fbpx
গুরুত্বপূর্ণদেশহেডলাইন

বিজেপি রাজস্থানে নির্বাচিত সরকার ফেলার চেষ্টা করছে, তা কি জানেন? প্রশ্ন ছুঁড়ে, মোদিকে চিঠি গেহলটের

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক:  রাজ্যস্থানে টলমল করছে গেহলটের গদি। পাইলট বনাম গেহলট দ্বন্দ্বে রাজ্যস্থানের রাজনীতি নিয়ে একের পর এক নাটকীয় মোড়। বিজেপি যে রাজস্থানে নির্বাচিত কংগ্রেস সরকার ফেলার চেষ্টা করছে, তা কি নরেন্দ্র মোদি জানেন! খোদ প্রধানমন্ত্রীকেই চিঠি লিখে রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট এই প্রশ্ন ছুড়লেন।

কংগ্রেসের কথায় বিজেপিতে নরেন্দ্র মোদি অমিত শাহর অনুমতি ছাড়া গাছের পাতা নড়ে না। সেখানে ঘোড়া কেনাবেচায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর নাম জড়ানোর পরে প্রধানমন্ত্রী জানেন না সেটা হয় না। মন্ত্রী গজেন্দ্র সিংহ শেখাওয়াতের বিরুদ্ধে টাকা দিয়ে কংগ্রেসের দল ভাঙানোর অভিযোগ উঠেছে। গোটা বিষয় জানিয়ে গেহলট মোদিকেই চিঠিতে লিখেছেন, ”আমার জানা নেই এ সম্পর্কে আপনি কতখানি অবহিত অথবা কতখানি আপনাকে অন্ধকারে রাখা হয়েছে।” একই সঙ্গে গহলৌতের ‘সাবধানবাণী’— ”ইতিহাস এমন কাজকর্মে জড়িত কাউকেই ক্ষমা করে না।’ বিজেপির বক্তব্য রাজস্থানের সরকারের এই পরিস্থিতিতে বিজেপির হাত নেই। পুরোটাই কংগ্রেসের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল। শচীন পাইলট এবং তার অনুগামী ১৮ জন নেতার বিধায়ক পদ খারিজের দাবির ব্যাপারে স্পিকার বক্তব্য জানার জন্য নোটিশ পাঠিয়েছিলেন।

রাজস্থান হাইকোর্ট শুক্রবার পর্যন্ত স্পিকারকে কোনো পদক্ষেপ করতে না বলায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন স্পিকার সিপি যোশী। তার যুক্তি স্পিকার বিধায়ক পদ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। হাইকোর্টের নির্দেশে সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়েছে। জোশীর যুক্তি, স্পিকারই বিধায়ক পদ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তা ছাড়া তিনি বিধায়কদের জবাব চেয়ে নোটিস পাঠিয়েছেন। কারও বিধায়ক পদ খারিজ করেননি। হাইকোর্টের নির্দেশে রাজ্যে সাংবিধানিক সঙ্কট তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি অরুণ মিশ্রর বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হবে।

বুধবার মুখ্যমন্ত্রীর ভাই অগ্রসেন গেহলটের বাড়ি ও অফিসে আট বছরের পুরনো একটি মামলার সূত্রে ইডি হানা দেয়। অগ্রসেনের মালিকানাধীন সংস্থা ‘অনুপম কৃষি’র বিরুদ্ধে আর্থিক নয়ছয়ের অভিযোগ রয়েছে বলে ইডি-র দাবি। রাজস্থানের ছ’টি, গুজরাতের চারটি, পশ্চিমবঙ্গের দু’টি ও দিল্লির একটি জায়গায় ইডি হানা দিয়েছে।

আরও পড়ুন: আতঙ্ক বাড়িয়ে দীর্ঘ তালিকা! দেশে একদিনেই আক্রান্তের সংখ্যা ৪৫ হাজারের গণ্ডি পার করল

কংগ্রেসের যুক্তি, এত পুরনো মামলায় ইডি-র সক্রিয়তা থেকেই স্পষ্ট, মোদি সরকারও গেহলট সরকারের উপর চাপ তৈরি করতে চাইছে। এমতাবস্থায় গেহলট মোদিকে চিঠিতে মনে করিয়েছেন, দল বদল রুখতে রাজীব গাঁধী সরকারের তৈরি আইন অটলবিহারী বাজপেয়ীর জমানায় আরও শক্তপোক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু এখন রাজ্যে রাজ্যে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ঘোড়া কেনাবেচা চলছে। রাজস্থানের খেলায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শেখাওয়াত, বিজেপির অন্য নেতাদের সঙ্গে কংগ্রেসের কিছু উচ্চাকাঙ্ক্ষী নেতাও জড়িত। এঁদের মধ্যে কংগ্রেস বিধায়ক ভাঁওয়ারলাল শর্মা বিজেপিতে থাকার সময় বিজেপিরই ভৈঁরো সিংহ শেখাওয়াতের সরকার ফেলার চেষ্টা করেছিলেন। আবার কংগ্রেসের বিধায়ক গিরিরাজ সিংহ মলিঙ্গা বিজেপির হয়ে ভোট করার জন্য ৩৫ কোটি টাকার প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন সচিন পাইলটের বিরুদ্ধে। সচিন আজ তাঁকে প্রতীকী ভাবে ১ টাকা দিয়ে লিখিত ক্ষমা না চাইলে মানহানির মামলা করা হবে বলে নোটিস পাঠিয়েছেন।

অন্যদিকে বিজেপির বক্তব্য রাজস্থানের সরকারের এই পরিস্থিতিতে বিজেপির হাত নেই। পুরোটাই কংগ্রেসের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল। শচীন পাইলট এবং তার অনুগামী ১৮ জন নেতার বিধায়ক পদ খারিজের দাবির ব্যাপারে স্পিকার বক্তব্য জানার জন্য নোটিশ পাঠিয়েছিলেন।

Related Articles

Back to top button
Close