তারা মানুষের সেবা করার জন্য শপথ নিয়েছিল। সাধারন মানুষের দেওয়া পয়সা থেকে তাদের উর্দি কিনে দেওয়া হয়, বেতন দেওয়া হয়। কিন্তু তারা তৃনমূলের ক্যাডারের মত কাজ করছেন। এটা আমি বলছি না সমাজের প্রত্যেকটি মানুষ এই কথা বলছে।’

নবান্নে এদিন মুখ্যমন্ত্রী দিলীপ ঘোষের উদ্দেশ্যে কটাক্ষ করেন, ‘ পুলিশ ও তার পরিবারকে অপমান করার অধিকার আপনাকে কে দিয়েছে?’ মেদিনীপুরের সাংসদ এর পাল্টা বলেন, ‘ আমিতো সব পুলিশকে খারাপ বলিনি। দুর্নীতিগ্রস্ত,অত্যাচারী পুলিশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছি। যারা খুনকে ময়নাতদন্তের আগেই আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করে। মিথ্যা কেস দিয়ে থানায় নিয়ে গিয়ে মেরে কিডনি ফাটিয়ে দেয়।’  শান্তিকেতনের পাঁচিল ভাঙা প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘ তৃনমূল পার্টি এখানে জমি দখল করে দুস্কৃতিদের বসিয়ে দিচ্ছে, টাকা নিয়ে ব্যবসায়ীদের বসিয়ে দিচ্ছে। যে হেতু উপাচার্য পাঁচিল দিয়ে সেটা আটকাতে চেয়েছেন তাই তার বিরুদ্ধে আন্দোল হচ্ছে। তাঁর বাড়িতে, অধ্যাপকদের বাড়িতে ঢিল মারা হচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত বিধায়ক,কাউন্সিলার গিয়ে দেওয়াল ভেঙে দিয়েছে। এখানে গায়ের জোরে লুটপাট, মাফিয়া রাজ চলছে। এখানে শিক্ষা ব্যবস্থা এবং শিক্ষাঙ্গন কোনটায় সুরক্ষিত নয়।’

তিনি আলুর দাম বেড়ে যাওয়ার প্রসঙ্গে বলেন, ‘হিমঘরেতে আলু রাখা, চাষীরা সরাসরি সরকারকে ধান দেওয়ার আগে তা কিনে নেওয়া, রাইসমিলের কাছে ধান বিক্রী করে টাকা নেওয়া এই সমস্ত কিছু তৃনমূলের লোকেরাই করে। এটা পার্টি জানে এবং খাদ্য মন্ত্রীও জানেন। এটা পরিবর্তনের কোন চেষ্টা নেই কারন পুরো তৃনমূল পার্টি এর মধ্যে যুক্ত হয়ে গিয়েছে। রাজ্যে বালি, পাথর, কয়লা পাচারের মধ্যে তৃনমূলের লোকজন জড়িয়ে আছে। বিজেপি কর্মীরা রুখতে গিয়ে কেস খেয়েছে। তাই আমরা সাধারন মানুষকে বলবো কিছু মানুষ দেশের সম্পত্তি লুট করে খাওয়ার চেষ্টা করছে। সাধারন মানুষকে নিয়ে প্রতিরোধ করা হবে।’

Related Articles

Back to top button
Close