fbpx
কলকাতাপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

পুলিশী লকআপে বিজেপি নেতাকে খুনের অভিযোগ, প্রতিবাদে গণতন্ত্র বাঁচাও কর্মসূচি বিজেপির

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা, রায়গঞ্জ: রাজ্যে বিজেপি কর্মীদের মৃত্যু মিছিল চলছেই। এবারও সেই তালিকায় যোগ হল উত্তরবঙ্গের এক বিজেপি কর্মী অনুপ রায়ের নাম। গত ১৫ জুলাই উত্তরবঙ্গের হেমতাবাদের বিজেপি বিধায়ক দেবেন্দ্রনাথ রায়কে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। ২৯ জুলাই খুন হন পূর্ণচন্দ্র দাস, এরপর ঘোড়ামারায় খুন হন বিজেপি কর্মী গৌতম পাত্র। স্বাধীনতা দিবসের দিন আরামবাগে খুন হন বিজেপি কর্মী সুদর্শন প্রামাণিক। তার কয়েকদিন পরে আরও দুজন বিজেপি কর্মী খুন হন। বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ রায়গঞ্জের ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বলেন, ‘ সরকারের এটা নীতি হয়ে গিয়েছে পুলিশ দিয়ে পিটিয়ে মারো। শুনেছি অনুপের শরীরে ৫ টা গুলির চিহ্ন ছিল। সিভিক পুলিশ দিয়ে মৃতদেহ তুলে ময়নাতদন্তের পর বাড়িতে খবর দেওয়া হয়। আমরা শুক্রবার এই খুনের রাজনীতির বিরুদ্ধে গণতন্ত্র বাঁচাও অভিযানের ডাক দিয়েছি।’

এক্ষেত্রে কী ঘটেছিল? বুধবার দুপুর ১ টা নাগাদ অনুপ রায়কে পুরোনো একটি ছিনতাইয়ের মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে আসে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় অনুপ রায় অসুস্থ বোধ করায় তাঁকে রায়গঞ্জ গভর্মেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। বুধবার রাতে পুলিশ তড়িঘড়ি মৃতদেহ উদ্ধার করে রায়গঞ্জ গভর্মেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ মর্গে নিয়ে আসে। রাতের অন্ধকারেই ময়নাতদন্ত করায় বিক্ষোভে ফেটে পড়েন পরিবারের লোকজন সহ বিজেপি নেতা কর্মীরা। রাতেই হাসপাতাল চত্বরে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দিলে রায়গঞ্জ থানার বিশাল পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয়।

বিজেপির অভিযোগ, অনুপ কে পুলিশ লকআপে খুন করা হয়েছে। যদিও জেলা পুলিশসূত্রে দাবী করা হয়েছে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরনের কারনে অনুপ বাবুর মৃত্যু হয়েছে। পোস্ট মর্টেম রিপোর্টে স্বাভাবিক মৃত্যুর কথাই উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ইটাহারের নন্দনগ্রামের বাসিন্দা অনুপ রায় মাস ছয়েক হল সিপিএম ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। তিনি রাজবংশী সম্প্রদায়ের ও নেতা ছিলেন। মৃত অনুপ রায়ের মা দুলালী রায় এদিন কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন,” এলাকায় কারোর সাথে বিবাদ ছিলো না ছেলের। সুস্থ সবল ছেলেকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ। তারপর কী ভাবে তার মৃত্যু হলো? পুলিশ আর তৃণমূল মিলে ছেলেকে খুন করেছে। দোষীদের কঠোর শাস্তি চাই। ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে পুনরায় মৃতদেহের ময়না তদন্তের দাবী জানাচ্ছি।

আরও পড়ুন: বীরেন্দ্রকৃষ্ণের চণ্ডীপাঠ হোক পুজোর ৭ দিন আগেও, আকাশবাণীর কাছে আবেদন পুরোহিতদের

অন্যদিকে জেলা বিজেপি সভাপতি বিশ্বজিৎ লাহিড়ী বলেন,, ” থানার ভেতর প্রচন্ড মারধোর করা হয় অনুপ কে। মারের চোটে তার কিডনী সহ অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ভীষণ ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তৃণমূল কংগ্রেস ও পুলিশ পরিকল্পিত ভাবে খুন করেছে অনুপ কে। আর আসল সত্য লুকাতে পরিবারকে খবর না দিয়ে রাতের অন্ধকারে তড়িঘড়ি ময়না তদন্ত করা হয়েছে। আমরা পুনরায় ময়না তদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার দাবী জানাচ্ছি। এই খুনের প্রতিবাদে জেলা জুড়ে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। যদিও রায়গঞ্জ পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার সুমিত কুমার জানিয়েছেন, ‘অনুপ রায়কে পুরনো মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছিল থানাতে। অসুস্থ বোধ করায় তাঁকে রায়গঞ্জ গভর্মেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষনা করেন। ময়না তদন্তের রিপোর্টে স্বাভাবিক মৃত্যুর উল্লেখ রয়েছে। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।’

এদিন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, ‘ রাজ্যে এই রাজনৈতিক হিংসা, খুনের বিরুদ্ধে ”গণতন্ত্র বাঁচাও অভিযান’ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে ২০১৮ য় বলরামপুরে ত্রিলোচন মাহাতো, দুলাল কুমার, তারপর শিশুপাল সহিংস,, প্রায় ১০০ জন বিজেপি কর্মী খুন হয়েছেন। গান্ধী মূর্তির নিচে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেবো আমি, রাহুল সিনহা, মুকুল রায়সহ অন্য নেতারা। সব জেলায় এসডিও, ডিএম অফিসের সামনে বিক্ষোভ, অবস্থান হবে। কলকাতায় কোভিড পরিস্থিতিতে অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশি বাধা এলে অশান্তির দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দিলীপ ঘোষ। সন্ধ্যায় শহিদ কর্মীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিজেপি কর্মীরা বাড়িতে বাড়িতে প্রদীপ জ্বালাবেন।

Related Articles

Back to top button
Close