fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

রড, লাঠি দিয়ে মেরে বিজেপি নেতার হাত ও পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: রড ও লাঠি দিয়ে নির্মম ভাবে পিটিয়ে এক বিজেপি কার্যকর্তার হাত ও পা ভেঙে দেবার অভিযোগ উঠলো তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে ।

মঙ্গলবার রাতে এই ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর থানার ভেড়িলি বাজারে । আশঙ্কাজনক আবস্থায় বিজেপি কার্যকর্তা দেবব্রত শেঠকে স্থানান্তর করা হয়েছে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ।এই ঘটনার পরেই রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ চড়েছে জামলপুরে ।বিজেপি কার্যকর্তাকে মারধোরের ঘটনায় জড়িতদের খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ ।

জামালপুরের বিজেপি নেতা আশুতোষ মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ‘ভেড়িলি গ্রামেই বাড়ি বিজেপি শক্তি কেন্দ্রের প্রমুখ দেবব্রত শেঠের ।প্রশাসন বুধবার লকডাউন ঘোষণা করেছে বলে এদিন সন্ধ্যায় ভেড়িলি বাজারে সবজি কিনতে যান দেবব্রত বাবু । তখনই ওই এলাকার স্বপন , সাজু , ফিরোজ , হাবুল , আসগর ,জালাল সহ ১০ -১২ জন তৃণমূল কর্মী তার উপর চড়াও হয় । তারা রড় ,লাঠি ও বাঁশ নিয়ে দেবব্রত শেঠকে মারধোর করা শুরু করে । নির্মমভাবে মারধোর করে তৃণমূলের লোকজন দেবব্রত শেঠের ডান পা ও বাম হাত ভেঙে দিয়েছে ।এছাড়াও গোটা শরীরের একাধীক জায়গায় আঘাত রয়েছে দেবব্রতর ।’

বিজেপির জামালপুর মণ্ডলের সভাপতি রাহুল চৌধুরী বলেন , ’মারাত্মক জখম অবস্থায় বিজেপি কার্যকর্তা দেবব্রতবাবু মাটিতে লুটিয়ে পরার পরেও তৃণমূল কর্মীরা তাকে মারধোর করে চলে ।খবর পেয়ে জামালপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে দেবব্রত শেঠকে উদ্ধার করে জামালপুর ব্লক স্বস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যায় । সেখানে তাঁর প্রাথমিক চিকিৎসা হয় । শারীরিক অবস্থা সংকটজনক থাকায় রাতেই বিজেপি কার্যকর্তা দেবব্রত শেঠকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে । ’

জেলা বিজেপি সভাপতি সন্দীপ নন্দী জানিয়েছেন , এলাকায় বিজেপির দলীয় পতাকা লাগানোর জন্য রবিবার ভেড়িলি এলাকার এক বিজেপি নেতাকে তৃণমূল কর্মীরা মারধোর করেছিল ।এই ঘটনার পর দু’দিন কাটতে না কাটতে মঙ্গলবার রাতে একই এলাকার বিজেপি কার্যকর্তা দেবব্রত শেঠকে নির্মম ভাবে মের হাত পা ভেঙে দিল তৃণমূলের সশস্ত্র বাহিনী । তাকে প্রাণে মেরে দেবার উদ্দেশ্যেই মারধোর শুরু হয় । সন্দীপ নন্দী এদিন স্পষ্ট জানিয়ে দেন , জামালপুরে বিজেপি কর্মীদের উপর তৃণমূলের সন্ত্রাস মাত্রা ছাড়িয়েছে । ২৪ ঘন্টার মধ্যে পুলিশ হালাকারী তৃণমূল কর্মীদের গ্রেফতার না করলে বিজেপি পাল্টা প্রতিরোধে নামবে ।

জামালপুর ব্লক তৃণমূল নেতা তথা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মেহেমূদ খান বলেন , ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই । এদিন সন্ধার পর ভেড়িলি বাজারের একটি চায়ের দোকানে বসে ওই বিজেপি নেতা মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে আপত্তিকর কথাবার্তা বলছিলেন । বাজার এলাকায় থাকা লোকজন তার প্রতিবাদ করে । ধস্তাধস্তি শুরু হলে ওই বিজেপি নেতা ছুটে পালাতে যায় । গর্তে পড়ে গিয়ে তিনি আহত হন। তৃণমূলের বিরূদ্ধে মারধোরের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা । রাজনৈতিক ফায়দা লুঠতে বিজেপি এই ঘটনার সঙ্গে তৃণমূলের নাম জড়াচ্ছে ।

Related Articles

Back to top button
Close