fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

নবান্ন অভিযানে ধুন্ধুমার, জলকামান, লাঠিচার্জ, শুক্রবার মৌন মিছিল করবে বিজেপি

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিজেপির যুবমোর্চার ডাকে নবান্ন অভিযানকে ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল কলকাতা ও হাওড়ার একাধিক এলাকা। হাওড়া ময়দান, সাঁতরাগাছি, হেস্টিংস, বড়বাজার উত্তপ্ত হয়ে উঠে পুলিশ ও বিজেপি কর্মী সমর্থকদের খণ্ডযুদ্ধে। ব্যারিকেড ভেঙে মিছিল এগোতে গেলে পুলিশ জলকামান, কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়ে। বিজেপির অভিযোগ জলকামানে রাসায়নিক স্প্রে করা হয়েছে।

এদিন পুলিশের লাঠিচার্জ আহত হন কেন্দ্রীয় সহ পর্যবেক্ষক অরবিন্দ মেনন, মাথা ফাটে রাকেশ সিংয়ের, আহত হয়েছেন সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো। বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের দাবি ৭০০ জন নেতা কর্মী আহত হয়েছেন।

এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, অশান্তি বাধানোর অভিযোগে কলকাতায় ৮৯ ও হাওড়ায় ২৪ জন , মোট ১১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বেরোজগারি, টেট, এস এস সি পরীক্ষায় দুর্নীতিসহ ৭ টি ইস্যুতে বৃহস্পতিবার নবান্ন অভিযানের ডাক দিয়েছিল বিজেপি। দুপুরে বিজেপি রাজ্য দফতর, হেস্টিংস, সাঁতরাগাছি ও হাওড়া ময়দান থেকে মিছিল শুরু হয়।

বিজেপি রাজ্য দফতরে নেতৃত্বে ছিলেন দিলীপ ঘোষ, অরবিন্দ মেনন, হেস্টিংসে কৈলাস বিজয়বর্গীয়, মুকুল রায়, অর্জুন সিং, লকেট চট্টোপাধ্যায়, হাওড়া ময়দানে ছিলেন বিজেপি যুবমোর্চার সর্বভারতীয় সভাপতি তেজস্বী সূর্য, রাজ্য সভাপতি সৌমিত্র খাঁ, সাংসদ নিশীথ প্রামাণিক, সাঁতরাগাছিতে সায়ন্তন বসু, রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়। কোন মিছিল যাতে নবান্নে যেতে না পারে তারজন্য সবকটি পয়েন্টে ব্যারিকেড করে পুলিশ, এক অর্থে বিশাল পুলিশ বাহিনী দুর্গ তৈরি করেছিল। ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টি করলেই লাঠিচার্জ করে পুলিশ, ছোঁড়া হয় জলকামান।

এদিকে বিজেপির যুব মোর্চার নবান্ন অভিযান কে ঘিরে সকাল থেকেই উত্তেজনা ছড়ায় ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কে ধুলাগোড় টোল প্লাজায়। এদিন নবান্ন অভিযানে অংশ নিতে যাওয়া বিজেপি কর্মীদের পুলিশ বাধা দেওয়ায় জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিজেপি কর্মীরা। যদিও পরে শর্ত সাপেক্ষে বিজেপি কর্মীদের টোল প্লাজা পার হওয়ার অনুমতি দেয় পুলিশ প্রশাসন। সকাল থেকেই কার্যত কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছিল পুলিশ প্রশাসন। জাতীয় সড়কের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে পুলিশ মোতায়ন ছাড়াও ধুলাগোড় টোল প্লাজায় কার্যত দুর্গ বানিয়েছিল পুলিশ। খড়গপুর থেকে কলকাতা অভিমুখে যাওয়ার লেনে ধূলাগোড় টোলপ্লাজায় ঢোকার মুখে পুলিশ ব্যারিকেড করে গাড়ি চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে।

এদিন নবান্ন অভিযানে অংশ নিতে যাওয়া প্রতিটি গাড়িকেই টোল প্লাজার কাছে আটকে দেওয়া হয় এবং তাদের টোল প্লাজা থেকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। নবান্ন অভিযানে বাধা পেয়ে কয়েকজন বিজেপি সমর্থক টোল প্লাজা পার হয়ে জমায়েত করার সময় পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের হটিয়ে দেয়। অন্যদিকে একের পর এক গাড়িকে পুলিশ আটকে দেওয়ায় বিজেপি কর্মীরা গাড়ি থেকে নেমে জাতীয় সড়কে খড়গপুর অভিমুখী লেন অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে।

অন্যদিকে নবান্ন অভিযানকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে হুগলির ডানকুনি দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে চত্বরও। বৃহস্পতিবার হুগলি সহ দক্ষিনবঙ্গের একাধিক জেলা থেকে বিজেপির নেতা কর্মীরা সকাল সকাল নবান্ন অভিযানে যোগ দিতে কয়েশো গাড়ি নিয়ে কোলকাতার উদ্যেশে রওনা হন। কিন্তু এদিন সকাল থেকেই হুগলির ডানকুনি এলাকায় চন্দননগরের পুলিশ কমিশনার হুমায়ুন কবীরের নেতৃত্বে বিরাট পুলিশ বাহিনী মোতায়েত করা হয়।

