fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

তপসিলিদের খুনের রাজনীতি করে সরিয়ে দেওয়ার জন্যই বিধায়ক হত্যা! বিস্ফোরক দুলাল

রক্তিম দাশ, কলকাতা: হেমতাবাদের তপসিলি বিধায়ক দেবেন্দ্রনাথ রায়ের রহস্যজনক মৃত্যুতে বাংলার নমশুদ্র সমাজে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

এই ঘটনায় সিবিআই তদন্তের দাবি ওঠেছে। এরই মধ্যে, ‘তপসিলিদের খুনের রাজনীতি করে সরিয়ে দেওয়ার জন্যই বিধায়ককে পরিকল্পনা করে হত্যা করা হয়েছে’! বলে বিষ্ফোরক মন্তব্য করলেন বাগদার বিধায়ক তথা বিজেপির এসপি মোর্চার সভাপতি দুলাল বর। শুধু তাই নয়, বিধায়ককের খুনে জড়িত প্রকৃত দোষিদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার না করা হলে বাংলার তপসিলিরা উত্তর দিনাজপুর জেলা অচল করে দেবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

এদিন যুগশঙ্খকে দুলাল বর বলেন, ‘আমি কয়েকদিন আগেই এই আশঙ্কা করেছিলাম। তা প্রমানিত হল। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর থেকেই তপশিলি সম্প্রদায়ের মানুষরা তৃণমূল থেকে সরে আসছিলেন। তখন থেকেই খুনের রাজনীতি শুরু। এরপর লোকসভায় বিজেপির সাফল্যে তৃণমূলের মাথা ঘুরে গিয়েছে। তপশিলি সম্প্রদায়ের সিংহভাগ বিজেপির পক্ষে গিয়েছে রাজ্য জুড়ে। তাই তাঁরা ছক কষে বিজেপির তপশিলি নেতা-কর্মীদের খুন করে ভয়ের রাজনীতি কায়েমর মাধ্যমে একুশের ভোটে পাশ করতে চাইছে। সেই পরিকল্পনার অঙ্গ হিসাবে হেমতাবাদের বিধায়ককে খুন করা হয়েছে।’
দুলালবাবু পরিসংখ্যান দিয়ে বলেন,‘গত পঞ্চায়তে নির্বাচন থেকে বাংলায় ১০১ বিজেপি কর্মী রাজনৈতিক কারণে তৃণমূলের দুষ্কৃতিদের হাতে খুন হয়েছেন। এর মধ্যে ৭৭ জন তপশিলি সম্প্রদায়ের মানুষ। এছাড়াও বিজেপি করার অপরাধে কয়েক হাজার তপশিলির নামে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে এলাকা ছাড়া করা হয়েছে।’

ক্ষুব্দ দুলালের প্রশ্ন,‘সিআইডি তদন্ত করে কি হবে? তারা তো রাজ্য সরকারের পক্ষে কথা বলবে। এতে আমাদের আস্থা নেই। তথ্য গোপন করবে। ময়নাতদন্তে কি হলো, এটা আত্বহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা হচ্ছে। আত্বহত্যা করলে হাত বাঁধা কেন? জিভ বেরিয়ে নেই ছবিতে দেখলাম এটা হলো কেন? মাটি থেকে সামান্য দূরত্বে তাঁর দেহ ঝুলছে। এসব দেখে সাধারণ মানুষ বুঝতে পারছে খুন হয়েছেন দেবেনবাবু। আর ওঁর কোন অবসাদ ছিল বলে আমার মনে হয় না। আমি দেবেনদাকে অনেকদিন ধরে চিনি বিধায়ক থাকার সুবাদে। খুব ভাল সংগঠক ছিলেন।’
দুলাল বর এদিন ফের অভিযোগ করে বলেন,‘ দেবেনদা খুন হলেন। এবার কি তবে আমার পালা? আমি আগেও বলেছি, আমি এবং বনগাঁ উত্তরের বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস খুনের চক্রান্ত করা হচ্ছে। এর জন্য বাংলাদেশের সুপারি কিলারদের নিয়োগ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় আইবি থেকে আমাদের এবিষয়ে সর্তক করে দিয়ে বলায় হয়েছে যাতে আমরা সাবধানে চলাফেরা করি রাত্রে। আমি ভয় পাইনা। যা হবে দেখা যাবে। যদি রাজনীতি করতে গিয়ে মৃত্যু হয় তাহলেও বিজেপির বিজয় রথ বাংলায় আটকাতে পারবে না তৃণমূল।’

Related Articles

Back to top button
Close