fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

‘ক্ষমতায় আসলে তৃণমূল কর্মীদের মামলাও প্রত্যাহার করে নেব’ আশ্বাস দিলীপ ঘোষের

শ‍্যাম বিশ্বাস, উওর ২৪ পরগনা:  করোনামুক্তির পর প্রথম চা চক্রের আসর জমিয়ে দিলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি। বৃহস্পতিবার সকালে প্রবল উৎসাহে প্রিয় নেতাকে রীতিমতো ব্যান্ড-পার্টি বাজিয়ে জ্যাংড়ায় চা চক্রের আসরে নিয়ে যান দলের কর্মীরা। মাথায় পাগড়ি বেঁধে চা চক্রের সেই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ। চা চক্রের পাশাপাশি লাড্ডু বিতরণের মাধ্যমে বিজয়া সম্মেলনীর আয়োজন করা হয়েছিল রাজারহাট গোপালপুর বিজেপির ৩ নম্বর মন্ডলের পক্ষ থেকে।তবে করোনা মুক্তির পর প্রথমবারের চা চক্রে অন্য সুর তাঁর গলায়। শুধু বিজেপি নয় ঘাসফুল শিবিরের অনেকের নামেই মিথ্যে মামলার খাঁড়া ঝুলছে বলে দাবি দিলীপ ঘোষের । ক্ষমতায় আসার পর যেকোনও রাজনৈতিক দলের কর্মীদের এই মিথ্যে মামলার হাত থেকে রেহাই দেবেন বলেও আশ্বাস দিলেন বিজেপি সাংসদ।

বিজেপি রাজ্য সভাপতি এলাকায় আসছেন বলে কথা। তাই তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে এলাহি আয়োজন করেন দলীয় নেতাকর্মীরা। জর্দা বাগান থেকে মিছিল করে ঘোড়ার গাড়ি চড়িয়ে দিলীপ ঘোষকে চা চক্রে যোগ দিতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তৃণমূলকে একহাত নেন তিনি। বলেন, ‘আগামী বিধানসভা নির্বাচনে জিতে রাজ্যে ক্ষমতায় এলে সব রাজনৈতিক দলের কর্মীদের নামে থাকা মামলা তুলে নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি।নিজের দলের কর্মীদের নিজেরাই হত্যা করে সিপিএম যেমন ভাবাবেগের রাজনীতি করত, ঠিক তেমনি তৃণমূল নিজের দলে কর্মীদের নামেও মামলা করে রেখেছে, যাতে ভয়ে কেউ দল ছাড়তে না পারে। আমি তাই বলেছি এ ধরণের যত প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনৈতিক মিথ্যে মামলা আছে, তা যে দলেরই হোক, তাকে আমরা মুক্তি দেব।’

জেপি নাড্ডা রাজ্য সফরে আসার আগেই বুধবার বিজেপি রাজ্যস্তরে সংগঠনে বড়সড় রদবদল হয়েছে। সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল সুব্রত চট্টোপাধ্যায়কে। তাঁর জায়গায় নতুন সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) হলেন অমিতাভ চক্রবর্তী। সে প্রসঙ্গেও এদিন মুখ খোলেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, “সংগঠন করতে এসেছি আমরা। সংগঠন যেটা ঠিক করে, যাকে যা দায়িত্ব দেয় সেই দায়িত্ব আমরা পালন করি। সুব্রতদা বিজেপিতে ৫-৬ বছর কাজ করেছেন, তারপর ওনাকে হয়তো অন্য দায়িত্ব দেওয়া হবে। এই পরিবর্তন সংগঠনে চলতেই থাকে। এইভাবে আমরা কাজ করি।”

এছাড়াও, দিলীপ ঘোষ বলেন, পুজোর সময় ৩/৪ জন বিজেপি কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। কেন সব ব্যাপারে এখানে হিংসা হয়, সরকারের সমালোচনায় মুখর হোন। ক্ষমতায় জেতার আকাঙ্ক্ষা নেই, কিন্তু এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য দরকার আছে। কেন অন্য রাজ্যে লেবার চলে যাচ্ছে ? মে মাসে সরকার গঠন হলে সব দলের নেতা কর্মীদের কেস মুকুব করে দেব। টিএমসির লোক চাকর হয়ে গেছে। সব পিকে টিম করছে।কি বলতে হবে,কাকে কোথায় কি পদ দিতে হবে সব পিকে দেখছে।

আরও পড়ুন: জোড়া খুনের তদন্তে পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ দ্বারস্থ পরিবার মৃতের পরিবার

গতকাল ও পরশু দুজন কে খুন করা হয়েছে। এখন বিজেপি লোক মারা গেলে বলা হচ্ছে করোনা পজিটিভ। হাসপাতাল থেকে বডি ছাড়ছে না। আমরা বডি নিয়ে যদি আন্দোলন করি। চাষীদের টাকা দেওয়া নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে আক্রমণ করেন তিনি। ছত্রধর মাহাতোকে জেলে রাখতে চেয়েছিলেন। এখন তাকে দরকার পড়েছে তাই জেল থেকে প্যারোলে বের করে দলের পদ দেওয়া হয়েছে। যে বিমল গুরুং কে তিন বছর ধরে পুলিশ খুঁজে বেড়াচ্ছে সে সল্টলেক গোর্খা ভবনের সামনে আধ ঘন্টা দাঁড়িয়ে ছিল। যাকে পুলিশ তিনবছর খুঁজে পাচ্ছে না সে সল্টলেকে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাঁর গায়ে কেউ হাত দিলো না। কারন তিনি দিদি কৃপা প্রার্থী। পশ্চিমবঙ্গে এই যে গণতান্ত্রিক হত্যা, রাজনৈতিক হিংসা, যে দুর্নীতি এর থেকে বাংলার মানুষকে মুক্তি দিতে হবে।

Related Articles

Back to top button
Close