fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

অসহায় আয়াদের ‘হারানো সুর’ ফেরানোর লড়াইয়ে পাশে দাঁড়াল বিজেপির শ্রমিক সংগঠনও

শান্তনু অধিকারী, সবং: চলচ্চিত্রের পর্দায় আমরা অনেক ‘গভর্নেস’ দেখেছি। তাঁদের প্রতি উজাড় করে দিয়েছি আমাদের অকুণ্ঠ ভালোবাসা। ‘হারানো সুর’-এর সুচিত্রা কিংবা ‘জয়জয়ন্তী’র অপর্ণা আজও তামাম বাঙালির নস্টালজিয়া। কিন্তু বাস্তবের ‘গভর্নেস’রা? ভালোবাসা পাওয়া দূর, সারাজীবনের সঙ্গী কেবল ‘আয়া’ হওয়ার তাচ্ছিল্য। না আছে কাজের সম্মান, না আছে উপার্জনের কোনও নিশ্চয়তা।পরিস্থিতি আরও বেগতিক হয়েছে করোনার জেরে। হাসপাতালগুলোতে এখন আর তেমন সাধারণ রোগিরা আসেন না। ফলে তলানিতে ঠেকেছে আয়াদের রোজগার।

দুর্ভাগ্যের দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে হাসপাতালের অসংগঠিত কর্মচারীদেরও। যাঁরা ‘একশো টাকার কর্মচারী’ হিসেবেই পরিচিত। রাত জেগে রোগিদের সেবা দেওয়া এই ‘এঁদের’ জীবনেই আজ নেমে এসেছে গভীর অন্ধকার। দু’বেলা সংসারে হাঁড়ি চড়াতেই হিমশিম খাচ্ছেন তাঁরা। লকডাউনে তাঁরা কেবল গৃহবন্দিই হননি, আটকা পড়েছেন চরম দুর্দশার দুর্বিপাকেও! ফলে দিনদিন বাড়ছে উদ্বেগ। তীব্রতর হচ্ছে সংকট। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দীপ জ্বালাতে বলেছিলেন। করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সংঘবদ্ধতার বার্তা দিতে। এবার মানবতার প্রদীপ জ্বালাল বিজেপির শ্রমিক সংগঠন বিজেএমটিইউসি-র পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা শাখা। এদিন তাঁদের উদ্যোগে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হল জেলা হাসপাতালের আয়া ও অসংগঠিত শ্রমিক কর্মীদের মধ্যে।

শহরের বিদ্যাসাগর স্মৃতি মন্দির চত্বরে এদিন এই খাদ্যসামগ্রী বিতরণের অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়। সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করে প্রায় চল্লিশ জন আয়ার হাতে তুলে দেওয়া হয় ত্রাণ। উপস্থিত ছিলেন বিজেএমটিইউসি-র রাজ্য সহ-সভাপতি, বিজেপি পশ্চিম মেদিনীপুর প্রাক্তন জেলা সম্পাদক শঙ্কর দাস, জেলা কমিটির কর্যকারী সভাপতি পবিত্র সাউ, সাধারণ সম্পাদক নবীন গিরি-সহ বিধান কর, কুমার রাজীব রঞ্জন, শ্রীমতী-কুহেলী দত্ত প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

 

পবিত্রবাবু জানান, ‘আয়ারা খুব সংকটে রয়েছেন। ওঁদের পাশে দাঁড়ানোটা খুব জরুরি ছিল।’ অবশ্য এই প্রথমবার নয়। এর আগেও ত্রাণের পসরা নিয়ে এগিয়ে এসেছে বিজেএমটিইউসি। বড়বাজারের প্রায় ৮০জন দোকান কর্মচারীদের হাতে তাঁরা তুলে দিয়েছিলেন খাদ্যসামগ্রী। এবার পাশে দাঁড়ালেন দুস্থ আয়াদের। মূলত সংগঠনের সদস্যদের আর্থিক সাহায্যেই গড়া হয়েছে তহবিল। সেই তহবিল থেকেই চলছে ত্রাণবিলি। এদিন উপস্থিত আয়াদের মুখেও দেখা গেল স্বস্তির হাসি। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক দু’একজন তো আক্ষেপের সুরে বলেই ফেললেন, ‘আমাদের দিকে তো কেউ ফিরেও তাকায়নি। পরিবার পরিজনদের নিয়ে খুব সংকটেই রয়েছি।’ আজকের এই ত্রাণে তাঁদের দুটো বেলার আহারের বন্দোবস্ত হল। এতেই তাঁরা খুশি। সেই ‘খুশি’ দেখে তৃপ্ত পবিত্রবাবুরা জানালেন, ‘আগামীদিনেও এমন ত্রাণ বিলি চালিয়ে যাব।’

‘হারানো সুর’-এ গভর্নেসরূপী রমা সুরে সুরে ফিরে পেয়েছিলেন তাঁর ভালোবাসা। বাস্তবের ‘রমা’রা ফিরে পাক সম্মান। ফিরে আসুক তাঁদের জীবনে উপার্জনের নিশ্চয়তা। তাঁদের জীবনের ‘হারানো সুর’ ফেরানোর লড়াইয়ে পবিত্রবাবুরাও আজ তাঁদের সহযোদ্ধা! শরিক বিজেএমটিইউসিও!

Related Articles

Back to top button
Close