fbpx
হেডলাইন

‘আমাদের পেটাচ্ছে পুলিশ!’ হতভম্ব দাঁতনের তৃণমূল কর্মীরা

তারক হরি, পশ্চিম মেদিনীপুর: ‘আমাদের পেটাচ্ছে পুলিশ!’ হতভম্ব দাঁতনের তৃণমূল কর্মীরা। চাঞ্চল্যকর এমন ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দাঁতন শহরে। সূত্রের খবর, সোমবার দাঁতন গ্রাম পঞ্চায়েতের অফিসে ঢুকে এক বিজেপি কর্মী সকল কর্মীদের এক ধার থেকে গালমন্দ করতে থাকে। পুজোর ছুটির পর সবে অফিস খুলেছে তারমধ্যেই এমন কাণ্ডে হকচকিয়ে যান পঞ্চায়েত কর্মীরা। তৃণমূলের উপপ্রধান দেবেশ দাস ওই বিজেপি কর্মীকে বের করে দিতে বলেন। তারপর তৃণমূলের দুই কর্মী বিজেপির ওই কর্মীকে বের করে দেয়।

এই ঘটনার পর যে দুই কর্মী, বিজেপি কর্মীকে বের করে দিয়েছিল তার একজন বিজেপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় বিজেপি কর্মীদের দ্বারা আক্রান্ত হন। মারাত্মক ভাবে মারা হয় ওই তৃণমূল কর্মীকে, তাঁর হাত ভেঙে দেওয়া হয় এবং গুরুতর ভাবে আহত হওয়ায় তাঁকে মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ থেকে কলকাতায় স্থানান্তরিত করতে হয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়েই দাঁতন থানার পুলিশ ১১ জন বিজেপি কর্মীকে তুলে নিয়ে যায়। বিজেপি অফিস প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়। মাত্র ২জন কর্মী অফিসে ছিলেন। ওই সময় তৃণমূলের কর্মীরা জমায়েত হয়ে বিজেপি অফিসের দিকে তেড়ে যায়, জমায়েত তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে বেশির ভাগ তরুণ সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশ ছিল। পুলিশ ওই দুই বিজেপি কর্মীকে দ্রুত পালাতে বলে কিন্তু তারা পালাতে পারেননি তার আগেই তৃণমূলের বাহিনী পার্টি অফিস ঘিরে ফেলে। পুলিশের বক্তব্য এই উন্মত্ত তৃনমূল কর্মীরা নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে গেছিল। পুলিশের নিষেধ অগ্রাহ্য করেই ঘিরে ফেলেছিল বিজেপি অফিস। একটা অংশ আবার পেছনের দিক দিয়ে অফিসটি ভাঙার পরিকল্পনায় ছিল। এদের সরাতে না পারলে ওই দুই বিজেপি কর্মী গণপিটুনির শিকার হয়ে যেত।

সোমবার যেহেতু সারা রাজ্য জুড়ে বিজেপির থানা অভিযান ছিল, এবং দাঁতনে বিজেপি কিছুটা শক্তিশালী তাই অশান্তি এড়াতে এসডিপিও বেলদা সুমনকান্তি ঘোষ নিজে হাজির ছিলেন। আনা হয়েছিল কেশিয়াড়ী আইসিকেও । ঘটনা নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যাচ্ছে এবং মারাত্মক ঘটনা ঘটতে পারে তার আশঙ্কা করেই দুজনে কড়া হাতে পরিস্থিতির মোকাবিলায় নামেন। বেধড়ক লাঠি চার্জ করা হয় জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে। বেশ কয়েকজন মার খান। হতভম্ব তৃনমুল কর্মীরা এলাকা ছেড়ে বাঁচেন। পুলিশ তৃনমূলকর্মীকে মারার ঘটনায় ইতিমধ্যে ৫বিজেপি কর্মীদের গ্রেপ্তার করেছেন।

এদিকে ঘটনার অভিঘাত সামলে তৃনমূল কর্মীরা বেলদা দাঁতন রাজ্য সড়ক অবরোধে সামিল হয়। অচল হয়ে পড়ে যান চলাচল। তৃনমূল কর্মীরা বিক্ষোভ করতে থাকেন এসডিপিওকে এই এলাকা থেকে ট্রান্সফার করতে হবে এবং পুলিশকে তাঁদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। দীর্ঘ কয়েক ঘন্টা ধরে অবরোধ চলে। ঘটনার খবর পেয়ে ছুটে আসেন দাঁতনের বিধায়ক বিক্রম প্রধান। পুলিশের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিক বিষয় খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়াতে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।

তবে ঘটনা যাই বা ঘটুক না কেন, দিনের শেষে পুলিশের মার নিশ্চিত ভাবেই হতবাক করে দিয়েছে তৃনমূল কর্মীদের। পুলিশের হাতে বেধড়ক মার খেয়ে যেন হুঁশ ফিরল শাসকদলের। এতদিন নিরবিচ্ছিন্ন আধিপত্য আর পুলিশের সঙ্গে দহরম করেই দিন কাটছিল। এদিক থেকে দাঁড়িয়ে এতদিন ওদিকে থাকা বিরোধী নেতা কর্মীদেরই পিঠেই পুলিশের লাঠি পড়তে দেখে দেখে হয়ত ভুলেই গেছিলেন যে পালা একদিন তাঁদেরও আসবে!

সেই পালাই যেন এল সোমবার। নিজেদের কর্তব্যপরায়ন বোধ দেখালো দাঁতন থানার পুলিশ।পুলিশের হাতে বেধড়ক ধোলাই খেয়ে দিকবিদিক শূন্য হয়ে পড়িমরি করে ছুটে পালাতে দেখা গেল তৃনমূল কর্মীদের। তারপর হতভম্ব ভাব কাটিয়ে যখন হুঁশ ফিরেছে তখন ভাবনা একটাই , আমাদের পেটালো পুলিশ! কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে দিয়ে বিজেপিরা নেতারা অবশ্য বলছেন, দিন বদলাচ্ছে, বুঝতে পারছে পুলিশও।

Related Articles

Back to top button
Close