fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

ব্যর্থতা ঢাকতেই ভুয়ো প্রতিশ্রুতি মুখ্যমন্ত্রীর: দিলীপ ঘোষ

শরণানন্দ দাস, প্রদীপ্ত দত্ত, কলকাতা, সিউড়ি: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুধবার ঘোষণা করেছেন প্রয়াত করোনা যোদ্ধাদের পরিবারের একজন সদস্যকে চাকরি দেওয়া হবে। সেইসঙ্গে দেওয়া হবে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ।

 

এই প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বিজেপি রাজ্যসভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সম্পূর্ণ ব্যর্থ দিদি । দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছে। এখন সেদিক থেকে নজর ঘোরাতেই মিথ্যা প্রতিশ্রুতি’ দিচ্ছেন। চাপে পড়ে চমকদার ঘোষণা করছেন’। বুধবার তিনি মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে চাঁছাছোলা ভাষায় বলেন, ‘ দিদি মিথ্যা বলছেন, মানুষ ওঁর কথায় বিশ্বাস করে না।’ তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘যারা মারা গিয়েছেন তাঁদের ক্ষতিপূরণের কি হলো। সেইসব ডাক্তার, পুলিশ, সাধারণ মানুষ? উনি ক্ষতিপূরণ দেবেন না বলে লাশ গায়েব করে দিয়েছেন। বাড়ির লোকজন জানলো না, আত্মীয় স্বজন জানলো না অন্ত্যেষ্টি হয়ে গেল! এসব মিথ্যা কথা মানুষ অনেক শুনেছে, দিদিমণির কথায় কেউ বিশ্বাস করে না।’

এদিন আমফান ত্রাণ নিয়েও মুখ্যমন্ত্রী গেরুয়া শিবিরকে লক্ষ্য করে বলেন, ‘ ৯৯ শতাংশ লোক ক্ষতিপূরণ পেয়ে গিয়েছেন। তাও কোন কোন রাজনৈতিক দল বেশি বাড়াবাড়ি করছেন। মনে রাখবেন চ্যারিটি বিগিনস অ্যাট হোম।’ এর জবাবে দিলীপ ঘোষের টিপ্পনী, ‘ সেই ৯৯ শতাংশই তো পার্টির লোক। এখনও তো মানুষ ক্ষতিপূরণ না পেয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। আর চ্যারিটিটা আপনি শুরু করুন না। যাঁরা ক্ষতিপূরণের টাকা লুঠ করেছিলেন তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর করুন।’

বীরভূমে বেশকিছুদিন ধরে অনুব্রত মন্ডলকে দলীয় কর্মী সভায় দলের দুর্ণীতিগ্ৰস্ত নেতাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যাচ্ছে। মানুষের কাছে হাতজোড় করে ক্ষমাও চাইতেও দেখা যাচ্ছে । অনুব্রত মন্ডল তাঁর স্বভাবসিদ্ধ আক্রমনাত্মক ভঙ্গির বাইরে গিয়ে নতুন অবতারে আবির্ভাব হচ্ছেন। রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বুধবার দুবরাজপুরে অনুব্রত মন্ডলকে দলীয় কর্মীসভায় নয় জেলার সব মানুষের কাছে গিয়ে ক্ষমা চাইতে বলেন।

 

কটাক্ষ করে জানান, ” কতজনের কাছে ক্ষমা চেয়েছে ? আমাকে লিস্টটা দাও । বীরভূমের ২৫ লক্ষ মানুষ থাকলে সবার কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। ”
সেইসঙ্গে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান ,” রাজ্যে দিন দিন দুর্ণীতি বাড়ছে , হিংসা বাড়ছে , করোনাও বাড়ছে । যা কিছু খারাপ জিনিস পশ্চিমবঙ্গে সেটা বাড়ে ।এই সরকারের কোন কর্মক্ষমতা নেই আটকাবার।প্রথমে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন ,তারপর পালিয়ে যান । ”

হেমতাবাদের বিজেপি বিধায়ক দেবেন্দ্রনাথ রায়ের রহস্য মৃত্যু নিয়ে দিলীপ ঘোষ জানান, বিজেপির কেও মারা গেলে তা আত্মহত্যা হয় ,আর গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে তৃণমূলের কেও মারা গেলে বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে কেস দেওয়া হয় ।এটা এখন সাধারণ মানুষ বুঝে গেছে। পশ্চিমবঙ্গে যে রাজনৈতিক খুন , হিংসা হচ্ছে তা বাংলার পরম্পরা বিরোধী।এর বিরুদ্ধে আমরা লড়ছি । আর এই লড়াইয়ের সমাপ্তি হবে ২১ নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে ।

গত লোকসভা ভোটে তাঁর একটি বক্তব্যের বিরুদ্ধে দুবরাজপুর থানায় অভিযোগ দায়ের হয় । সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি হয় । তারই জামিন নিতে বুধবার দুবরাজপুর আদালতে আসেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

Related Articles

Back to top button
Close