এদিন হুগলির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন রাস্তায় পুলিশ বিজেপি কর্মীদের মিছিল আটকে দেন।কোলকাতার উদ্যেশে বিজেপি কর্মীরা যেতে চাইলেই পুলিশ তাদের বাধা দেয়। সেই সময়ে পুলিশ কর্মীদের সঙ্গে বিজেপি কর্মীদের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় শুরু হয়। এরপর বিজেপি কর্মীরা দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে অবরোধ শুরু করলে পুলিশ বিজেপি কর্মীদের উপর ব্যাপক লাঠিচার্জ করে। মুহুর্তের মধ্যেই ডানকুনি চত্বর রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়।

বিজেপি যুব মোর্চার নবান্ন অভিযানকে কেন্দ্র করে মূলত সবচেয়ে বেশি উত্তেজনা ছড়ালো
হাওড়ার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায়। সেগুলো হল সাঁতরাগাছি, হাওড়া ময়দান ও হাওড়া ব্রিজ। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা প্রতিরোধে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় মোতায়েন করেছিল পুলিশ প্রশাসন । হাওড়ার সাঁত্রাগাছিতে বিজেপি সমর্থকরা প্রথম ব্যারিকেড ভেঙে দ্বিতীয় পুলিশি বাধা টপকাতে যায়। তখন পুলিশ সেখানে বিক্ষোভকারীদের চিহ্নিত করতে রঙিন জল কামান ব্যবহার করে।

কাঁদানে গ্যাসের সেলও ফাটানো হয় সেখানে । এদিন নবান্ন ঘেরাও অভিযানে কার্যত রণক্ষেত্র চেহারা নেয় হাওড়া ময়দান চত্বর। সেখানে বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ঘনঘন ইঁট ছুঁড়তে থাকে। পুলিশকে লক্ষ্য করে বোম ছোঁড়ারও অভিযোগ ওঠে তাঁদের বিরুদ্ধে । এমনকি পুলিশের দাবি এক বিক্ষোভকারীর কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়। হাওড়া ময়দানে ও জিটি রোডে রাস্তায় টাওয়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভকারীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকে । পুলিশও সেখানে জল কামান ও টিয়ার গ্যাসের সেল ব্যবহার করে আন্দোলন প্রশমিত করার চেষ্টা করে।

এদিন দুপুরে কলকাতা থেকেও বিজেপির বহু কর্মী সমর্থক হাওড়া ব্রিজে এসে নবান্নর দিকে যেতে চায়। তাঁরা ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করেন। কিন্তু পুলিশ তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে। এদিন এই ঘটনায় দুপক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন । আহত পুলিশ কর্মী ও বিজেপি কর্মীদের হাওড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অনেক কর্মী সমর্থকদের গ্রেফতার করে পুলিশ। বিজেপি নেতাদের দাবি পুলিশ গ্রেফতার হওয়া কর্মীদের ছেরে দিক।নাহলে তাঁরা আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে। অবশ্য পুলিশ তাঁদের আশ্বস্ত করেছে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে ঘটনায় তদন্ত করে তারপর বিচার বিবেচনা করে তাঁদের ছেড়ে দেেওয়া হবে।

বিক্ষোভ মিছিলেে উপস্থিত থাকা বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ জানান, তাঁরা গণতান্ত্রিক ভাবেই আন্দোলন করছিলেন । কিন্তু পুলিশ তাঁদের কর্মী সমর্থকদের ওপর লাঠিচার্জ করে। এই ঘটনায় তাঁদের সমর্থকরা ও কয়েকজন সাংবাদিকও আহত হন। হেস্টিংসেও বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ বেধে যায় পুলিশের। বিজেপির অভিযোগ পুলিশের বেপরোয়া লাঠিচার্জে মাথা ফেটেছে বিজেপি নেতা রাকেশ সিংয়ের।

এদিন বেলা যত গড়িয়েছে ততই আন্দোলনের ঝাঁঝ আরও বেড়েছিল । কিন্তু পুলিশি তৎপরতায় বিকেলের দিকে পরিস্থিতি শান্ত হয়। একুশে বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপির এটা একটা বড় ট্রেলার বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল । গেরুয়া শিবিরও মনে করছে রাস্তায় নেমে আন্দোলনে এদিন একুশের ডিভিডেন্ড অনেকটাই বাড়িয়ে নেওয়া গেল।

আজ নবান্ন অভিযানকে কেন্দ্র করে বিজেপি কর্মীদের উপর পুলিশের অত্যাচারের বিরুদ্ধে আগামীকাল শুক্রবার মৌন মিছিলের ডাক দিল রাজ্য বিজেপি। একথা জানালেন রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু। শুক্রবার রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের নেতৃত্বে রাজ্য দফতর থেকে গান্ধী মূর্তি পর্যন্ত এই মৌন মিছিল হবে বলে জানান তিনি।

Related Articles

Back to top button
Close