fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

অর্জুন ঘনিষ্ঠ বিজেপি নেতা খুনে রণক্ষেত্র টিটাগড়, পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি-বোমা বাজি, শান্ত করতে লাঠিচার্জ

অলোক কুমার ঘোষ, ব্যারাকপুর: ব্যারাকপুরের বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং ঘনিষ্ঠ বিজেপি নেতা মণীশ শুক্লা খুনের ঘটনায় সোমবার রণক্ষেত্রের চেহারা নিল টিটাগড় এলাকা । রবিবার সন্ধ্যায় টিটাগড় থানার ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে বিটি রোডের পাশে প্রকাশ্য গুলিতে ঝাঁঝরা করে খুন করা হয় মণীশ শুক্লাকে । ব্যারাকপুরের বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিংয়ের ঘনিষ্ঠ দাপুটে বিজেপি নেতা তথা ব্যারাকপুর মহকুমা আদালতের আইনজীবী এবং টিটাগড় পুরসভার প্রাক্তন বিজেপি কাউন্সিলর ছিলেন জনপ্রিয় মনীশ । রবিবার রাতে তার মৃত্যুর ঘটনায় বিজেপি সোমবার ১২ ঘণ্টা ব্যারাকপুর লোকসভা এলাকা বন্ধের ডাক দিয়েছিল । সকাল থেকে ব্যারাকপুর বনধে থমথমে ছিল টিটাগড় এলাকা ।

 

এলাকার দোকান, বাজার, যানবাহন সবই বন্ধ ছিল । সোমবার সকালে বিজেপির কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদল কৈলাস বিজয়বর্গীয়র নেতৃত্বে টিটাগড়ে মনীশের বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে পাশে থাকার আশ্বাস দেয় । এই দল দুপুরে মনীশের বাড়ি থেকে চলে যেতেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে টিটাগড় এলাকা । দফায় দফায় বিজেপি সমর্থকরা বিটি রোড অবরোধ করে দুষ্কৃতীদের গ্রেফতারের দাবিতে । এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের বচসা শুরু হয় । পরে বিজেপি কর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি ও বোমা বাজি শুরু করলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে এলাকা শান্ত করে । গোটা ঘটনায় রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে টিটাগড় থানা সংলগ্ন এলাকা । এদিন টিটাগড় থানার সামনে যেখানে মণীশ শুক্লাকে খুন করা হয়, সেই এলাকাটি ঘুরে দেখেন ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা । তিনি বলেন, “খুনের ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে, তবে তদন্তের বিষয় নিয়ে এখনই কিছু বলা যাবে না ।”

          আরও পড়ুন: পশ্চিমবঙ্গে মাফিয়ারাজ চলছে, মুখ্যমন্ত্রীর হিম্মৎ নেই সিবিআই চাওয়ার: দিলীপ ঘোষ

এদিকে, মণীশ শুক্লা খুনের ঘটনায় বিজেপির কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদলের সদস্যরা প্রত্যেকেই ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের উচ্চ পদস্থ কর্তাদের যোগসাজশের অভিযোগ এনেছেন । স্থানীয় সাংসদ অর্জুন সিং এই খুনের ঘটনায় সরাসরি পুলিশের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন । তিনি বলেন, “মনীশ শুক্লাকে খুন করিয়েছে পুলিশই। এই খুনের ঘটনায় পুলিশের অস্ত্রই ব্যবহার করা হয়েছে ।” সোমবার সকালে বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং টিটাগড়ে এসে বলেন, “মণীশ শুক্লাকে পুলিশ প্ল্যান করে খুন করেছে । এই খুনে সামান্য কোন অস্ত্র ব্যবহার করা হয় নি । এই অস্ত্র ব্যারাকপুর লাটবাগানের পুলিশ ট্রেনিং কলেজ থেকে বেরিয়েছিল। যে বুলেট ব্যবহার করা হয়েছে তা পুলিশের মাধ্যমেই এসেছে।” তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, “এটি একটি রাজনৈতিক হত্যার ঘটনা। এই খুনের ঘটনাটি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অঙ্গুলি হেলনে ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের আধিকারিকরা ঘটিয়েছে। আমরা এই ঘটনায় সিবিআই তদন্তের দাবি করছি। সিবিআই তদন্ত ছাড়া এই খুনের আসল খুনিদের গ্রেফতার করা যাবে না।”

   আরও পড়ুন: আমফানে ক্ষতিগ্রস্তদের বরাদ্দ অর্থ নিয়ে দুর্নীতি… কালনায় বিডিও অফিস ঘেরাও কর্মসূচি বিজেপির

