fbpx
পশ্চিমবঙ্গব্লগহেডলাইন

বিজেপি সোনার বাংলা গড়বে

দিলীপ ঘোষ: ২০১১ সালে বাম অপশাসনকে পরাস্ত করে তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যে সরকার গঠন করে। মানুষের পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়। এতদূর পর্যন্ত ঠিক ছিল। তারপর কী হল? তৃণমূল সরকার প্রতিশ্রুতি পালনে তাদের ব্যর্থতার উৎকৃষ্ট নিদর্শন প্রতিষ্ঠা করল বাংলার বুকে। বাংলার উন্নয়নের খাতাটি তৃণমূলের পাঠ্যক্রমে ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবেই রয়ে গেছে। আদতে, বাংলার মানুষ তীব্রভাবে প্রবঞ্চনার শিকার হয়েছে এই সরকারের দ্বারা। শিল্প, শিক্ষা তো বর্তমানে অনুবীক্ষণ যন্ত্রে দেখতে হয়। বাকি পড়ে থাকা বাংলার সম্পদভাণ্ডারেও লেগেছে তৃণকীট।
‘মা-মাটি-মানুষের’ সরকার, সরকারে এসে আশ্বাস দিয়েছিল তারা মা-মাটি-মানুষের পাশে থাকবে। বাংলা মা এবং বাংলার মায়েরা, বাংলার মানুষ এবং বাংলার মাটি। নিঃসন্দেহে এটি একটি আকর্ষণীয় উদ্ধৃতি ছিল। কিন্তু আদতে আমরা উল্টোটাই দেখতে পেলাম। বাংলায় বর্তমানে প্রায় প্রতিটি সাংস্কৃতিক, শিক্ষা, জীবিকাক্ষেত্রে রাজত্ব করছে তৃণমূলের তোলাবাজ বাহিনী। আক্ষরিক অর্থে একেশ্বরবাদ প্রতিষ্ঠা করেছে তৃণমূল। গোটা পশ্চিমবঙ্গ চলছে একজন মানুষের অঙ্গুলিহেলনে। স্বৈরাচারের চূড়ান্ততম পরিস্থিতি এটি। বাংলার মানুষ ভালো থাকতে চেয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে কারো ভালো থাকাটা নির্ভর করছে সে কতটা চাটুকারিতা করতে পারছে তার ওপর। গণতন্ত্রের জায়গাই নেই। এক প্রকারের কায়েমি রাজতন্ত্রের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে বর্তমান বাংলা। সুতরাং আমরা দেখতে পাচ্ছি, ম-ম-ম অর্থাৎ মা-মাটি-মানুষের বদলে, ত-ত-ত অর্থাৎ, তানাশাহি, তোষণ ও তোলাবাজির সরকার।

গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে পরিচালিত সরকারে বিরোধীদলের ভূমিকা নিঃসন্দেহে অপরিহার্য। কিন্তু বর্তমান বাংলার শাসনকালের সমীক্ষা করলে দেখা যাবে, বিরোধী দলের ঠিক কতজনকে হত্যা করে বিরুদ্ধ কণ্ঠকে কীভাবে রোধ করা হয়েছে। রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের হত্যা করে, সংবিধানসম্মত প্রতিবাদকে অবদমিত করে গণতন্ত্রের ধ্বজা উড়িয়ে রাখা যায় না। মানুষ বর্তমান সরকারের স্বরূপ জেনে গেছে। শুধু তাই নয়, পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক পরিকাঠামোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। রাজনীতিতে ক্রমাগত অপরাধচেতনা ঢুকছে এবং দুর্নীতিকে রাজনীতির সংজ্ঞা দেওয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষের কাছে রাজনীতি বলতে দুর্নীতিই চোখে পড়ছে। রাজনৈতিক সংস্কৃতির এতটাই অবনমন ঘটেছে। সাধারণ মানুষের কথা ভাবা তো দূর অস্ত, সাধারণ মানুষ কী ভাবছেন বা বলতে চাইছেন তা নিয়ে সরকারের কোনও হেলদোল নেই। সাধারণ মানুষের ভোটে জয়ী হয়ে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাধারণ মানুষ, বাংলার সাধারণ নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার ও বাক্-স্বাধীনতা হরণ করে স্বৈরাচারী রাজত্ব শুরু করেছেন। অপরাধ বিজ্ঞানের কোন স্তরের অপরাধ এটি, তা আমাদের জানা নেই। নানা মুনির নানা মত থাকা সত্ত্বেও বাংলার আপামর সাধারণ মানুষ এটা স্বীকার করবেনই যে, বাংলায় বা পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে গণতন্ত্রে হত্যালীলা বিগত নয় বছরের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। গণতন্ত্রের চিতার ভস্ম মেখে তৃণমূলের দুর্বৃত্তেরা উল্লাস করছে।

