fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

মালদায় সাবওয়ে তৈরী নিয়ে বিজেপি তৃণমূল দ্বন্দ্ব

মিল্টন পাল, মালদা: রেল লাইনের নীচে সাবওয়ে তৈরি নিয়ে বিজেপি তৃণমূল বাকবিতন্ডা। রবিবার সাবওয়ে তৈরির কাজের সূচনা করতে গিয়েই উত্তর মালদার বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্ম ও স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর পরিতোষ চৌধুরী। এর আগেই ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান নীহার রঞ্জন ঘোষ নারকেল ফাটিয়ে সাবওয়ে তৈরীর কাজের সূচনা করেন। ঘটনাটি ঘটেছে মালদা মালঞ্চ পল্লী এলাকার তিন নম্বর ওয়ার্ডে। ঘটনাস্থলে রেল পুলিশ ও ইংরেজবাজার থানার পুলিশ।

দীর্ঘদিন ধরে মালঞ্চপল্লী এলাকায় সাবওয়ে তৈরীর কথা রেল কতৃপক্ষকে। কিন্তুু তা স্বত্বেও কোন কাজ হচ্ছিলো না। আর যার ফলে একাধীক সময় মালঞ্চপল্লী, কৃষ্ণপল্লী এলাকার মানুষ দূর্ঘটনার কবলে পরে। এরপর ২০১৭ সালে সাবওয়ে তৈরীর উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরবর্তীতে অজানা কারনে থমকে থাকে এই সাবওয়ে তৈরী। ২০১৯সালে কেন্দ্রীয় সরকারের সাবওয়ে তৈরীর কাজের সূচনা করেছিল ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যন নীহার রঞ্জন ঘোষ। রেলের সাবওয়ে তৈরীর কাজের দায়িত্ব থাকে কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর। কিন্তু তা সত্ত্বেও ওই রেল সাবওয়ে তৈরীর কাজ বন্ধ থাকে। এরপর রবিবার ওই কাজের প্রথম সূচনা করতে যায় নীহার রঞ্জন ঘোষ। এরপর উত্তর মালদার বিজেপি সাংসদ এদিন মালঞ্চ পল্লী সাবওয়ের কাজের সূচনা করতে গেলে শুরু হয় স্থানীয় কাউন্সিলর পরিতোষ চৌধুরীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডা।

সাবওয়ে তৈরীর লাগানো ফ্লেক্স ছেড়ে দেয় তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা বলে অভিযোগ বিজেপি সাংসদের।ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ইংরেজবাজার থানার পুলিশ ও রেল পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ঘটনায় বিজেপি জেলা সভাপতি গোবিন্দ চন্দ্র মন্ডল ও কর্মী সর্মথকদের হেনস্থা করা হয় বলে বিজেপির অভিযোগ।

আরও পড়ুন: নিখোঁজ থাকার পর বিজেপি কর্মীর মৃতদেহ উদ্ধার, উত্তেজনা জুনপুটে

উত্তর মালদার সংসদ খগেন মুর্মু বলেন, মালঞ্চ পল্লী সাবওয়ে তৈরী স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি। আমরা চাইছি না কোন রাজনীতি করতে। আমরা চাইছি কাজ হোক। যারা রাজনীতি করার জন্যই শুধুমাত্র রাজনীতি করে। স্থানীয় কাউন্সিলর এখানে এসে রাজনীতি করছে। এখনকার কাউন্সিলর ও পুরসভার চেয়ারম্যান নারকেল ফাটিয়ে চলে যাচ্ছেন এটা কি রাজনীতি করার জায়গা। এখানে কাজ করতে হবে মানুষকে কাজ দাও। কাজ হচ্ছে কেন্দ্র টাকা দিচ্ছে তাই এখানে কাজ হচ্ছে। রাজ্য সরকার এখান থেকে বিদেশে লোকে পাঠাচ্ছে মানুষকে। এখন যখন মানুষ বিপদে পড়েছে তখন আনার জন্য একটাও কাজ করছে না। তবুও বলছি বাংলা এগিয়ে বাংলা। বাংলা পিছিয়ে। এখান থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ বাইরে কাজ করতে গিয়েছে কেন গেছে। মুখ্যমন্ত্রী এবং তৃণমূলকে জবাব দিতে হবে। এখানে যখন কাজ হচ্ছে তখন কাজে বাধা দেওয়া হচ্ছে। আমার এখানে ব্যানার দিয়েছে আমি একজন সাংসদ এখানে দিতে পারে। আমার ব্যানার ছিঁড়ে দিয়েছে ওরা। কে অধিকার দিয়েছে আমার ব্যানার ছেড়ে দেওয়ার। তৃণমূল এখানে আসতে পারে দেখতে পারে কাজ। তৃণমূল কাজ করার জন্য আসেনি, শুধুমাত্র চুরি, লুটের জন্য এসেছে। সমস্ত রেশনের মাল চুরি করছে লুট করছে। শহর সভাপতির গায়ে হাত দিয়েছে ধাক্কাধাক্কি করেছে।

পাল্টা তিন নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পরিতোষ চৌধুরী বলেন, ধাক্কা ধাক্কির কোনো বিষয় নয় এখানে লকডাউনটা মানতে হবে। ওরা এসেছে লকডাউন এবং অন্যায় ভাবে ওরা এখানে এসেছেন। যেখানে কাজ হচ্ছিল সেখানে মানুষ পৌঁছে গেছে। এত লোক যখন এক জায়গাতে জমায়েত হয়েছে তখন আমি সেখানে গিয়ে তাদেরকে বলছি সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কাজ করতে। ফ্লেক্স কে কোথায় লাগিয়েছে সেকথা আমরা বলতে পারব না। যারা লাগিয়েছে তারাই বলতে পারবে। ওরা ইচ্ছা করে ছিঁড়তে পারে। বাইরে থেকে লোক আসছে মানে এখানে রাজনীতি করছে। মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ করছে বিজেপি।

Related Articles

Back to top button
Close