fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

আমরা মমতার সরকার লিজে নেব না: দিলীপ ঘোষ

শরণানন্দ দাস, কলকাতা: মহারাষ্ট্র থেকে পরিযায়ী শ্রমিক রাজ্যে পাঠানো সম্পর্কে ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহকে দায়িত্ব নিতে বলে বিতর্কের কেন্দ্রে। বৃহস্পতিবার এই প্রসঙ্গে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের কটাক্ষ, ‘ আমরা কারও সরকার লিজে নিই না। ওটা পিকেকে দেখুন।’

সল্টলেকের বাসভবনে সাংবাদিক বৈঠকে বিজেপি রাজ্য সভাপতি বলেন, ‘ আমরা রাজনীতি করিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলার সঙ্গে সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী রাজ্যে এলেন, মুখ্যমন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ঘুরলেন। রাজ্যকে ১০০০ কোটি টাকা দিলেন। কেন্দ্র সরকার সাহায্য করতে চায়। বারবার সঙ্কেত দিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ কথা বলছেন কেন? আজ আপনি বিফল হয়েছেন, তাই সরকারটা অন্য কাউকে  দিতে চাইছেন। সেটা হবে না, আপনাকেই পাঁচ বছর সামলাতে হবে। আমরাও দেখতে চাই। এতোদিন শাসন তো করেননি, জনগনকে শোষণ করেছেন। রেশন লুঠ, জনধন যোজনার টাকা আপনার ভাইয়েরা লুঠ করেছে। আর এখন পাকে পড়ে ময়দান ছাড়তে চাইছেন?

তিনি আরও বলেন, ‘ অন্যের সরকার ভাঙা বিজেপির সংস্কৃতি নয়। আমরা এটা নৈতিক ভাবে সমর্থন করি না। আমরা সহযোগিতা করতে চাই। কিন্তু আপনি বিজেপি নেতাদের বাড়ি থেকে বেরোতে দেবেন না, সাংসদকে কোয়েরান্টাইনের নোটিশ ধরাবেন, এরপর আমরা কি করে আশা করবো, আপনি সহযোগিতা চান। আপনি সহযোগিতাও চান না, নিজে কিছু করবেন না, অন্যকেও করতে দেবেন না। আপনি শুধু রাজনীতি করবেন।’

মেদিনীপুরের সাংসদ বলেন, ‘ আমি মেদিনীপুরে ঝড়ে বিধ্বস্ত এলাকায় যেতে চেয়েছিলাম, আমাকে যেতে দেওয়া হয়নি। অথচ দেব যেতে পারেন, পার্থ চট্টোপাধ্যায় যেতে পারেন। আর দিলীপ ঘোষ গেলেই দোষ! আমি তাই কর্মীদের বলছি মানুষের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে পুলিশ, তৃণমূলের সঙ্গে লড়তে হলে লড়বো। ‘

সুপ্রিয় কোর্ট এদিন জানিয়েছে, পরিযায়ী শ্রমিকদের দায়িত্ব রাজ্যকে নিতে হবে। শ্রমিকদের কাছ থেকে খরচ নেওয়া যাবেনা। এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘ কোর্ট বললেই রাজ্য সরকার মানবে, আমার তা মনে হয়না। এটা মানবিকতার প্রশ্ন, নৈতিকতার প্রশ্ন। আমাদের দেশে এমন উদাহরণ ভুরি ভুরি আছে। লিবিয়ায় গণবিদ্রোহের সময় প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী, আমাদের প্রাক্তন সেনাপ্রধান বিপি সিং নিজে বিমান নিয়ে আটকে পড়া মানূষদের উদ্ধার করে এনেছিলেন।’

এদিন তৃণমূলের মন্ত্রী সাধন পাণ্ডে ও বিধায়ক পরেশ পালের দ্বন্দ্ব নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘ এঁরা দুজনেই কলকাতার বিধায়ক, আর কলকাতায় পরিস্থিতি খুব খারাপ। এই সময় বিবাদ মিটিয়ে কাজ করা উচিত, নয়তো মানুষের কাছে ভুল বার্তা যাবে। এটা ওদের দলের দেখা উচিত।’

বিজেপি রাজ্য সভাপতি মনে করেন, আগামী দেড়, দু সপ্তাহ সংক্রমণ বাড়তে পারে। আগামী ১৫ দিন কলকাতা, মালদা, বীরভূম যেসব এলাকায় সংক্রমণ  বেশি সেখানে কড়াকড়ি বাড়াতে হবে। আমি মনে করি এখন লোকাল ট্রেন চালু করা উচিত নয়। দূরপাল্লার ট্রেন চালানোর ক্ষেত্রেও সতর্কতা বাড়ানো উচিত। একজন যাত্রীও করোনা আক্রান্ত হলে বাকিরা সংক্রমিত হবেন। ‘

Related Articles

Back to top button
Close