fbpx
কলকাতাহেডলাইন

রাজ্যে ফের খুন বিজেপি কর্মী, অমানবিক দিদির পুলিশ শেষ শ্রদ্ধাও জানাতে দিল না, তোপ দিলীপ ঘোষের

শরণানন্দ দাস, কলকাতা: উৎসবের মরশুমে ফের রাজ্যে খুন বিজেপি নেতা। হিঙ্গলগঞ্জের মঙ্গলচণ্ডী গ্রামে তৃণমূলী দুষ্কৃতীদের বর্বরোচিত হামলায় মারা যান ২৩৪ নং বুথের সহ সভাপতি রবীন্দ্রনাথ মন্ডল। তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য এসএসকেএম হাসপাতাল থেকে বিজেপির কার্যকর্তারা তাঁর দেহ আনতে গেলে বাধা দেয় পুলিশ। সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক ভাবে মরদেহ নিয়ে হিঙ্গলগঞ্জে চলে যায় পুলিশ। বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘ অমানবিক দিদির পুলিশ শেষ শ্রদ্ধাও জানাতে দিল না।’ প্রসঙ্গত এদিনই করোনা মুক্ত হয়ে হাসপাতাল থেকে নিউটাউনের বাড়িতে ফিরলেন তিনি।

ঘটনা হল গত ১২ই অক্টোবর হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভার হেমনগর কোস্টাল থানার যোগেশগঞ্জের ২৩৪ নম্বর বুথের মঙ্গলচণ্ডী গ্রামে বিজেপির কৃষি আইনের সমর্থনে ও আমফান দুর্নীতির প্রতিবাদে একটি পথসভা হওয়ার কথা ছিল। তবে তা কোনও কারণে বন্ধ হয়ে যায়। অভিযোগ, ঠিক তার পরেরদিন অর্থাৎ ১৩ অক্টোবর তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা সকালে বিজেপির দলীয় পতাকা ছিঁড়ে দেয়। এমনকি বিজেপি কর্মীদের উপর চড়াও হয়ে লোহার রড, ধারালো অস্ত্র, বাঁশ দিয়ে তাঁদের বেধড়ক মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ। তাতে ৫ জন জখম হন। প্রথমে তাঁদেরকে যোগেশগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।  অবস্থার অবনতি হওয়ায় বসিরহাট জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয় প্রত্যেককে। তাঁদের মধ্যে মঙ্গলচণ্ডী গ্রামের ২৩৪ নম্বর বুথের বিজেপি সহ-সভাপতি  রবীন্দ্রনাথ মণ্ডলের অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক ছিল। তাই তাঁকে বসিরহাট জেলা হাসপাতাল থেকে কলকাতায় পাঠানো হয়। এরপর সোমবার রাতে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর।

[আরও পড়ুন- অসমে মাদ্রাসা বন্ধের প্রতিবাদে কলকাতার অসম ভবনের সামনে বিক্ষোভ সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের]

এদিন এই ঘটনাকে খুবই দুর্ভাগ্যজনক বলে অভিহিত করেছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, ‘ দিদির সরকার বিজেপিকে ভয় পাচ্ছে। পর্যায়ক্রমে বিজেপির কর্মী, নেতাদের উপর আক্রমণ, খুনের ঘটনা ঘটছে। রাজনৈতিক হিংসার বলি হচ্ছেন বিজেপির নেতা কর্মীরা। আরও মর্মান্তিক ব্যাপার হলো বিজেপির প্রয়াত কর্মীদের দলের পক্ষ থেকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে দেওয়া হচ্ছে না। এদিনও নিহত কর্মীর দেহ পুলিশ নিতে দেয়নি। আমরাতো প্রয়াত কর্মীর মরদেহ দলের রাজ্য দফতরে এনে শ্রদ্ধা জানাতাম। এটা অত্যন্ত অমানবিক।’

প্রসঙ্গত সম্প্রতি অর্জুন সিং ঘনিষ্ঠ বিজেপি নেতা মনীশ শুক্লাকে থানার সামনে গুলি করে খুন করা হয়। পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু হয় বিজেপি কর্মী মদন ঘড়াইয়ের। কলকাতা হাইকোর্ট এই ঘটনায় দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেয়। তারও আগে হেমতাবাদের বিধায়ক দেবেন্দ্রনাথ রায়কে খুন করে গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এরপর আরও বেশকিছু কর্মী ধারাবাহিকভাবে তৃণমূলের রাজনৈতিক হিংসার শিকার হয়েছেন।

দলীয় রাজ্য দফতরে বিজেপির সহ সভাপতি রাজু বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিক বৈঠকে অভিযোগ করেন, প্রতিটি বিজেপি নেতা কর্মীকে ষড়যন্ত্র করে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ হিঙ্গলগঞ্জে আমাদের বুথ সহ-সভাপতি রবীন্দ্রনাথ মণ্ডলকে তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধান ও তাঁর ছেলের নির্দেশে নির্মমভাবে পেটানো হয়। গতরাতে এস এস কে এম হাসপাতালে তিনি মারা যান। আমাদের দলীয় কর্মীরা তাঁর মরদেহ রাজ্য দফতরে এনে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে চেয়েছিল। পুলিশ সে সুযোগ দিল না।’ এই প্রসঙ্গে দলের পক্ষে একটি প্রেস বিবৃতি প্রকাশ করে রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু বলেন,’এই অগণতান্ত্রিক, বর্বরোচিত, অমানবিক আচরণকে ধিক্কার জানায় বিজেপি। এই নক্কারজনক আচরণের প্রতিবাদে সমগ্র বসিরহাট জুড়ে তীব্র আন্দোলন, পথ অবরোধের ডাক দেওয়া হয়েছে।’

Related Articles

Back to top button
Close