তিনি এদিন বলেন, “মণীশ শুক্লা রবিবার আমার সাথেই ছিল , আমরা গতকাল একসাথে আমরা বাউড়িয়া গেছিলাম। আমি কলকাতা চলে গেলাম আমার গাড়িতে আর মনীশ ওর নিজের গাড়িতে বাড়ি ফিরে গেল । ওর সাথে কোন নিরাপত্তা রক্ষীও ছিল না। কাল আমরা একসঙ্গে ফিরলে হয়তো আমরা দুজনে এক সঙ্গে মারা যেতাম। তবে এই ব্যারাকপুরে রক্ষকই এখন ভক্ষক হয়ে গেছে। সিবিআই তদন্তের দাবি করছি আমরা। আর পুলিশ এই ঘটনায় জড়িত বলেই থানার সামনে ঘটনা ঘটল আর থানার সিসি টিভি ক্যামেরা গুলো সব খারাপ হয়ে গেল, এটা মানা কি সম্ভব?” সেইসঙ্গে অর্জুন সিং জানান, দল মণীশ শুক্লার পরিবারের পাশে আছে। এই খুনের ঘটনার পর থমথমে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে গোটা ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চল জুড়ে। বিজেপি সমর্থকরা ব্যারাকপুর শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পথে দফায় দফায় অবরোধ করেছে সোমবার সকাল থেকেই । অবরোধ করা হয়েছে ব্যারাকপুর কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে, বিটি রোড, ঘোষপাড়া রোড, ব্যারাকপুর বারাসাত রোডে । টিটাগড়ে এদিন ঘটনাস্থলে যান ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা । তিনি বলেন, “ঘটনার তদন্ত চলছে, পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ আছে । তদন্তের বিষয়ে বেশি কিছু বলা সম্ভব নয় । আমরা তদন্তে সব দিক খতিয়ে দেখছি ।”

সোমবার দুপুরে বিজেপির এক কেন্দ্রীয় দল পৌঁছান টিটাগরে খুন হওয়া বিজেপি নেতা মনীশ শুক্লার বাড়িতে। এদিন মৃত বিজেপি নেতার টিটাগরের বাড়িতে পৌঁছান বিজেপির সর্ব ভারতীয় সহ সভাপতি মুকুল রায়, কৈলাশ বিজয়বর্গীয়, সাংসদ অর্জুন সিং, নোয়াপাড়ার বিজেপি বিধায়ক সুনীল সিং সহ অন্যান্য বিজেপি নেতারা। এদিন তারা মনীশ শুক্লার বাড়ি পৌঁছে মণীশ শুক্লার বাবা মায়ের সঙ্গে দেখা করেন । তাদেরকে সহানুভূতি দেওয়ার পাশাপাশি এই খুনের উপযুক্ত তদন্তের আশ্বাস দেন বিজেপি কেন্দ্রীয় দলের সদস্যরা। এদিন মণীশ শুক্লা পরিবারের সাথে দেখা করে সাংবাদিকদের মুখমুখি হয়ে কৈলাশ বিজয়বর্গী অভিযোগ করেন, “ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারের দুই আধিকারিকের কার্যকলাপ ও আচরন এই খুনের মামলায় যথেষ্ট সন্দেহজনক। কারন এই খুনের ঘটনা কোন সামান্য ঘটনা নয়, এতে পুলিশের বড় ভূমিকা রয়েছে । কারন মনীশ শুক্লাকে যে অস্ত্র দিয়ে মারা হয়েছে তা অত্যন্ত শক্তিশালী অস্ত্র সেটা যেকোন কারুর কাছে সহজে আসতে পারে না। তাই আমরা চাই এই খুনের ঘটনার তদন্ত রাজ্য পুলিশকে না দিয়ে সিবিআই এর তদন্ত করুক। আর এই ঘটনার উপযুক্ত জবাব সময় হলে সাধারন মানুষ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিয়ে দেবে।”

কৈলাস বিজয়বর্গীর পুলিশের ওপর আনা এই অভিযোগের বিরোধিতা করে তৃণমূলের মুখ্যসচেতক নির্মল ঘোষ সোমবার বলেন, “মণীশ হত্যায় মুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশের নাম জড়িয়ে বিজেপির করা মন্তব্য হাস্যকর । পুলিশকে বদনাম করছে বিজেপি । বিজেপির পুলিশের বিরুদ্ধে আনা এই অভিযোগ সর্বৈব মিথ্যা। বিজেপির গোষ্ঠী কোন্দলে খুন হয়েছে মণীশ, পুলিশ তদন্ত করে এই ঘটনায় দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার করবে । তৃণমূল হিংসার রাজনীতি করে না । বিজেপির ঘোরতর ষড়যন্ত্রে এই ঘটনা ঘটেছে ।” বিজেপির সর্ব ভারতীয় সহ সভাপতি মুকুল রায় ঘটনাস্থলে পৌঁছে বলেন, “যেখানে খুন করা হয়েছে, তা থানার ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে । এই ঘটনা পুলিশ জানেনা, এটা মানুষ বিশ্বাস করবে না । রাজ্যের পুলিশকে দিয়ে এই ঘটনার তদন্ত করলে দোষীরা ধরা পড়বে না । নিরপেক্ষ কেন্দ্রীয় সংস্থা এই ঘটনার তদন্ত করুক, সেটা আমরা চাই । মনীশের মৃত্যুর বিচার কেউ করুক বা না করুক মানুষ ২০২১ ভোটে এর বিচার করবে । কোন ভাবেই তৃণমূল বাংলায় টিকে থাকতে পারবে না।”

Related Articles

Back to top button
Close