fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

বিজেপি সাংসদ, বিধায়কদের ত্রাণ বিতরণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে

শ্যামল কান্তি বিশ্বাস: আন্তর্জাতিক করোনা সংক্রমণ থাবায় দেশ যখন বিপর্যস্ত। কেন্দ্র-রাজ্য সহাবস্থানে পরিস্থিতি মোকাবেলার আবহে প্রধানমন্ত্রী যখন তৎপর, ঠিক তখনই রাজনীতি শুরু করেছেন এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। অভিযোগ, রাজ্য বিজেপি সভাপতি তথা সাংসদ দিলীপ ঘোষের। মানুষ খেতে পারছেনা, অসংগঠিত শ্রমিক কর্মচারীরা কাজ হারিয়েছে, তাদের পাশে আমরা দাঁড়াতে চাই কিন্তু আমাদের ত্রাণ দিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাধা দেয়া হচ্ছে, এ অভিযোগ বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকারের। কৃষ্ণগঞ্জ এর বিধায়ক আশীষ কুমার বিশ্বাসের অভিযোগ আবার অন্যরকম। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা তখন ত্রাণ বন্টন করেন, তখন সামাজিক দূরত্বের ক্ষেত্রে বিধি ভঙ্গ হয় না, কিন্তু আমরা বিজেপির পক্ষ থেকে ত্রাণ দিতে চেয়ে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া সত্ত্বেও তৃণমূলের মদতে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

পরিস্থিতি ক্রমশ চলে যাচ্ছে নিয়ন্ত্রণের বাইরে। রাজ্যের বহু অসংগঠিত শ্রমিক কর্মচারী যারা দৈনিক কাজের আয়ের টাকায় সংসার চালিয়ে থাকে। তারা নিরুপায়, বিকল্প পথ হিসাবে রাজ্যের রেশন ব্যবস্থার উপর ভরসা করে থাকেন। সেখানেও আজ দুর্নীতি! প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত খাদ্য সামগ্রী রাজ্য সরকারের চরম গাফিলতিতে এখনো পর্যন্ত রাজ্যবাসীর মধ্যে বন্টন করা হয়নি আর রাজ্য সরকারের রেশন? সেখানেও কথা আর কাজের ক্ষেত্রে বিস্তর ফারাক! মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণায় টিভির পর্দায় লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয়ে মুহূর্তে মুহূর্তে যে বিজ্ঞাপন ভেসে ওঠে,আর তাতে যে পরিমাণ খাদ্য সামগ্রী দেওয়ার কথা বলা হয়,বাস্তবে কিন্তু সে পরিমাণ খাদ্য সামগ্রী কোন গ্রাহক ই পাচ্ছেন না। ফলে মানুষ ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে। রাজ্য সরকারের প্রতি সাধারণ মানুষের বিশ্বাসযোগ্যতা আজ প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে বিজেপি নেতৃত্ব রাজ্যের অসহায়দের পাশে দাঁড়াতে প্রয়োজনে লড়াইয়ের ময়দানে নামতেও প্রস্তুত।

আরও পড়ুন: ধান কাটা শুরু, হঠাৎ বৃষ্টিতে চাষীদের চরম ক্ষতি

ত্রাণ দিতে পারছেন না ব্যারাকপুরের সাংসদ অর্জুন সিংও। সম্প্রতি তাকে তার এলাকার আমডাঙায় ত্রাণ শিবিরে যাওয়ার পথে পুলিশ তার গাড়ি আটকায় এবং তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। বারবার বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। তার গতিবিধি আটকে পুলিশ তাকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। ত্রাণ দিতে পারছেন না দার্জিলিংয়ের সাংসদ জন বার্লা, একাধিক ভাবে আটকানো হচ্ছে তাকে। আটকানো হচ্ছে কোচবিহারের সাংসদ নিশীথ প্রামাণিক কে। একাধিক বার বাধার সম্মুখীন হয়েছেন দক্ষিণ মালদার সাংসদ খগেন মুর্মু। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যে বিষয়টি নিয়ে রাজ্যপাল- মুখ্যমন্ত্রী পত্র যুদ্ধ পর্যন্ত দেখে বিরক্তি প্রকাশ করেছে রাজ্যবাসী।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য,করোনায় মৃত্যু বিষয়ক তথ্য লোপাটের অভিযোগের পাশাপাশি রেশন বন্টন ব্যবস্থায় দুর্নীতি, বিজেপি সাংসদ-বিধায়ক দের ত্রাণ বন্টণের ক্ষেত্রে বাধা প্রভৃতি একাধিক বিষয়ের উপর ন্যায় বিচারের দাবিতে সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্টে রাজ্য বিজেপির পক্ষ থেকে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছে।

Related Articles

Back to top button
Close