fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

রাজ্যের ছেলেমেয়েরা শিক্ষিত হোক চান না দিদি: দিলীপ 

শরণানন্দ দাস, কলকাতা: নির্ধারিত সূচি মেনেই ১ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছে জেইই মেন পরীক্ষা। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে অনেক পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় বসতে পারেন নি। বুধবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী এই প্রসঙ্গে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে তোপ দেখেছেন, ‘ কে আপনাকে অধিকার দিয়েছে ছাত্র ছাত্রীদের বিপাকে ফেলার, ওদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার?’ এ প্রসঙ্গে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের প্রতিক্রিয়া, ‘দিদি চান না রাজ্যের ছেলেমেয়েরা শিক্ষিত হোক।’

মুখ্যমন্ত্রী নবান্নে এদিন বলেন, ‘ আমি সংবাদ মাধ্যমে দেখেছি বহু পরীক্ষার্থী পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছতে পারেন নি। আমার প্রশ্ন এতো অহং, এতো জেদ কেন? পরীক্ষার্থীরা তো বলেনি পরীক্ষা বাতিল করতে, পরীক্ষা পিছিয়ে দিতে বলেছিল।’
এ প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি বলেন, ‘ পরীক্ষার দিন ঘোষণা হয়েছিল অনেক আগে। সব জেনেশুনে পরীক্ষার আগের দিন লকডাউন ডাকলেন কেন? বহু রাজ্য পরীক্ষার্থীদের পৌঁছে দেওয়া, থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করেছে। পাশের রাজ্য ওড়িশা করেছে। আর উনি কি করেছেন? চাপে পড়ে গিয়ে কিছু বাসের ব্যবস্থা করেছেন, কিন্তু আগের দিন লকডাউন থাকায় দূরের জেলার ছাত্রছাত্রীরা পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছতে পারেনি। আবার ১৩ তারিখ নিট পরীক্ষা আছে। তার আগে পরপর দুদিন লকডাউন ডেকেছেন। সুতরাং রাজনীতিটা কে করছেন। ছাত্রছাত্রীদের জন্য এতই দরদতো পরীক্ষার আগে লকডাউন করছেন কেন?
প্রসঙ্গত রেল জানিয়েছে, পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছতে বিশেষ ট্রেন চালানোর অনুরোধ রাজ্যের কাজ থেকে আসেনি। মুম্বাইয়ে যেমন অ্যাডমিট কার্ড দেখিয়ে পরীক্ষার্থীরা ট্রেনে সফর করেছেন, বিহারে ২০ জোড়া বিশেষ ট্রেন এইজন্য চালানো হচ্ছে। এই প্রসঙ্গ টেনে লোকাল ও মেট্রোর বিষয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে ঐকমত্য হওয়ার বিষয়ে জোর দেন দিলীপ ঘোষ। তা নাহলে বিড়ম্বনা বাড়বে বলেই মনে করেন তিনি।
মেদিনীপুরের সাংসদ বলেন, ‘ দিদিমণি চান না এ রাজ্যের ছেলেমেয়েরা শিক্ষিত হোক, কারণ তাহলে চাকরি দিতে হবে। দিদির সেই ক্ষমতা নেই। তাইতো আমাদের রাজ্যের ছেলেমেয়েরা কাজের জন্য, উচ্চশিক্ষার জন্য বাইরের রাজ্যে যায়।”

এদিকে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, রাজ্যে ৭,১১ ও ১২ লকডাউন হচ্ছেই। অথচ আনলক ৪ এর কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা অনুযায়ী কনটেন্টমেন্ট জোনের বাইরে লকডাউন ঘোষণা করতে গেল কেন্দ্রের অনুমতি নিতে হবে। এ ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রীর সাফ জবাব, ‘ গাইডলাইন প্রকাশের মাধ্যমে পরামর্শ দেওয়া কেন্দ্রের কাজ। কোন সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া কাজ নয়। রাজ্যের উপর কেন্দ্রকে ভরসা রাখতে হবে।’ এবিষয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘ উনি কোন নিয়ম-কানুন মানেন না। উনি শুধু কেন্দ্রের বিরোধিতা করতে জানেন। এটাতো স্বেচ্ছাচারিতা। সঙ্কীর্ণ রাজনীতির পরিচয় দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী।’
এদিন রাজ্যকে প্রাপ্য জিএসটি বাবদ ক্ষতিপূরণের টাকা না দিয়ে কেন্দ্র কথার খেলাপ করছে বলে অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর। এই বিষয়ে মেদিনীপুরের সাংসদ পাল্টা রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, ‘ করোনার জেরে সারা বিশ্বজুড়ে অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী সেই সমস্যার কথা বলেছেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বিনামূল্যে রেশন, গ্যাসের ব্যবস্থা করেছেন মহিলাদের জন্য, কৃষকদের জন‌্য আর্থিক সহায়তা, সহজ কিস্তিতে ঋণের ব্যবস্থা করেছেন ক্ষুদ্র উদ্যোগপতিদের জন্য। আর মুখ্যমন্ত্রী বছরের পর বছর রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ডিএ বকেয়া রাখেন। উনি রাজনীতি ছাড়া মানুষ দুঃখ দুর্দশা কিছুই বোঝেন না।’

Related Articles

Back to top button
Close