fbpx
পশ্চিমবঙ্গ

৪ নেতা গ্রেফতার নিয়ে তৃনমূলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ বিজেপির

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: আগ্নেআস্ত্র, বোমা ও গুলি সঙ্গে নিয়ে ডাকাতির
উদ্দেশ্যে বের হবার অভিযোগ এনে পুলিশ ধনেখালির চার বিজেপি নেতাকে গ্রেফতার করেছে। তারা সবাই এখন রয়েছে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর থানার পুলিশ হেপাজতে। শুক্রবার তাদের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন হুগলী জেলা বিজেপির সহসভাপতি মধূসূদন দাস সহ অন্য নেতা নেত্রীরা। একই সময়ে সিআইডির বোম ডিসপোজাল স্কোয়াড জামালপুরে দামোদরে তেলকুপি ঘাট এলাকায় নিস্কৃয় করে ধৃত বিজেপি নেতাদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া বোমাগুলি। থানা থেকে বেরিয়েই এই গ্রফতারি নিয়ে ধনিয়াখালির তৃণমূল নেত্রী অসীমা পাত্রর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন বিজেপি নেতা মধুসূদন দাস। যে বক্তব্য নিয়ে বক্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

সংবাদ মাধ্যমের ক্যামেরার মুখোমুখি হয়ে হুগলি জেলা বিজেপির দুপুটে নেতা মধুসূদন দাস বলেন, সমগ্র ধনিয়াখালি জুড়ে সন্ত্রাস রাজ কায়েম করেছেন অসীমা পাত্র। বিজেপির লড়াকু নেতা আশীষ দাস দীর্ঘদিন ধরেই অসীমা পাত্রর টার্গেটে ছিল। তাঁর নির্দেশে পুলিশ আগেও বহুবার আশীষকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছে। এমনকি এনকাউন্টার করেও মেরে দেবার প্রচেষ্টা চলেছে। তৃণমূলের নেতা ও নেত্রীদের কথা মতোই জামালপুর থানার পুলিশ পরিকল্পনা করে আশীষ সহ চার বিজেপি নেতাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছে।

আরও পড়ুন: রাজ্যের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি পাওয়া পূর্বস্থলীর স্কুল পরিদর্শণে শিক্ষক ও পরিদর্শকরা

মধুসূদন বাবু দাবি করেন, বিজেপির নেতা ও কর্মীরা অস্ত্র, বোমা ও গুলি নিয়ে ঘোরাঘুরি করেনা। বরং যারা অসীমা পাত্রর ডান ও বাম হাত বলে পরিচিত তাঁরাই ধনিয়াখালি এলাকায় অস্ত্র নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। প্রায়শই রাজ্যের কোথাও না কোথাও বোমা ফেটে তৃণমূলের কারোর হাত আবার কারোর পা উড়ে যাচ্ছে। অস্ত্র নিয়ে ঘোরা তৃণমূলের লোকজনকে পুলিশ দেখেও না দেখার ভান করে থাকে।

মধুসূদন বাবু আরও দাবি করেছেন, ধনেখালির যে চারজন বিজেপি নেতাকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে তারা সবাই নির্দোষ। মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর জন্য পুলিশই আশীষদের মারুতি গাড়িতে বোমা, বন্দুক সহ অন্য অস্ত্রসস্ত্র গুঁজে দিয়েছে বলে মধুসূদন বাবু অভিযোগ করেছেন। একই সঙ্গে হুগলীর এই বিজেপি নেতা এদিন স্পষ্ট জানিয়েদেন, তৃণমূলের নেতা ও নেত্রীরা পুলিশকে দিয়ে মিথ্যা মামলা দায়ের করে বিজেপি নেতা কর্মীদের জেলে ভরেও দমাতে পারবেনা। আগামীদিনে বিজেপি ধনিয়াখালির বুকে আরও বৃহত্তর লড়াই আন্দোলন শুরু করবে।

যদিও বিজেপি নেতার এই বক্তব্য অযৌক্তিক এবং হাস্যকর বলে মন্তব্য করেছেন মন্ত্রী অসীমা পাত্র। পাল্টা অভিযোগে তিনি বলেন, বুধবার ধৃতদের আদালতে পেশের আগে বিজেপির মণ্ডল সভাপতি আশীষ সংবাদ মাধ্যমকে বলেছিল তাঁদের দলের কার্যকর্তা বাপন মালিক ওই সব অস্ত্রশস্ত্র এনেছিল। আশীষের এই স্বীকারোক্তির পরেও বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি নির্লজ্জের মতো পুলিশ ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছেন।

আরও পড়ুন: বাম-কংগ্রেসের অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়ে গেছে: ফিরহাদ

পাল্টা অভিযোগে অসীমা পাত্র আরও বলেন, বিজেপির নেতারাই তাঁদের দলের কর্মীদের আরএসএসের ট্রেনিং দিয়ে হাতে অস্ত্র তুলেদিচ্ছে। আর ধরা পড়লেই বলছে তৃণমূল নেতাদের কথায় পুলিশ মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছে।

জামালপুর থানার পুলিশ বিজেপি নেতা মধুসূদন দাসের বক্তব্য ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছেন। এসডিপিও আমিনুল ইসলাম সেখ স্পষ্ট জানিয়েদেন, “মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১ টা নাগাদ জামালপুর থানার মহিষগড়িয়া এলাকায় টহল দিচ্ছিল পুলিশ। ওই সময়ে একটি মারুতি ওমনি গাড়িতে চড়ে ছয় জন দশঘড়া – খানপুর রোড হয়ে জামালপুরের দিকে আসছিল। পুলিশ দেখে মারুতি গাড়িটি বাঁক ঘুরিয়ে অন্য পথে পালানোর চেষ্টা করে। সন্দেশ হওয়ায় পুলিশ ওই গাড়িটির পথ আটকায়। তখনই দু’জন গাড়ি থেকে নেমে পালায়। গাড়ির চার আরোহীকে পুলিশ ধরে ফেলে। এরপর গাড়িতে তল্লাশি চালাতেই উদ্ধার হয় আগ্নেআস্ত্র, বোমা, গুলি সহ অন্য অস্ত্রসস্ত্র। পরদিন বুধবার ধৃতদের বর্ধমান আদালতে পেশ করে তদন্তের প্রয়োজনে ৪ দিনের পুলিশ হেপাজতে নেওয়া হয়েছে। ”

MIJANUR

Related Articles

Back to top button
Close