বেআইনি অস্ত্র মজুতে ভারতবর্ষে শীর্ষস্থানে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মদতে রাজ্যেই তৈরি হচ্ছে বোমাসহ নানান বিধ্বংসী অস্ত্রশস্ত্র। সন্ত্রাসের আখড়া তৈরি হচ্ছে বাংলার বুকে। তৃণমূল কংগ্রেস সরকার মাওবাদকে পুনরুজ্জীবিত করতে প্রচ্ছন্ন মদত দিচ্ছে এবং ছত্রধর মাহাতোদের মতো দাগী মাওবাদীদের নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে। পর পর ঘটে চলা খাগড়াগড় বা নৈহাটি বা ব্যারাকপুর বিস্ফোরণকাণ্ডে শাসক দলের সন্ত্রাস এবং জঙ্গি কার্যকলাপের রমরমা সামনে চলে এসেছে। শাসকদলের প্রত্যক্ষ সংযোগ ছাড়া কখনও একটা রাজ্যের মধ্যে এভাবে সন্ত্রাস চলতে পারে না।

সাম্প্রতিক অতীতে যখন মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে সাতজন আল-কায়দা জঙ্গি ধরা পড়ে তখন তা পশ্চিমবঙ্গে জঙ্গিকার্যকলাপ বৃদ্ধি ও তাতে শাসক দলের প্রচ্ছন্ন মদত চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। সুতরাং, এ কথাও প্রমাণিত যে, শুধুমাত্র রাজনৈতিক সুবিধার্থে তৃণমূল সরকার সন্ত্রাসবাদকে প্রশ্রয় ও ব্যবহার করে চলেছে।

তৃণমূল সরকার মুখে ধর্মনিরপেক্ষতার বাণী আওড়ালেও আদতে এই সরকার আপাদমস্তক সাম্প্রদায়িক। এই সরকারের আমলে ধূলাগড়, আসানসোল, রাণীগঞ্জ, তেলেনিপাড়া, কালিয়াচক, বাদুড়িয়া প্রভৃতি জায়গায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্নেহধন্য বিশেষ সম্প্রদায়ের সদস্যরা বেলাগাম হিংসা ছড়িয়েছে। দাঙ্গা-হাঙ্গামায় বহু মানুষের ক্ষতি হয়েছে। সাধারণ জনজীবন পর্যুদস্ত হয়েছে। অথচ দাঙ্গাবাজদের কোনও শাস্তি হয়নি। পশ্চিমবঙ্গে দাঙ্গাকারীদের শাস্তি হয় না, তারা সরকারি খিদমত খাটে। সম্প্রতি আরও একটি ঘটনায় দেখা যাচ্ছে, রায়গঞ্জের একটি স্কুলে নির্মমভাবে দু’জন তরুণ পড়ুয়াকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। কারণ কী? কারণ, ওই দুই পড়ুয়া বিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে উর্দু পড়তে চায়নি, প্রতিবাদ জানাতে গিয়েছিল। এছাড়াও, কলকাতায় মহরমের জন্য দুর্গাপুজোর বিসর্জন স্থগিত রাখা হয়। হাড়োয়ায় সরস্বতী পুজো বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিংবা ভারত মাতার পুজো পর্যন্ত বন্ধ করিয়ে দেওয়া হয়। তৃণমূল সরকার সংখ্যালঘু ভোটব্যাংক রক্ষার উদ্দেশ্য নিয়েই এসব করে তা বলাই বাহুল্য। আর এসবের জন্যই দুর্বৃত্তবাহিনীকে সুরক্ষাপ্রদান করতে তিনি পিছুপা হন না। এই সব ঘটনাক্রম তৃণমূল কংগ্রেসের ভোটব্যাংক রাজনীতিরই পরিচায়ক। আজকের পশ্চিমবঙ্গে তিন ধরণের আইন কাজ করে – একটি আইন ভাইপোর জন্য, একটি ভোটব্যাংকের জন্য আর একটি সাধারণ মানুষের জন্য। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ কি এই তোষণের রাজনীতি মেনে নেবে? রাজ্যের সংখ্যালঘু মানুষদের মনে করিয়ে দিতে চাই যে মমতা ব্যানার্জি যদি সত্যি তাদের সার্বিক উন্নতি চাইতেন তাহলে তাদের চাকরি দিতেন, সমাজের মূলস্রোতের শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করতেন, ভোট বৈতরণী পার হতে তাদের তিনি কাজে লাগিয়ে ছুঁড়ে ফেলে দিতেন না। এখনও ভাববার সময় আছে। তাই সংখ্যালঘু ভাইবোনেদের কাছে আমার অনুরোধ নিজেদের পাশাপাশি মমতা ব্যানার্জিকেও এই প্রশ্ন করুন।

