fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

গণতন্ত্রকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠিয়েছে বিজেপি, তাকে আইসিইউতে পাঠিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: সেলিম

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গণতন্ত্রকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠিয়েছে বিজেপি, তাকে আইসিইউতে পাঠিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার বিজেপি ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে এই ভাষাতেই সরব হলেন সিপিএম পলিটব্যুরো সদস্য মহম্মদ সেলিম।

বিজেপি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির উদ্যোগে মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ভার্চুয়াল জনসভার প্রতিবাদে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ দেখায় সিপিএম। কলকাতাতেও একাধিক জায়গায় বিক্ষোভে সামিল হন সিপিএম নেতৃত্ব। এই বিক্ষোভ দেখানোর কারণ ব্যাখ্যা করে এদিন দুপুরে এক সাংবাদিক সম্মেলন করে সেলিম বলেন, ‘রাজ্যের মানুষের দুর্দশা চরমে। করোনা ভাইরাসের কারণে রাজ্যের মানুষ এখন অসহায় অবস্থায়। অপরিকল্পিত লকডাউনের ফলে অর্থনীতিতে সঙ্কট, সঙ্গে রয়েছে আমফানের বিপর্যয়, সেই সময় ভোট চাইছেন অমিত শাহ। এই পরিস্থিতিতে রাজনীতি করতে এসেছেন তিনি। যেটা করা প্রয়োজন সেটা করছেন না। এই মুহূর্তে মানুষের হাতে টাকার প্রয়োজন। কাজের প্রয়োজন। মনরেগায় কাজের দিন ১০০ থেকে বাড়িয়ে ২০০ করার খুবই প্রয়োজন। কিন্তু গ্রাম ও শহরের গরিব মানুষের জন্য কিছুই করা হচ্ছে না। তার প্রতিবাদেই আজ রাজ্যজুড়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছি আমরা।’

আরও পড়ুন: ডিসেম্বরে নয়, উহানে করোনার সংক্রমণ শুরু হয় আগস্টে: গবেষণা

এদিনের ভার্চুয়াল জনসভা থেকে কার্যত ২১ এর বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজিয়ে দিয়ে তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করেন অমিত শাহ। সেই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে, তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিজেপির সুর চড়ানোকে নাটক বলে কটাক্ষ করে সেলিম বলেন, ‘রাজ্যে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে অনেকটাই সরব বিজেপি, তবে কোনও ইস্যুতেই তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি কেন্দ্র। রাজ্যে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা এবং সড়ক যোজনা সহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপ করেছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার? আসলে বিজেপি ও তৃণমূল হাত মিলিয়ে চলছে। বিজেপি গণতন্ত্রকে কোয়ারান্টাইনে পাঠিয়েছে, আর তাকে আইসিইউতে পাঠিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।’ বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে সোনার বাংলা তৈরি করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন অমিত শাহ।

সেই সূত্র ধরে সিএএ-এনআরসি প্রসঙ্গ টেনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে সিপিএম নেতা বলেন, ‘সোনার বাংলা গড়ার নামে হাজারও প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন অমিত শাহ, তবে বাস্তবে, দেশের বাংলাভাষী মানুষদের সিএএ এবং এনআরসির নামে তৃতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত করতে চাইছেন।’

দেশে করোনার যথাযথ সংখ্যায় পরীক্ষা না করা ও অপরিকল্পিত লকডাউনের অভিযোগ তুলে সেলিম বলেন, ‘আড়াই মাস লকডাউনের সময় দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতি ঘটায়নি কেন্দ্র। এই অপরিকল্পিত লকডাউনের ছেড়ে শ্রমিকদের চরম দুর্দশার মুখে পড়তে হয়েছে। তার সত্ত্বেও পুঁজিপতিদের স্বার্থ রক্ষায় বেশি আগ্রহী নরেন্দ্র মোদি সরকার। দেশে যখন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা মাত্র কয়েকশো ছিল, সেই সময়, দেশজুড়ে লকডাউন জারি করা হল। আর যখন আক্রান্তের সংখ্যা ২ লক্ষ পেরিয়েছে সেই সময় লকডাউন শিথিল করা হল। এর মানে কি?’

একই সুর শোনা যায় বাম পরিষদীয় দলনেতা তথা সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর গলাতেও। তৃণমূল-বিজেপির আঁতাতের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে কোনও তফাৎ নেই৷ যা আজকের তৃণমূল, তা কালকের বিজেপি। মনে পড়ে কি সিঙ্গুরের মমতা ব্যানার্জির অনশন মঞ্চে পাশে ছিলেন বিজেপির রাজনাথ সিং? তৃণমূল এবং বিজেপি যৌথভাবে বাংলাকে ধ্বংস করেছে। সন্দেহ আছে? অমিত শাহ এবং মমতা ব্যানার্জি দুজনেই একবার আয়নার সামনে দাঁড়ান, বুঝতে পারবেন বাংলার কি ক্ষতি করেছেন উভয়েই। সর্বনাশ করেছে।

Related Articles

Back to top button
Close