fbpx
হেডলাইন

বিজেপি ও তৃণমূলের সংঘাত ঘিরে উত্তপ্ত বর্ধমান, আন্দোলনে নামলেন দুই বিজেপি সাংসদ

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান : বিধানসভা ভোটের  দামামা এখনো বাজেনি । তার আগেই তৃণমূল ও বিজেপির সংঘাত ঘিরে  উত্তপ্ত হয়ে উঠল পূর্ব বর্ধমানের রাজনৈতিক রণাঙ্গন । বিজেপি কর্মীদের মারধরের ঘটনার  প্রতিবাদ ঘিরে রবিবার রাত থেকে উত্তেজনায় ফুঁসছে শহর বর্ধমান।জেলার পুলিশ সুপারের কাছে ডেপুটেশান দেওয়া নিয়ে যার রেশ সোমবারও পুরোদস্তুর অব্যাহত থাকল।

 

 

 

হামলা ও মারধোরের ঘটনায় জড়িত তৃণমূলের নেতা ও কর্মীদের  শাস্তির দাবিতে রবিবার রাতে বর্ধমান থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখানো শুরু করে বিজেপি কর্মীরা । বিজেপি নেতা সুনীল গুপ্তার অভিযোগ থানা  ঘেরাও বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বিজেপি কর্মীদের উপর সেখানেও  হামলা চালায়  বর্ধমান পুরসভার  প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলার  খোকন দাস ও তার দলবল ।পুলিশের সামনে খোকন দাস ও তার দলবল রাস্তায় ফেলে বিজেপি কর্মীদের মারধর করে। জেলা বিজেপি  সভাপতি  সন্দীপ নন্দী বলেন , মারধোরের ঘটনা নিয়ে পুলিশের কাছে বারবার অভিযোগ জানানো হলেও পুলিশ কোন ব্যবস্থা নেয়নি।খোকন দাস সহ তার দলবল বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সন্দীপ নন্দী বলেন, শুধু শহর বর্ধমানই নয় । শাসক দলের লোকজন ,জেলা জুড়ে বিজেপি কর্মীদের উপর হামলা সন্ত্রাস চালাচ্ছে । অবিলম্বে হামলাকারী তৃণমূল নেতা খোকন দাস দাস ও তার দলবলের  গ্রেফতারের দাবিতে এদিন জেলার পুলিশ সুপারের দপ্তরে ডেপুটেশান দেওয়া হল । জেলার একাধীক থানাতেও  বিজেপি কর্মীরা এদিন দেখিয়ে ডেপুটেশন জমা দিয়েছে । এরপরেও শাসক দলের সন্ত্রাস বন্ধে পুলিশ কোন ব্যবস্থা না নিলে  বিজেপি বৃহত্ত্বর আন্দোলনে নামবে বলে  হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জেলা বিজেপি নেতৃত্ব ।

 

 

 

জেলার পুলিশ সুপারের অফিসে ডেপুটেশন দেওয়া নিয়ে এদিন বর্ধমান কার্জনগেট চত্ত্বর সহ কোর্ট কম্পাউন্ড এলাকায় দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়ায় । ওই এলাকায় মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী । ডেপুটেশন কর্মসূচিতে অংশ  নেন বিজেপির দুই সাংসদ জ্যোতির্ময় মাহাতো ও সুভাষ সরকার । তাঁদের সঙ্গে থাকেন জেলা বিজেপি সভাপতি সন্দীপ নন্দী। ডেপুটেশান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বিজেপি নেতা ও কর্মীরা কার্জনগেট পেরোতেই বর্ধমান থানার আই সি পিন্টু সাহার নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনী  তাদের পথ আটকায়।সেখানে  বিজেপি সাংসদদের সঙ্গে পুলিশের বচসা ও উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় শুরু হয়েযায় । পুলিশের বাধা কাটিয়ে বিজেপি সাংসদরা জেলা পুলিশ সুপারের অফিসের কাছে পৌছালে ফের এক  দফা উত্তেজনা ছড়ায় । পুলিশ সুপারের বদলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার  কথা বলবেন বলে জানানো হলে বেঁকে বসেন বিজেপি সাংসদরা । তা নিয়ে টানাপোড়েন শেষ হলে পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করে নিজেদের দাবির কথা জানান বিজেপি সাংসদরা ।

 

 

 

বিজেপি সাংসদ সুভাষ সরকার বলেন,“শনিবার  দলের কর্মীরা বর্ধমান শহরের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে বাড়ি বাড়ি প্রচার  করতে যায় ।   তখন শাসকদলের নেতা খোকন দাসের নেতৃত্বে তার দলবল বিজেপি কর্মীদের উপর হামলা চালায় । এই ঘটনার কথা জানিয়ে বর্ধমান থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও । পুলিশ  কোনও ব্যবস্থা নেয়না । পুলিশ কাউকে গ্রেফতারও  করে না ।রবিবার সন্ধ্যায় ফের  কাঞ্চননগরে শাসক দলের লোকজনের হাতে  বিজেপির কর্মীরা আক্রান্ত হয়। সেই হামলার প্রতিবাদে রবিবার রাতে থানায় বিক্ষোভ কর্মসূচি ছিল বিজেপির। তৃণমূলের লোকজন সেখানেও  বিজেপি কর্মীদের ব্যাপক মারধর করে । সুভাষ বাবু বলেন , বিজেপি কর্মীদের উপর শাসক দলের এই সন্ত্রাস বন্ধ না হলে বিজেপি আগামী দিনে বৃহত্ত্বর আন্দোলনে নামবে । ” যদিও তৃণমূল নেতা খোকন দাস এদিন  দাবি কেরন ,“বিজেপি সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে মানুষকে উস্কানোর কাজে নেমেছে। রবিবার রাতে থানার গোলমাল বাঁধলে দুই পক্ষকেই সরিয়ে দেওয়া হয় ।  খোকন দাস বিজেপির তোলা অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছেন ।”

Related Articles

Back to top button
Close