fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

কলকাতায় রাতের অন্ধকারে দখল হয়ে গেল বিজেপি পার্টি অফিস, মিথ্যা মামলায় বিজেপি কর্মীর জেলে

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘এক সময়ে দেখতাম জীবন মানে জি-বাংলা, বর্তমানে মরণ মানে পশ্চিমবাংলা। ‘ তোপ দাগলেন বিজেএমটিইউ সভাপতি বাবান ঘোষ। সোমবার এক সাক্ষাৎকারে তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে একথা বলেন। তিনি বলেন বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতা অমিত শাহের ভার্চুয়াল র Rally’র সাফল্য দেখে ঈর্ষান্বিত হয়ে এই কাজ করেছে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। পরিস্থিতি পুরোটাই বদলে গেছে। সাধারণ মানুষ আজ অসহায়। এ রাজ্যে শুধু অক্সিজেন নেওয়ার নির্দেশ আছে। অন্য কোন কিছু করলেই কুনজরে পড়ে যেতে হয়। দৈনন্দিন মানুষের উপলব্ধিতে এর অবসান ঘটবে। ডান-বাম সব দেখেছি। আখেরে জবাব দিয়েছে মানুষ। এর প্রতিফলন দেখা যাবে মানুষের মধ্যে। কলকাতা লন্ডন নয় লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। ‘
রবিবার রাতে উত্তর কলকাতার তোপসিয়া সংলগ্ন মাথুর বাগান লেন অঞ্চলে বিজেএমটিইউ এর পার্টি অফিস দখল করে নেয় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। এমনটাই অভিযোগ করে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব ও সাধারণ সম্পাদক বিজেএমটিইউ রাহুল সাউ। শুধু তাই নয় বিজেপি সংগঠনকে স্থানীয় স্তরে চাঙ্গা করার জন্য মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয় বিজেপি নেতা জয়দেব সাহাকেও।

তবে রবিবার রাতে পুলিশের উপস্থিতিতেই তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা এলাকার পার্টি অফিসের দখল নেয়। নিমেষের মধ্যে পার্টি অফিসের মধ্যে কার সমস্ত পোস্টার ছিঁড়ে ফেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি লাগিয়ে তৃণমূল পার্টি অফিসে বদলে ফেলা হয়। পার্টি অফিসের দখল নিতে দুষ্কৃতীরা বিপুল অস্ত্রশস্ত্র গুলি-বোমা লাঠি হকি স্টিক সবই নিয়ে এসেছিল। সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ জানাতে গেলে মহিলাদেরকেও ছেড়ে কথা বলেনি তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। আর সব তাই হয়েছে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্নেহধন্য জীবন সাহার মদতে অভিযোগ বিজেপির। সে সময় স্থানীয় থানা থেকে লালবাজার এবং ডি সি পদমর্যাদার আধিকারিক অজয় প্রসাদ কেউ ফোন করা হলেও যোগাযোগ করা যায়নি। বাধ্য হয়ে মুরলীধর সেন লেনে বিজেপি পার্টি অফিসে জানানো হয় সেখান থেকে ১০০ নম্বরে ডায়াল করে করা হয় বারবার কিন্তু উত্তর মেলেনি। যদিও সোমবার সন্ধ্যায় বিজেপি নেতৃত্ব কে ডিসি অজয় প্রসাদ জানিয়েছেন তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন বলে।

এ প্রসঙ্গে বাবান ঘোষ বলেন ‘৫৭ নম্বর ওয়ার্ডে জলের সমস্যা মিটিয়ে ছিল জীবন সাহা। তাই মানুষকে জল দিয়েছিল বলে ওর নাম ছিল জীবন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষের চোখের জলের নাম জীবন। সাধারণ মানুষ দিনের পর দিন অত্যাচারিত হচ্ছে। জীবন সাহা দ্বারা। এই অত্যাচার শুধুমাত্র সাধারণ মানুষের ওপর সীমিত নয়, উত্তর কলকাতার বিজে এম টি ইউ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জয়দেব সাহাকে ও মিথ্যা অনৈতিকভাবে মামলায় ফাঁসিয়ে জেলবন্দি করা হয়েছে। তার পরিবার সমেত তাকে জেলে পাঠানো হয়েছে। গাজা মাদক মামলায় এখনও জেলে আছে জয়দেব। এখনও প্রমাণিত নয়। খাবার পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে না। ওষুধ পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে না। তার ওপর অকথ্য অত্যাচার করা হচ্ছে। ভয়াবহ পরিস্থিতি। বাড়ির লোকের সঙ্গে দেখা করতে দেয়া হচ্ছে না। এই ধরনের শাস্তি ভারতবর্ষে কোনও দেওয়া হয়নি জয়দেব একজন মানবাধিকার কর্মীকে। এর বিরুদ্ধে আমরা সর্বোচ্চ স্তরে পর্যন্ত যাব জয় দেবের পাশে আমরা আছি থাকবো।’

এ প্রসঙ্গে বাবান ঘোষ আরও বলেন, ‘জয়দেবের দুধের শিশুকে ও কি কঠিন কষ্টের মধ্যে দিয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে। মিথ্যে মামলা দিয়ে তার বাড়ি থেকে পরিবার সমেত তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এমনকি সিসিটিভি পর্যন্ত খুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ সিজার লিস্টের এভিডেন্সের করা হয়েছে। কিন্তু সেই ফুটেজ এখনো পর্যন্ত আমাদের দেখাতে পারেনি। গোটা বিষয়টি আগামী দিনে আমরা রাজ্যের রাজ্যপাল মুখ্যমন্ত্রী কে চিঠি দিয়ে জনাব। পরিণাম দেখে নিয়ে আমারা সেই মত রাস্তায় নেমে আন্দোলনে করব। প্রয়োজনে জেল ভরো আন্দোলনে নামব।’

Related Articles

Back to top button
Close