fbpx
কলকাতাহেডলাইন

 বিজেপি পরিকল্পনা করে বাংলায় করোনা ঢোকাচ্ছে, অভিযোগ ফিরহাদের

অভিষেক গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: ‘বিজেপি নিজেদের অপমান ঢাকতে পরিকল্পনা করে বাংলায় কোরোনা ঢোকাচ্ছে।’ বিস্ফরক মন্তব্য করলেন পুরমন্ত্রী তথা পুর প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম। শুক্রবার কলকাতায় খিদিরপুর এলাকায় এক সাংবাদিক বৈঠকে চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন ফিরহাদ। পরিসংখ্যান অনুযায়ী অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় এ রাজ্যে প্রতি দশ লক্ষে মৃত্যুর হার অনেকটাই কম। আর সেই তথ্যকে হাতিয়ার করেই এবার বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। এর আগে রাজ্য সরকারি তরফে বলা হয় ভারতীয় রেল মন্ত্রক জোর করে বেশি বেশি পরিযায়ী শ্রমিক পাঠিয়ে রাজ্যের মানুষকে বিপদে ফেলতে চাইছে।

এত শ্রমিকের জন্য রাজ্যের কাছে উপযুক্ত পরিকাঠামো নেই। ধীরে ধীরে পাঠানো হোক তাতে পরিকাঠামো তৈরি করা যাবে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহকে নালিশ ও জানায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি তোপ দাগলেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেন, ‘বিজেপি পরিকল্পনা করেই পরিযায়ী শ্রমিক পাঠিয়ে পশ্চিমবঙ্গে সংক্রমণ বাড়াতে চাইছে। দিল্লী, মহারাষ্ট্র, গুজরাট ও হরিয়ানায় সবথেকে বেশি সংক্রমণ ছড়িয়েছে। ওইসব রাজ্যে ক্ষমতায় রয়েছে বিজেপি। তাই তারা নিজেদের অপমান কমাতে বাংলায় করোনা ঢোকাচ্ছে।’  পাশাপাশি তার আরও দাবি, এই রাজ্যে যতটা সম্ভব কঠোরভাবে সাধারণ মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক দের একাংশের মত, এতদিন ধরে এরাজ্যে করোনা মোকাবিলার জন্য কোন পরিকাঠামো তৈরি করতে পারেনি এই সরকার। তাই আগেভাগেই পরিযায়ী শ্রমিক নিয়ে বিজেপির ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে বাঁচতে চাইছে তৃণমূল।

এদিন ফিরহাদ হাকিম রাজ্যের মৃত্যুর হার এবং সক্রিয় করোনা চিকিৎসারত্দের পরিসংখ্যান জানিয়ে দাবি করেন অন্যান্য রাজ্যের থেকে সংক্রমণের দিকে পশ্চিমবঙ্গের অবস্থা অনেকাংশেই ভালো। তিনি বলেন, ‘রাজ্যে প্রতি ১০ লাখে মৃত্যুর হার ৩.৪২ শতাংশ। অন্যদিকে যেটা দেশে ৪.২৮ শতাংশ।’ এরপরে তিনি পশ্চিমবঙ্গের সক্রিয় চিকিৎসাধীন এর পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান, এই রাজ্যে প্রতি ১০ লাখে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৩৫.০৯ শতাংশ। সারা দেশে এই হার ৬৯.১০ শতাংশ। তার কথায়, ‘অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে অবস্থা অনেক ভালো। গুজরাট মধ্যপ্রদেশের অবস্থা বললে আপনাদের লজ্জা লেগে যাবে। এমনকি মোদীজি ও অমিত জির রাজ্যের অবস্থা এত খারাপ হলে দেশের অবস্থা কি হবে সেটা একবার ভাবুন।’

আরও পড়ুন: ‘মানুষের পাশে না দাঁড়িয়ে ভয়ে তিনমাস মুখে লিউকোপ্লাস্ট লাগিয়ে লুকিয়ে ছিলেন’ বিজেপি নেতৃত্বকে তোপ মমতার

এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে ফিরহাদ সরাসরি দিলীপ ঘোষকে আক্রমণ করে বলেন, ’29 তারিখ যখন মুখ্যমন্ত্রী লকডাউন শিথিল করার কথা বললেন তখন তিনি ঝামেলা করলেন। এদিকে ঠিক তার পরের দিন যখন কেন্দ্র লকডাউন শিথিল করার কথা বলল তখন তার ঠোঁট মুখ ভোঁতা হয়ে গেল। লকডাউন হওয়ার আগেই যদি পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরানো যেত তাহলে এইভাবে রাজ্যে সংক্রমণ বাড়ত না। পরিকল্পনা করে বিজেপি রাজ্যকে বিপদে ফেলল।’ অন্যদিকে হুগলির তেলিনীপাড়া যে দাঙ্গার ছবি সামনে এসেছিল সেই প্রসঙ্গে ফিরহাদ জানান, ‘হুগলির তেলেনি পাড়ার ঝামেলাকে সাম্প্রদায়িক ছাপ দিয়েছে বিজেপি। পাকিস্তানে হিন্দু বিরোধী ভিডিওকে তেলিনিপারা ভিডিও বলে চালাতে চেয়েছিল তারা। কিন্তু পুলিশ তা ধরে ফেলেছে।’ তিনি সাফ জানিয়ে দেন ‘বাংলাকে উত্তরপ্রদেশ গুজরাট হতে দেব না।’

Related Articles

Back to top button
Close