fbpx
গুরুত্বপূর্ণদেশ

সুরমায় বিজেপিকে হারালে পেট্রোল-ডিজেলের দাম কমবে, ত্রিপুরার সঙ্গে বাংলার উন্নয়নের খতিয়ান তুলে প্রতিশ্রুতি অভিষেকের

যুগশঙ্খ, ওয়েবডেস্ক: ত্রিপুরা থেকেই উন্নয়নের খতিয়ান সহ একাধিক প্রতিশ্রুতি তুলে কেন্দ্র সরকারকে তুলোধনা করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পশ্চিমবাংলার সঙ্গে তুলনা করে অভিষেক বলেন, কেন দিল্লি শাসন করবে ত্রিপুরাকে? এই রাজ্যেকে শাসন করবে ভূমিপুত্র। ত্রিপুরায় আগামী ২৩ তারিখ চার কেন্দ্রে উপনির্বাচন। তার আগে প্রার্থীদের হয়ে জোর কদমে প্রচারে অভিষেক। কটাক্ষের সামনে বাদ পড়ল না অগ্নিপথ ইস্যু থেকে কেন্দ্রের ডবল ইঞ্জিন সরকার। প্রাকৃতিক দুর্যোগ কবলিত এলাকা আগরতলায় সোমবার প্রার্থীদের হয়ে প্রচার সারলেন তৃণমূলের এই তরুণ তূর্কী সেনাপতি।

প্রসঙ্গত, অগ্নিপথ প্রকল্প নিয়ে কৈলাস বিজয়বর্গীয়ের মন্তব্য ঘিরে বিতর্কে ঝড় উঠেছে। বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয় বলেন, ‘অগ্নিপথ প্রকল্পে যাঁরা চার বছর চাকরি করবেন, তাঁদের ভবিষ্যতে বিজেপি অফিসে দারোয়ান পদে চাকরির জন্যও অগ্রাধিকার দেওয়া হবে৷’ বিজেপি নেতার এই মন্তব্যে দেশজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে৷ এদিন আগরতলায় বিজয়বর্গীয়ের মন্তব্যের কড়া নিন্দা করে কৈলাস বিজয়বর্গীয়কে বহিষ্কারের দাবি তোলেন তিনি।

অভিষেক বলেন, ‘অগ্নিপথ’ প্রকল্প বিজেপির একটি অপরিকল্পিত প্রকল্প। বিজেপির মন্ত্রীর ছেলে বিসিসিআই-এর প্রেসিডেন্ট হবে, আর সাধারণ মানুষের খেটে খাওয়া ছেলে বিজেপির দরোয়ান হবে? আর কৈলাস বিজয়বর্গীয়’র ছেলে এমএলএ হবে? এই দ্বিচারিতা কিসের জন্য? অভিষেক যোগ করেন, চার বছর ধরে অগ্নিপথ করে, তাদের ভারতীয় সেনা হওয়ার অধিকার নেই? তাদের বিজেপির অফিসের দরোয়ান করা হবে? কেন্দ্রের প্রকল্প নিয়ে সমালোচনায় মুখর হয়ে এদিন তৃণমূলের এই সেনাপতি ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, নোটবন্দি থেকে কৃষক আইন সবই কেন্দ্রের অপরিকল্পিত পরিকল্পনা ছিল। অভিষেক বলেন,কিসের উন্নয়ন হয়েছে ত্রিপুরায়? বাংলায় সিঙ্গেল ইঞ্জিন সরকার চলছে, ত্রিপুরায় ডবল ইঞ্জিন সরকার কি করছে? ত্রিপুরা পরিবর্তনের দোরগোড়ায় রয়েছে। ত্রিপুরা থেকে বিজেপিকে তাড়াতে সকল বিরোধী দলগুলিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অভিষেক বলেন, বিজেপি কোনও প্রতিশ্রুতি রাখেনি। বলেছিল মিসড কলে চাকরি হবে, হয়নি। এদিনের এই সাংবাদিক বৈঠক থেকে সকলের উদ্দেশে অভিষেক বলেন, বিরোধীদের ভোট দেওয়া মানে বিজেপিকে দেওয়া। তৃণমূলে ভোট দেওয়া মানে তৃণমূলকে আরও শক্তিশালী করা।

তৃণমূল মানুষের জন্য মাথা নীচু করে কাজ করে। এই বৈঠক সেরে সুরমায় একটি জনসভা করেন অভিষেক। সেই সভা থেকে তৃণমূলের সেনাপতি একের পর এক কটাক্ষে বিদ্ধ করেন কেন্দ্র সরকারকে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের গলায় শোনা যায় তীব্র বিষোদাগার। অভিষেক কেন্দ্রের একাধিক নীতির তীব্র সমালোচনা করে বলেন, এটা একটি ভাঁওতাবাজির সরকার। ডবল ইঞ্জিন সরকার হল, ডবল চুরির সরকার। সিপিএমের মতো বিজেপিও উন্নয়ন চায় না। ত্রিপুরেশ্বরী মন্দিরে যাওয়ার সময়ে আমার ওপরে হামলা চালানো হয়। ত্রিপুরায় বার বার তৃণমূলের উপরে আক্রমণ চলছে। আসলে বিজেপি তৃণমূলকে ভয় পাচ্ছে।

অভিষেক এদিন মঞ্চ থেকে প্রশ্ন তুলে বলেন, বাংলায় ত্রিপুরার মতো লক্ষ্মীর ভাণ্ডার হবে না কেন? বাংলায় কন্যাশ্রী, যুবশ্রী হলে ত্রিপুরায় কেন নয়? আসলে বিজেপি হল একটা ভাইরাস, আর তৃণমূল ভ্যাকসিন। ত্রিপুরাবাসীর কাছে অভিষেকের আবেদন, ‘২০২৩ সালের ৬০টি আসনের মধ্যে বিজেপি যাতে ছ’টা আসনও না পায়, সেটা আপনারা নিশ্চিত করুন’। অভিষেক এদিন বলেন, সুরমায় বিজেপিকে হারান, প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি পেট্রোল-ডিজেলের দাম কমবে।

Related Articles

Back to top button
Close