এবার আসা যাক, বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের নারীসুরক্ষার অবস্থায়। ভারতের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ নারীসুরক্ষার ক্ষেত্রে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। ২০১৮-তে রাজ্যে ১০৬৯-টি ধর্ষণকাণ্ড এবং ৯৪৪ টি ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। ২০১৬ থেকে ২০১৮-র মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে কমপক্ষে ৮৪,৩৬৯ জন মহিলার নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের হয়। ২০১৮-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে নারীদের উপর হওয়া অত্যাচারের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করার পরিসংখ্যান হলো মোটে ৫.৩%। ২০১৮-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গ মহিলাদের ওপর অ্যাসিড আক্রমণের শীর্ষে ছিল। অতএব একথা প্রমাণিত যে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে একজন মহিলা হওয়া সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের ওপর হওয়া অত্যাচার ঠেকাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ।

সম্প্রতি, কাটমানি সংক্রান্ত তৃণমূলের দুর্নীতিগুলিও সর্বসমক্ষে এসে গেছে। তৃণমূলের বহু নেতা-মন্ত্রীদের নামই প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে গেছে এই কাণ্ডে। সরকারি প্রকল্প বা মৌলিক পরিষেবার সুবিধা পেতে হলে সাধারণ মানুষকে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে কাটমানি দিতে হচ্ছে। এভাবেই বাংলার সম্পদ শোষণ করে মুখ্যমন্ত্রীর ও তাঁর দলীয় নেতাদের স্বজনপোষণ চলছে বাংলায়।
সম্প্রতি আমফানে ব্যাপক দুর্নীতি নিয়ে মহামান্য কলকাতা হাইকোর্ট ক্যাগকে (CAG) তদন্তের নির্দেশ দিয়ে আগামী তিন মাসের মধ্যে রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে। এর থেকে প্রমাণিত হয় যে বিজেপি এতদিন যে দাবি করে এসেছে সেটা একদম ঠিক ছিল। আর হাইকোর্টের এই অর্ডার আমাদের দাবিকে মান্যতা দিয়েছে। আমরা নিশ্চিত যে কিছু দিনের মধ্যেই আসল অপরাধীরা ধরে পড়বে এবং তৃণমূল কংগ্রেস নামক দলটি যে দুর্নীতির সঙ্গে সমার্থক সেই দাবিতে সরকারি সিলমোহর পড়বে। গত ৯ বছরে ঘূর্ণিঝড়প্রবণ এলাকাগুলিতে মাত্র ১৯৬টি আশ্রয়স্থল স্থাপন করা হয়েছে। সুন্দরবনে বাঁধ তৈরি এবং সংস্কারের জন্য বরাদ্দ ৫,০০০ কোটি টাকা এখনও ব্যবহার হয়নি। এহেন প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেও যারা সাধারণ মানুষকে লুঠ করতে পারে, তারা কখনও গণতান্ত্রিক দল হতে পারে না।

