fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

দলীয় কর্মী বাচ্চু বেরার মৃতদেহে ফুলের মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানালেন বিজেপির নেতা ও কর্মীরা

সুদর্শন বেরা, পশ্চিম মেদিনীপুর: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দাঁতন বিধানসভার অন্তর্গত মোহনপুর থানার শিয়ালসাই গ্রামের বিজেপির বুথ সহ-সভাপতি বাচ্চু বেরা কে তৃণমূল দুষ্কৃতীরা সোমবার নৃশংস ভাবে হত্যা করে বলে বিজেপি অভিযোগ করে।

একই অভিযোগ করে মৃত বিজেপি কর্মীর স্ত্রী গৌরী বেরা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ময়না তদন্তের পর বাচ্চু বেরার পার্থিব শরীর মেদিনীপুর শহরের সুভাষ নগরে বিজেপির জেলা পার্টি অফিসে নিয়ে আসা হয়।
সেখানে তাকে শ্রদ্ধাঞ্জলি দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় বিজেপির জোনাল কনভেনার অনুপম মল্লিক, রাজ্য সম্পাদক তুষার মুখার্জি, জোনাল কো-কনভেনার মনোজ পান্ডে, জেলার ২জন সাধারণ সম্পাদক ড: শংকর কুমার গুছাইত ও তপন ভূঁইয়া (মামা), সহ দলের অন্যান্য জেলা ও মন্ডলের নেতৃত্ববৃন্দ এবং কর্মী-সমর্থক গন।

মেদিনীপুর শহরে দলীয় কার্যালয় বাচ্চু বেরার মৃতদেহে শ্রদ্ধা জানানোর পর দলের রাজ্য সম্পাদক তুষার মুখার্জির নেতৃত্বে মৃতদেহ নিয়ে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দাঁতন বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত মোহনপুর থানার শিয়ালসাই গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কয়েক হাজার দলীয় কর্মী ও সমর্থক তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানায়।

এরপর কড়া পুলিশি ঘেরাটোপে বাচ্চু বেরার শেষকৃত্য ওই গ্রামেই সম্পন্ন হয়।এলাকায় যথেষ্ট উত্তপ্ত থাকায় প্রচুর পরিমাণ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে ছিলেন পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ।বিজেপির রাজ্য কমিটির সাধারণ সম্পাদক তুষার মুখার্জি বলেন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে এলাকাকে উত্তপ্ত করতে বিজেপি কর্মী বাচ্চু বেরা কে নৃশংসভাবে খুন করে গামছা গলায় দিয়ে গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। অথচ তার পা মাটিতে লেগে রয়েছে এবং তার শরীরে একাধিক আঘাতএর দাগ রয়েছে। আমরা ওই ঘটনার তীব্র নিন্দা করছি প্রকৃত তদন্তের জন্য সিবিআই তদন্তের দাবি করছি। রাজ্য পুলিশ দিয়ে প্রকৃত তদন্ত সম্ভব নয়। কারণ গতকাল পর্যন্ত পুলিশ আমাদের অভিযোগ নেই। তাই অভিযুক্ত তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের তিনি দ্রুত গ্রেপ্তার করার দাবি জানান।

সেই সঙ্গে তিনি বলেন তৃণমূল কংগ্রেস পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে খুনের রাজনীতি শুরু করেছে। আমরা রাজনৈতিকভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের এই খুনের মোকাবিলা করবো। মৃত বাচ্চু বেরার স্ত্রী গৌরী বেরা বলেন আমার দুই সন্তান একেবারে অসহায় হয়ে পড়ল। আমার স্বামীকে তৃণমূলের লোকেরা খুন করেছে। আমি খুনিদের শাস্তি চাই বলে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। যদিও বিজেপি দলের আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এলাকার বিধায়ক তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা বিক্রম প্রধান। তিনি বলেন যে কোনো মানুষের মৃত্যুর ঘটনা দুঃখজনক।

পুলিশ ওই ঘটনায় কারা জড়িত তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তার করবে ।তবে ওই ঘটনার সাথে তৃণমূল কংগ্রেসের কোন যোগ নেই। তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিজেপি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মিথ্যা অভিযোগ করছে। তৃণমূল কংগ্রেস খুনের রাজনীতি করেনা । তৃণমূল কংগ্রেস শান্তি ও উন্নয়ন চায়। তাই বিধানসভা নির্বাচনে ওই ঘটনাকে হাতিয়ার করতে চাইছে বিজেপি ।তবে বিজেপির স্বপ্ন সফল হবে না। কারণ দাঁতন বিধানসভা এলাকার মানুষ জানে তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা কোন বিরোধী দলের কর্মীকে খুন করেনি এবং খুনের ঘটনার সাথে জড়িত থাকে নি।

Related Articles

Back to top button
Close