fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

‘নির্বাচনের আগে কুত্‍সা রটাতেই দলীয় কর্মীদের হত্যা করছে বিজেপি’ তোপ মমতার

"জোরে ধামসা বাজান, উলুধ্বনি দিন মা -বোনেরা, কৃষকদের পাশে থাকুন

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: রানিগঞ্জের সভা থেকে বিজেপিকে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী।একুশের নির্বাচনকে পাখির চোখ করে মঙ্গলবার রানিগঞ্জে সভা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকেই বিজেপিকে একহাত নেন তিনি। উত্তরকন্যা অভিযানে মৃত উলেন রায়ের নাম না করেই দাবি করেন গোটা ঘটনা পদ্মশিবিরের চক্রান্ত। তিনি বলেন, “বিজেপি কুত্সা করে ঝড়ে বেগে। মিথ্যা কথা বলে। লোক মারে। নিজেরাই মিছিল করে নিজের লোক মারে। ওই পার্টি আমরা নই। আমরা ঝড়ের বেগে উন্নয়ন চাই।” কথার রেশ টেনে বলেন, “ওঁরা নির্বাচনের সময় বাইরে থেকে গুন্ডা নিয়ে এসে উস্কায়। বিজেপি ঝড়ের বেগে কুত্সা রটায় আর আমাদের ঝড়ের বেগে কাজ শেষ করতে হবে।”এর পাশাপাশি  “কৃষকদের আন্দোলনকে সমর্থন করি। তাই তাঁদের সম্মান জানিয়ে তিনটের পর সভা শুরু করেছি”, রানিগঞ্জের সভা থেকে বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

উত্তরকন্যা অভিযানে পুলিসের ‘গুলি’তে দলীয় কর্মীর মৃত্যুর প্রতিবাদে মঙ্গলবার বাংলা জুড়ে ১২ ঘণ্টার বনধের ডাক দিয়েছে বিজেপি। চলছে প্রতিবাদ, মোমবাতি মিছিল। ইতিমধ্যেই ঘটনার রিপোর্ট পেশ করা হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে। মঙ্গলবার যখন রাজ্য জুড়ে চলছে বিজেপির প্রতিবাদ মিছিল, তখন রানিগঞ্জে সভা করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘটনায় সোমবার তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এদিন  রাজ্য সরকারের নানা প্রকল্পের কাজের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরেন তিনি। এরপর প্রশাসনিক সভা থেকে আচমকাই বিজেপিকে আক্রমণ করেন। কথার ভাজেই হঠাত্ বলে ফেললেন, “বিজেপি নিজের মিছিলে নিজেই লোক মারে।” তারপর আর এই প্রসঙ্গে একটিও শব্দ নয়। বললেন, “বিজেপি ঝড়ের গতিতে কুত্সা রড়ের গতিতে কাজ করতে হবে।”

একাধিক কেন্দ্রীয় সংস্থা বেসরকারিকরণ ইস্যুতে কড়া ভাষায় মোদি সরকারকে আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। সভায় উপস্থিত সাধারণ মানুষকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘বিজেপি কিছু দেবে না। ভোটের আগে অনেক কিছু বলবে। ওদের কাছে প্রচুর টাকা রয়েছে। একদিন ভোটের জন্য ৫ হাজার টাকা দেবে। বাকি ৩৬৪ দিন কীভাবে চলবে? কোনওদিন খেতেও দেবে না। রাস্তায় বেরতেও দেবে না।’ এদিন ফের বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে ‘বহিরাগত গুন্ডা’ বলে তোপ দেগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘ওনারা এসে বাংলায় ভাগ করতে চাইছে। এরা বাংলায় এনআরসি করতে চায়।’রানিগঞ্জের সভা থেকে ফের হুঙ্কার ছুঁড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘বাংলাকে কোনওভাবেই গুজরাট হতে দেব না।’ মঞ্চ থেকে সবর্ধম সমন্ময়ের ডাক দেন তিনি। ধর্ম-বর্ন নির্বিশেষে একসঙ্গে বাংলায় বাস করার আহ্বান করেন। প্রতিশ্রুতি দেন কর্মসংস্থানের। সকলের পাশে থাকার। মনে করিয়ে দেন, মমতা সরকার কীভাবে বিপদে-আপদে সব পরিস্থিতিতে মানুষের পাশে থাকে।

কৃষক সংগঠনগুলির ডাকা ভারত বন্‌ধের প্রভাব পড়েছে রাজ্যজুড়েই। তারই মধ্যে দেশ জুড়ে নয়া কৃষি বিল প্রত্যাহারের দাবিতে হওয়া এই ধর্মঘটকে নৈতিকভাবে সমর্থনও জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস.। রানিগঞ্জের জনসভা থেকে আবারও কৃষকদের পাশে থাকার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। “জোরে ধামসা বাজান, উলুধ্বনি দিন মা -বোনেরা, কৃষকদের পাশে থাকুন “এইভাবেই কৃষকদের পাশে থাকার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘কৃষকরা কৃষকবন্ধু হয়ে যান’ বলার পাশাপাশি ‘কৃষকদের মুখের খাবার কেড়ে নিচ্ছি বিজেপি’ বলেও তোপ দাগেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘আমি নিজে ২৬ দিন অনশন করেছি, তাই ওদের কথা বললে আমার মনটা কাঁদে’। ‘কৃষকদের আন্দোলন জয়ী হোক’ বলেও মন্তব্য করেন মুখমন্ত্রী।তিনি বলেন, ‘আমরা কৃষকদের সঙ্গে আছি, শ্রমিকরা আমাদের সম্পদ’।

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আজকে আমি আন্দোলনে কৃষকদের সমর্থন করতে এসেছি’। ‘আজ আমাদের ব্লকে ব্লকে কষকদের আন্দোলনের সমর্থনে প্রদর্শন চলছে’ বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি ‘শস্য বিমা বিনাপয়সায় করে দিয়েছি’ বলেও জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘কৃষকদের টাকাটাও রাজ্য সরকার দেয়’ বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। ‘কৃষকদের বাঁচাবার জন্য কৃষক ক্ষেত বাঁচাবার জন্য বাংলা সারা ভারতবর্ষকে সমর্থন করে।’ ‘কৃষকদের আন্দোলন জয়ী হোক। আমি নিজে ২৬ দিন অনশন করেছি। কৃষিজমি জোর করে দখল করা যাবেনা সেজন্য’। ‘কৃষকরা আমাদের সম্পদ’ বলেও আজকের সভা থেকে কৃষকদের পাশে থাকার বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

 

 

 

 

 

 

 

 

Related Articles

Back to top button
Close