“বেঙ্গল মিনস্ বিজনেস”, গাল ভরা নাম হলেও এর আওতায় আজ পর্যন্ত কোনও সংস্থা এ রাজ্যে ব্যবসা করতে আসেনি। বরং টালমাটাল অর্থনীতির জেরে বহু সংস্থাই এই রাজ্য ছেড়ে চলে যাচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেসের চরম উদাসীনতার ফলে ডানলপ, হিন্দুস্থান মোটরস, এবং বহু চটকল আজ বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার জন্য আজ পশ্চিমবঙ্গ চার লক্ষ কোটি টাকারও বেশি ঋণের দায়ে জর্জরিত। এই অদক্ষতার জন্য গোটা পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত সম্ভাবনা ভবিষ্যতের গাঢ় অন্ধকারে পড়ে থাকতে বাধ্য হবে।
পশ্চিমবঙ্গে বেকারত্ব ও যুবসমাজের মধ্যে আত্মহনন প্রবণতা সমানুপাতিক ভাবে বেড়ে চলেছে। শিক্ষার ব্যবস্থাও তথৈবচ। রাজ্যে কেবলমাত্র ১,৩৩১টি কলেজ রয়েছে। ৮০% শিক্ষার্থী স্কুল পাস করে কলেজগুলিতে ভর্তি হতে পারেন না। রাজ্যে কাজের সুযোগের অভাবে আমাদের যুবকযুবতীদের নিজেদের পরিবার ফেলে ভিন রাজ্যে পাড়ি দিতে হচ্ছে। রাজ্য সরকার ‘চপশিল্প’-এর নিদান দিলেই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব?

বিশ্বব্যাপী করোনাতে মহামারীতে রাজ্যের চরম দুর্গত অবস্থা। প্রথম থেকে করোনা আক্রান্তদের পরিসংখ্যান গোপন করে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি নাগরিকের জীবনকে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। রোগ নিরূপণ ও নিয়ন্ত্রণ বা নিরাময়, প্রতিটি ক্ষেত্রেই রাজ্য সরকার ব্যর্থ হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পের সুফল লাভ করা থেকে রাজ্যবাসীকে বঞ্চিত করা হয়েছে। যে প্রকল্প থেকে মহামারী পরিস্থিতির জন্য উপযুক্ত আর্থিক সহায়তা আসত, তা শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্বার্থে বন্ধ রাখা হল। এই সরকারের উপর সাধারণ মানুষ কীভাবে ভরসা করবে।

কৃষিপ্রধান বাংলার অভ্যন্তরের অবস্থাও যথেষ্ট খারাপ। তৃণমূল কংগ্রেস আশ্রিত ফোঁড়েরা চাষিভাইদের সমস্ত মুনাফা লুঠ করে নিচ্ছে, তাই তো আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় সরকারের কৃষি আইন বদলের বিরোধিতা করছেন। পশ্চিমবঙ্গে প্রধানমন্ত্রী কিষাণ যোজনা ও ফসল বিমা যোজনা চালু না করার ফলে রাজ্যে ৭০ লক্ষ গরীভ চাষিদের বঞ্চিত করেছে সরকার। ফলে, দুর্যোগের পর কৃষকরা সহায়তা পাচ্ছে না। সরকারের তহবিলেও মোকাবিলা করার মতো উপযুক্ত অর্থ আসছে না। অন্নদাতা কৃষকদের জীবন নিয়েও রাজনীতি করা হচ্ছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার এখন তাদের হারানো সময়কে ফিরে পেতে মরিয়া। তারা তাদের বিভিন্ন কর্মসূচির বাস্তবায়নের জন্য উদগ্রীব হচ্ছে। কিন্তু এটা আর কিছুই নয়, বিগত নয় বছরে তাদের সর্বক্ষেত্রে বিফলতার খতিয়ান। তারা চাইছে যেনতেন প্রকারে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে। এবং তারা তাদের এই প্রচেষ্টাকে বাস্তবায়িত করার জন্যে কূটনীতির আশ্রয় নিচ্ছে। তারা বাঙালী ও অবাঙালীদের মধ্যে বিভেদ করতে চাইছে, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের নাগরিক এই তৃণমূল আর নয় বলবেন। তৃণমূল এই নির্বাচনে বিজেপিকে হারাতে মরিয়া। তারা মানুষকে ভুল বোঝাতে চাইবে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের নাগরিক এই তৃণমূল আর নয় বলবেন। মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য অন্য বিজেপি রাজ্যে কি হচ্ছে তা নিয়ে কুৎসা রটাবে তৃণমূল, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের নাগরিক এই তৃণমূল আর নয় বলবেন। নির্বাচনের ঠিক আগে তৃণমূল নানা রকম উপঢৌকন দিয়ে বাংলার মানুষের কাছে তাদের নয় বছরের ব্যর্থতা ঢাকার এক সর্বোপরি চেষ্টা করবে, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের নাগরিক এই তৃণমূল আর নয় বলবেন। তৃণমূল সর্বতোভাবে চেষ্টা করবে মানুষ যাতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে না পারে, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের নাগরিক এই তৃণমূল আর নয় বলবেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভ্রান্তিকর ও উস্কানিমূলক তথ্য ছড়িয়ে তৃণমূল সাধারণ মানুষকে ভুল বোঝাতেই চাইবে, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের নাগরিক এই তৃণমূল আর নয় বলবেন। তৃণমূল গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করতে চাইবে, সাধারণ মানুষকে ভয় দেখতে চাইবে, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের নাগরিক এই তৃণমূল আর নয় বলবেন। দীর্ঘ নয় বছর ধরে রাজ্যের উন্নয়নের যাত্রাপথে তৃণমূল যে গর্তগুলো খনন করেছে, সেগুলি আবারো মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঢাকতে চাইবে, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের নাগরিক এই তৃণমূল আর নয় বলবেন।

