fbpx
কলকাতাহেডলাইন

স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বেহাল দশা দেখে চাপে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী: অনির্বাণ

পার্থ ধাড়া, কলকাতা: কয়েকদিন আগেই সাংবাদিক সম্মেলনে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘আমার বডির মধ্যে চুল্লি বানিয়ে দেহ সৎকার কর ‘। রাজ্য প্রশাসনের সর্বোচ্চ পদে আসীন একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এ ধরনের কটাক্ষ শুনে বিস্মিত হয়ে উঠেছিল রাজ্যবাসী। তাঁর এই মন্তব্যের জবাবে বিজেপি নেতা অনির্বাণ গাঙ্গুলী তাঁর ফেসবুক পেজে বলেন যে,’মুখ্যমন্ত্রী যে ভাবে কোভিড পরিস্থিতিকে হ্যান্ডেল করছেন তাতে মনে হচ্ছে যে গোটা পশ্চিমবঙ্গকেই তিনি চুল্লিতে পরিণত করেছেন। যাতে সাধারণ মানুষ রোজ সেই চুল্লিতে জ্বলতে পারেন।

 

স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন যে সরকার ম্যাজিসিয়ান নয়। অথচ ওনার দলের সাংসদ ডেরেকবাবু গত মার্চে বলেছিলেন যে কোভিড মোকাবিলায় রাজ্য সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত। কিন্তু এখন জুলাই মাস শেষ হতে চলল তবু কোভিড সংক্রমণ আটকানো কিংবা মোকাবিলা করা দুটি ক্ষেত্রেই হিমশিম খাচ্ছে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। শুধু দেখা যাচ্ছে যে সরকারী হাসপাতালগুলোকে সুপার স্পেশালিটি ঘোষণা করা হচ্ছে আর নীল-সাদা রঙ করা হচ্ছে। রঙের বরাত আবার অভিষেক ব্যানার্জিকে দেওয়া হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রীর করা মন্তব্যগুলো শুনে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে রাজ্যের বেহাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে খুব চাপে আছেন উনি।’প্রসঙ্গত গত সপ্তাহে শুভ্রজিৎ চ্যাটার্জি নামে আঠারো বছরের এক কিশোর ডায়াবেটিসের সমস্যা নিয়ে একটার পর একটা হাসপাতালে ঘুরেও বেড পায়নি। অবশেষে তার মা আত্মহত্যার হুমকি দিলে কলকাতা মেডিক্যালে বেড পায়। যদিও দীর্ঘ সময় চিকিৎসা না পেয়ে মারা যায় কিশোরটি। শুভ্রজিৎ-এর বাবা অভিযোগ করেন যে হাসপাতালে তখনও তিনটি বেড ছিল তাও ভর্তি নিতে চাইছিল না।

 

সাধারণ গরীব মানুষের অসুখ হলে একটাই ভরসার জায়গা হল সরকারী হাসপাতাল। কিন্তু সেই সরকারী ওয়েবসাইটে হাসপাতালে বেড খালি দেখালেও একটার পর একটা হাসপাতাল থেকে রোগী ফেরানো হচ্ছে। অন্তত শুভ্রজিৎ-এর বাবার কথাতেই তা স্পষ্ট হয়ে যায়। এ প্রসঙ্গে ডঃ অনির্বাণ গাঙ্গুলী বলেন যে ‘হাসপাতালের বেড নিয়েও সিন্ডিকেট চলছে। গত ১৪ ই জুলাই সরকারী ওয়েবসাইটে দেখা গেছে গোটা রাজ্যে ৩৮১৯টি বেডের মধ্যে মাত্র ৭৫০টি বেড খালি, শুধু তাই নয় কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ৫০০টি বেডের মধ্যে একটিও খালি নেই । তার মানে নিশ্চিত যে কোভিড মোকাবিলায় সরকারের কোনো প্রস্তুতিই নেই ।মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন যে জেলাতেও পর্যাপ্ত কোভিড হাসপাতাল তৈরী করেছেন। তাহলে কেন জয়নগর বা ইছাপুর থেকে রোগীদের কলকাতাতে আসতে হচ্ছে কেনো?’

 

রাজ্যের কনটেনমেন্ট জোনে দ্বিতীয় দফায় লকডাউন ঘোষণা হওয়ায় রোগীদের হাসপাতালে পৌঁছাতেই সমস্যা হচ্ছে তার উপর একের পর এক হাসপাতালে রোগী প্রত্যাখ্যান হয়েই চলেছে। এতে সাধারণ মানুষকেই দুর্ভোগে পড়তে হয়। যদিও মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন যে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় পশ্চিমবঙ্গ সেরা। কিন্তু গত কয়েকদিনের ছবি অন্তত সে কথা বলে না। সারা দেশে যখন সুস্থতার হার বাড়ছে তখন রাজ্যে সুস্থতার হার কমছে।মুখ্যমন্ত্রী নিজেই তা জানিয়েছেন তাঁর সাংবাদিক সম্মেলনে। কিন্তু সংক্রমণের হার ক্রমশ বেড়েই চলেছে। যা অত্যন্ত দুশ্চিন্তার বিষয়। তার পরেও হাসপাতালে হাসপাতালে রোগী প্রত্যাখ্যান। শুভ্রজিৎ-এর মৃত্যু এবং গত কয়েকদিনের ঘটনা রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আসল চেহারাকেই তুলে ধরেছে রাজ্যবাসীর সামনে।

Related Articles

Back to top button
Close