fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

হেমতাবাদের বিজেপি বিধায়কের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধারে চাঞ্চল্য, খুনের অভিযোগ পরিবাবের…

বারো ঘন্টা বনধের ডাক বিজেপির

শান্তনু চট্টোপাধ্যায়, রায়গঞ্জ: হেমতাবাদের বিজেপি বিধায়ক দেবেন্দ্রনাথ রায়ের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধারকে ঘিরে সোমবার ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রায়গঞ্জ ব্লকের বিন্দোল গ্রাম পঞ্চায়েতের বালিয়া মোড়ে। এদিন সকালে এলাকার একটি বন্ধ দোকানঘরের বারান্দায় তাঁর ঝুলন্ত মৃতদেহ দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অনুপম সিংয়ের নেতৃত্বে ছুটে আসে বিশাল পুলিশ বাহিনী। আনা হয় পুলিশ কুকুরও। পরিবার এবং বিজেপি নেতৃত্বের দাবি দেবেনবাবুকে পরিকল্পিতভাবে খুন করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এদিনই মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নিয়ে আসা হয়। দলীয় বিধায়কের মৃত্যু ও পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার প্রতিবাদে মঙ্গলবার বারো ঘন্টার জেলা বনধের ডাক দিয়েছে বিজেপি। এদিন নিহত বিধায়কের বাড়িতে যান রায়গঞ্জের সাংসদ দেবশ্রী চৌধুরী ও বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে রায়গঞ্জ শহরের সুদর্শনপুর এলাকার বাড়িতে স্থায়ীভাবে থাকলেও মাঝেমধ্যেই হেমতাবাদ ব্লকের বালিয়াদিঘির আদিবাড়িতে যেতেন দেবেনবাবু। রবিবার বালিয়াদিঘির বাড়িতেই ছিলেন তিনি। রাত ১২ টা নাগাদ দেবেনবাবু ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। তার নাক ডাকার শব্দও শুনেছেন পরিবারের সদস্যরা। মাঝে তার মোবাইলে একটি ফোন আসে। এরপর বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান তিনি। সারারাত বাড়ি না ফেরায় ভোরের দিকে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। সোমবার সকালে বাড়ি থেকে প্রায় দুকিলোমিটার দূরে তার ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়। আর এখানেই আত্মহত্যার তথ্যকে মানতে চাইছেন না পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের বক্তব্য দেবেনবাবু এলাকায় জনপ্রিয় ব্যাক্তি ছিলেন। কারুর সঙ্গে বিবাদ ছিল না। পরিবারেও কোনও অশান্তি হয়নি। আত্মহত্যা যদি করতেই হয় তাহলে জল কাদার রাস্তা ভেঙে দু’কিলোমিটার দূরে কেন যাবেন? বাড়ির পাশেই অনেক ফাঁকা জায়গা ছিল। মৃত্যুর সময় দেবেনবাবুর পরনে ছিল সাদা রঙের ফুল শার্ট ও নীল চেকসের লুঙ্গি। জামার পকেটে ছিল চশমা।

আরও পড়ুন:হেমতাবাদে বিজেপি বিধায়কের মৃত্যু… খুন না আত্মহত্যা… প্রশ্ন এলাকাবাসীর, তদন্তে পুলিশ

গলায় দড়ির পাশাপাশি একহাত দড়ি দিয়ে বাঁধা ছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন ” ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করলে চোখে মুখে যে বিকৃতি হওয়ার কথা তা ছিল না। পায়ের সঙ্গে মাটির দূরত্ব একেবারেই কম।” আর এসব কারণেই দেবেনবাবুকে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা। পরিবারের সদস্য পপি বর্মণ বলেন,” রাতের বেলা বাড়ি থেকে ডেকে এনে খুন করা হয়েছে দেবেনবাবুকে। এটা আত্মহত্যা নয়। দোষীদের উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”

রায়গঞ্জের প্রাক্তন সাংসদ তথা সিপিএম নেতা মহঃ সেলিম বলেন,” বাম আন্দোলনের মধ্য দিয়ে উঠে এসেছিলেন দেবেনবাবু। যেকোন মৃত্যু দুঃখজনক। শোকাহত পরিবারকে সমবেদনা জানাচ্ছি। তবে যেদিন তিনি বিজেপিতে যোগ দিলেন সেদিনই তার বিবেকের মৃত্যু হয়েছিল। যেটুকু খোঁজ নিয়ে জেনেছি তাতে এই মৃত্যুর মধ্যে রহস্য রয়েছে। সাদা চোখে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।” অন্যদিকে রায়গঞ্জের বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী বলেন,” আত্মহত্যার জন্য যে মানসিক অবসাদ হওয়ার কথা সেই রকম কিছু ছিল না দেবেনবাবুর। কেন তিনি আত্মহত্যা করতে যাবেন? যেভাবে মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে তাতে প্রচুর রহস্য লুকিয়ে আছে। তার সৌজন্যে বিজেপির শক্তি বাড়ছিল এলাকায়। এই মৃত্যুর পেছনে অনেকের নাম শুনতে পাচ্ছি। রাজ্য পুলিশ নিরপেক্ষ তদন্ত করতে পারবে না। আসল সত্য উদঘাটনের জন্য মানুষের দাবি সিবিআই তদন্তের। মানুষের এই দাবিকে মান্যতা দিচ্ছে।

আরও পড়ুন:বিধায়ক দেবেন্দ্রনাথ রায়ের এই অকালমৃত্যু দুঃখজনক…. তদন্তের দাবি মহম্মদ সেলিমের

অন্যদিকে জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়াল বলেন,”পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট আসার পরেই বোঝা যাবে এটি খুন না আত্মহত্যা। পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে ঘটনার তদন্ত করছে।”
অন্যদিকে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অনুপম সিং বলেন,” মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট আসার পর আসল তথ্য জানা যাবে। দেবেনবাবুর মোবাইলটি সিজ করা হয়েছে। তবে প্রাথমিক তদন্তে এটি আত্মহত্যা বলেই মনে হচ্ছে।”

উল্লেখ্য আশির দশকে বাম আন্দোলনে যোগ দিয়ে রাজনীতিতে উঠে আসেন দেবেনবাবু। মূলত পঞ্চায়েত ও সমবায় আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতেন তিনি। দুবার পঞ্চায়েত প্রধান, একবার পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ ও মোহিনীগঞ্জ সমবায় সমিতির চেয়ারম্যান ছিলেন দেবেনবাবু। ২০১৬ সালে কংগ্রেসের সমর্থনে সিপি আই এম প্রার্থী হিসাবে হেমতাবাদ থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন তিনি। যদিও ২০১৯ সালে বিজেপিতে যোগ দেন দেবেনবাবু। তার এই রহস্যমৃত্যুতে ব্যাপক আলোড়ন ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

Related Articles

Back to top button
Close