কেন্দ্রে বিজেপি সরকার এটা প্রমাণ করে দিয়েছে যে বাংলায় বিজেপির কোনও বিকল্প আর নেই। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিজীর নেতৃত্বে দেশ এক অভূতপূর্ব উন্নয়নের সাক্ষী হয়েছে। তাই আজ ভারত পৃথিবীর বৃহত্তম শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে কারণ বিজেপির রাজনৈতিক সদিচ্ছা আজ সকলের কাছে সুস্পষ্ট। দেশের সমস্ত মানুষকে একসঙ্গে নিয়ে তাদের সার্বিক উন্নয়ন করাই বিজেপির প্রধান ও প্রাথমিক অঙ্গীকার। আর এই দেশ ও জাতির সার্বিক উন্নয়নকে সার্থক করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিজীর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় সরকার কিষাণ কল্যাণ, স্বচ্ছ ভারত, উজ্জ্বলা যোজনা, মুদ্রা যোজনা, আত্মনির্ভর ভারত, ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার, গ্রাম সড়ক যোজনা, আয়ুষ্মান ভারত ইত্যাদি বহুবিধ কর্মসূচি সুচারু ভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার লক্ষ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল সরকার আয়ুষ্মান ভারত সহ কেন্দ্রীয় সরকারের গরিব ও কিষাণ উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির একটিকেও পশ্চিমবঙ্গে চালু করতে দেয়নি। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ আরও পিছিয়ে পড়ছেন।

সুদীর্ঘ ৪৩ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গের সার্বিক উন্নয়ন স্তব্ধ হয়ে আছে শুধুমাত্র কেন্দ্রের সঙ্গে সংঘাতের কারণে, যে ধারা আজও অব্যাহত। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মানুষের আশীর্বাদ ও মহামায়ার কৃপাবলে বিজেপি এই প্রথার অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গে আসল পরিবর্তনের জোয়ার আনবে বলে মনস্থির করেছে। তাই বাংলার মানুষ এখন কেন্দ্রে ও একই সঙ্গে রাজ্যেও বিজেপিকে চায় কারণ তারা বিশ্বাস করে একমাত্র ডাবল ইঞ্জিনের সরকারের মাধ্যমেই রাজ্যে উন্নয়নের জোয়ার বওয়ানো সম্ভব। বিজেপি পরিবারের পক্ষ থেকে আমাদের অনুরোধ সাধারণ মানুষকে, তাঁরা এগিয়ে আসুন, পশ্চিমবঙ্গকে ‘সোনার বাংলা’ হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করা হোক সকলে মিলে।

লেখক: বঙ্গ বিজেপি সভাপতি

Related Articles

Back to top button
Close