fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

বিধায়ক মৃত্যু তদন্তে চাই CBI, শিলিগুড়িতে বিক্ষোভ বিজেপির

কৃষ্ণা দাস, শিলিগুড়ি: বিধায়ক দেবেন্দ্র নাথ রায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় সিবিআই তদন্ত চেয়ে পথে নামল বিজেপি। বিধায়ক দেবেন্দ্রনাথ রায়কে খুন করার অভিযোগ তুলে প্রতিবাদে বাগডোগরা থানা সহ শিলিগুড়ির প্রায় প্রতিটি থানার সামনে অবস্থান বিক্ষোভ করলো দার্জিলিং জেলা বিজেপি। উপস্থিত ছিলেন বিজেপি’র রাজ্য নেতা রাজু বন্দোপাধ্যায় সহ জেলা নেতৃত্বরা।

এদিন রাজু ব্যানার্জী হেমতাবাদের বিজেপি বিধায়কের মৃত্যুর ঘটনায় সরাসরি পুলিশ প্রশাসন ও রাজ্যসরকারকে কাঠগড়ায় দাড় করিয়ে সিআইডি তদন্তের পরিবর্তে কেন্দ্রিয় তদন্তকারি সংস্থা সিবিআই তদন্তের দাবী জানান। এবং সেইমর্মে একটি স্মারকলিপিও বিজেপি’র পক্ষ থেকে থানা গুলিতে দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, উত্তর দিনাজপুরের হেমতাবাদের বিজেপি বিধায়ক দেবেন্দ্র নাথ রায়ের বাড়ি থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দুরে থেকে সম্প্রতি বিধায়কের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার এই অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় খুনের অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গ বনধের ডাক দিয়েছিল বিজেপি। আজ শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের প্রায় প্রতিটি থানায় বিজেপির রাজ্য ও জেলা নেতৃত্বের নেতৃত্বে অবস্থান বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। পাশাপাশি প্রতিটি থানায় গিয়ে সিবিআই তদন্তের দাবী জানিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

সেই কর্মসূচীতেই বিজেপি রাজ্য সহ সভাপতি রাজু ব্যানার্জীর নেতৃত্বে এদিন বাগডোগরা থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখিয়ে থানায় গিয়ে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। কর্মসূচী চলাকালিন রাজু ব্যানার্জী সহ বিজেপি নেতা কর্মীরা থানার সামনে বসে পড়ে বিক্ষোভ দেখান। রাজু ব্যানার্জী সরাসরি হেমতাবাদের বিধায়কের দায় চাপালেন রাজ্য সরকার ও পুলিশ প্রশাসনের ওপর। তার অভিযোগ, পুলিশ তাকে খুন করেছে। তিনি বলেন, যে মুখ্যমন্ত্রী রাস্তার কুকুর বেড়াল মারা গেলে সিবিআই তদন্তের দাবী করেন এমন কি হল যে বিধায়কের মৃত্যুর তিনি সিআইডি তদন্তের কথা বলেন। তার বক্তব্য, আমরা সিআইডি তদন্তে বিশ্বাস করি না। ওটা রাজ্য সরকারের পোষ্যপুত্র। আমরা চাই সিবিআই তদন্ত করা হোক। যতদিন না মানবে আমরা জনতা ও আদালতে দরবারে থাকব।

অন্যদিকে, এদিন বিজেপি রাজ্য সাধারণ সম্পাদক রথীন্দ্র নাথ বোসের নেতৃত্বে বিজেপি কর্মী সমর্থকরা শিলিগুড়ি সদর থানার সামনে বিক্ষোভ দেখিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করে।

রথীন্দ্র নাথ বোস জানান, তিনি নিজে দেবেন্দ্র নাথ রায়ের বাড়ি গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে তিনি দেখেছেন। একটি হাত দড়ি দিয়ে বাধা আর একটি দড়ি গলায় ঝোলানো। তিনি জানান, দেবেন্দ্র নাথ আর্থারাইটিসের রোগী ছিলেন। তার প্রশ্ন, বাড়ি থেকে দেড় কিমি দুরে হেটে গিয়ে তিনি কি করে আত্মহত্যা করলেন।

রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, এ রাজ্যে করোনার মৃত্যুকে ধামা চাপা দেওয়া হয়। পরিবারকে দেখতে না দিয়ে করোনায় মৃত্যু হলে পুড়িয়ে ফেলা হয়। এ রাজ্যে জঙ্গলের শাসন চলছে। এখানে আইনশৃঙ্খলা নেই চিকিৎসা ব্যবস্থা শেষ হয়ে গেছে। কেন্দ্রীয় সরকার যে রেশন দিচ্ছে তা চুরি হচ্ছে। নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছে রাজ্যের সাধারণ মানুষ। বিধায়কের মৃত্যুর আমরা বিচারবিভাগীয় তদন্ত অথবা সিবিআই তদন্ত চাই।

Related Articles

Back to top button
Close