fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

পুরভোটের তিনবছর, সিপিএম ও বিজেপির কালাদিবস পালন, সরগরম শিল্পাঞ্চলের রাজনীতি

মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়ব: সায়ন্তন

জয়দেব লাহা, দুর্গাপুর: ” মানুষের অধিকারকে স্তব্ধ করে, বঞ্চিত করে, পুলিশ আর হার্মাদবাহিনী যৌথ অভিযান করে ২০১৭ সালের দুর্গাপুর পুরভোটে তৃণমূল ক্ষমতা এসেছিল। তাই তাদের সভ্য সমাজে মুখ দেখানোর অধিকার নেই। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে বিজেপিকর্মীরা লড়বে।”


বৃহঃস্পতিবার দুর্গাপুরে দলের কালাদিবস পালন কর্মসুচীতে এসে এমনই হুঁশিয়ারী দিলেন বিজেপির রাজ্য সম্পাদক সায়ন্তন বসু। পাশাপাশি এদিন আলাদা করে দুর্গাপুরের সিপিএম নেতৃত্বও কালাদিবস পালন করে।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ১৩ আগষ্ট দুর্গাপুরের পুরভোট নির্বাচন হয়েছিল। ৪৩ টি ওয়ার্ডই তৃণমূল দখল করে পুরবোর্ড গঠন করে। যদিও নির্বাচনকে ঘিরে সন্ত্রাস ও রিগিংয়ের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদে সরব হয় সিপিএম ও বিজেপি। আর তার পরের বছর থেকে এদিনটা সিপিএম ও বিজেপির দুর্গাপুর নেতৃত্ব আলাদা করে কালাদিবস পালন করে। বৃহঃস্পতিবার দুর্গাপুর পুরসভার সামনে সিপিএম প্রতিবাদ সভা করে। করোনা আবহে সভায় সামাজিক দুরত্ব মেনেই সভা করে।

সিপিএম নেতা পঙ্কজ রায় সরকার বলেন, “অন্য সাধারন ভোট লুটের মতো ২০১৭ সালের ১৩ আগষ্ট ভোট লুট ছিল না। ৭ দিন ধরে ১২-১৪ হাজার বহিরাগত গুন্ডা নিয়ে এসে দুর্গাপুরের মানুষকে গৃহবন্দী করা হয়েছিল। প্রবীন থেকে যুবক, মহিলা তাদের আক্রমন থেকে রেয়াত পায়নি। ভোট লুট করে ক্ষমতা এসেছিল তৃণমূল। তাই তার প্রতিবাদে এদিনটা কালোদিবস পালন করা হয়।”

সিপিএমের সভা শেষ হতেই বিজেপি গান্ধী মোড় থেকে প্রতিবাদ মিছিল করে। তার পর দুর্গাপুর পুরসভার পার্শ্ববর্তী প্রতিবাদ সভা করে বিজেপি। উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য সাধারন সম্পাদক সায়ন্তন বসু, রাজু ব্যানার্জী, অভিনেতা সুমন ব্যানার্জী প্রমুখ। এদিনের সভায় সায়ন্তন বসু বক্তব্যে তৃণমূলকে উদ্দেশ্য করে বলেন,” আপনারা গান্ধীজি হতে পারেন। কিন্ত এদেশে সুভাষ বোসও জন্মেছে। তাই কখনও কখনও গান্ধীজি ছেড়ে সুভাষ বোসও হতে হয়। তৃণমূলের ক্ষেত্রে সুভাষ বোসও হব।”

এদিন তিনি আরও বলেন,” ২০১৭ সালে দুর্গাপুর পুরভোটে ব্যাপক রিগিং আর সন্ত্রাস করে তৃণমূল ক্ষমতায় এসেছে। সাধারন মানুষ যেমন, তেমন তৃণমূলের নির্বাচিত কাউন্সিলারও ভোট দিতে পারেনি। কারন হার্মাদরা তাকে চিনতে পারেনি।” এদিন তিনি কাটমনি চাওয়া তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে নিদান দিয়ে বলেন,” প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় কেন্দ্র সরকার টাকা দেয়। তৃণমূলের নেতা কাউন্সিলাররা কাটমানি চাইলে গাছে বেঁধে রাখুন। কেউ মারধর করলে, সমান মারধর করে বরণ করুন।”

আগামী ২০২১ সালের নির্বাচনে নিজেদের লক্ষ্য প্রসঙ্গে সায়ন্তন বসু বলেন,” ২০০ টি আসন পাবে বিজেপি।” তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে আরও বলেন,” মানুষের অধিকারকে স্তব্ধ করে, বঞ্চিত করে, পুলিশ আর হার্মাদবাহিনী যৌথ অভিযান করে ২০১৭ সালের দুর্গাপুর পুরভোটে তৃণমূল ক্ষমতা এসেছিল। তাই তাদের সভ্য সমাজে মুখ দেখানোর অধিকার নেই। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য, গনতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে বিজেপিকর্মীরা লড়বে।”

আবার বিজেপির যুব নেতা রাজু ব্যানার্জী একধাপ এগিয়ে তৃণমূলের বীরভুম জেলা সভাপতি অনুব্রত মন্ডলকে নিশানা করে বলেন,” বীরভুমে শাসনব্যাবস্থা নেই। গুন্ডারাজ, মাফিয়ারাজ চলে। আগামীদিনে বিজেপি ক্ষমতায় আসলে যদি এরকম গুন্ডারাজ চালিয়ে যায়, জেলে থাকবে। বেল নিয়ে বেরোতে পারবে কি না জানি না।” তবে করোনা আবহের মধ্যে ২০২১ নির্বাচনের আগে কালাদিবস পালনে দুর্গাপুর শিল্পশহরের রাজনীতি ছিল সরগরম।

Related Articles

Back to top button
Close