fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

কোচবিহার জেলার ৯ এ ৯ টি আসন এবার বিজেপি দখল করবে: দিলীপ ঘোষ

জেলা প্রতিনিধি, কোচবিহার: লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই উত্তরবঙ্গ পাখির চোখ করে কার্যত নিজেদের সাংগঠনিক ক্ষমতা বৃদ্ধির লড়াইয়ে নেমেছে বিজেপি। আর তারই ফলশ্রুতি হিসেবে বুধবার কোচবিহার শহরের কর্মসূচি গ্রহণ করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। সকাল ছটা থেকে তার কর্মসূচি শুরু হয় কোচবিহার জেলায়। চায়েপে চর্চা কর্মসূচির মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হয় দিলীপ বাবুর। কোচবিহার সাগরদিঘি চত্বরে প্রাতঃভ্রমণের মাধ্যমে দিন শুরু হয় তার। এরপরেই দলীয় কার্যালয়ে আংশিক মিটিং এরপরে তিনি চলে যায় কোচবিহার পান্থনিবাসের বিজয়া সম্মিলনী অনুষ্ঠানে। সেই অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়েই তিনি কোচবিহার জেলার ৯ টি জনসভা কেন্দ্র বিজেপির দখলে আনার বার্তা দেন। বিজয়া সম্মিলনী পরে কোচবিহার দিনহাটা মহকুমার নিজেদের ক্ষমতা এবং সাংগঠনিক পরিস্থিতি দেখাতে মহামিছিলে সামিল হন দীলিপবাবু। প্রায় ৫০ হাজার মানুষের সমাগমে দিনহাটা মহকুমা শহর এলাকায় স্টেশন থেকে শুরু করে গোটা শহরে মহা মিছিল সংঘটিত হয়। এই মিছিলের নেতৃত্ব দেন দীলিপবাবু।

উপস্থিত ছিলেন কোচবিহারের সাংসদ নিশীথ প্রামানিক, কোচবিহার জেলা সভানেত্রী মালতি রাভা, দিনহাটার বর্ষীয়ান বিজেপি নেতৃত্ব অশোক মন্ডল, সংখ্যালঘু মোর্চার আনোয়ার হোসেন সহ অন্যান্যরা। এদিন দিনহাটা শহর কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায় মিছিলে।হাজারে হাজারে মানুষ এদিন মিছিলে অংশগ্রহণ করেন বলে শহরের সাধারণ জনজীবন স্তব্ধ হয়ে যায়। যদিওবা তৃণমূলের তরফে দাবি করা হয়েছে দিনহাটা শহর বা দিনহাটা এলাকার কোন মানুষ মিছিলে অংশগ্রহণ করেননি বাইরে থেকে লোক নিয়ে এসে মিছিল করা হচ্ছে দিনহাটায়। পাশাপাশি এদিন বিজয়া সম্মিলনী অনুষ্ঠানে কোচবিহার জেলা পৌর এলাকা থেকে প্রচুর তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থক কর্মী বিজেপিতে যোগদান করেন বলে দাবি করেন বিজেপি নেতৃত্বরা। কোনও ছলচাতুরি নয়, দীলিপবাবু ৭ থেকে সরাসরি তৃণমূলের কর্মীরা এই পতাকা তুলে নিয়েছেন বলে জানান জেলা বিজেপি সভানেত্রী মালতি রাভা।

এদিন দিলীপবাবু নিজের ছন্দে বলেন, “এবার বাংলা পারলে সামলা”, বর্তমান শাসক দলের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। তার কথায় ইতিমধ্যেই বিহার এর মানুষ বিজেপির প্রতি তাদের ভালোবাসা এবং ইচ্ছা ভোটের বাক্স প্রকাশ করে দিয়েছেন, এবার বাংলার পালা। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, কোচবিহার জেলার ৯ এ ৯ টি আসন এবার বিজেপি দখল করবে।তৃণমূল কংগ্রেসের লাগামছাড়া দুর্নীতি এবং মানুষের প্রতি অমানুষিক ব্যবহারই তাদের অন্যতম নেতিবাচক পন্থা হয়ে দাঁড়াতে চলেছে। ইতিমধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের বেশকিছু বিধায়ক এবং জেলা পর্যায়ের উচ্চ কর্মীরা তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছেন, আগামীতে পায়ের নিচে মাটি থাকবে না তৃণমূল কংগ্রেসের। দীলিপবাবুর কথায়,তৃণমূল কংগ্রেসের বেশকিছু বিধায়কের নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছে তারা অবশ্যই বিজেপির সঙ্গে আসতে পারে এবং খোলা হয় শ্বাস গ্রহণ করতে পারে। বাংলাতে পরিবর্তন করার ক্ষেত্রে তারাও বিজেপির সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলতে পারে। জুলুম অত্যাচারের তাই সে সমস্ত বিধায়করা নতুন বাংলা গঠন করতে চান তারা অবশ্যই বিজেবির সঙ্গে যোগাযোগ করুন আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি এই বার্তাই দেন দীলিপবাবু।পরিবর্তন শুরু হয়েছে পরিবর্তনের হাওয়া সামাল দেওয়া বাংলার পক্ষে এখন যথেষ্ট কষ্টদায়ক, বাংলার সাধারণ মানুষের জাগরণ ঘটছে।

কোচবিহারের প্রতিটি কর্মীকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছতে নির্দেশ দেন তিনি। তিনি বলেন, কোচবিহারের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌছাতে হবে। কোন মানুষ জেনো বোলতে না পারেন, তার আছে বিজেপি পৌছায় নি। প্রতিই মানুষের দোরগরায় পৌছাতে হবে কর্মী দের। জানুয়ারি থেকে প্রধান মন্ত্রী আসবেন বাংলায়, কোচবিহারে আসবেন বলেও কথা দেন দিলীপ বাবু। বাংলায় পরিবর্তন হবেই।

আরও পড়ুন: বাংলায় খাদ্যের অভাবে কেউ মারা যায়নি: ছত্রধর মাহাতো

একসময় কোচবিহারে বিজেপি ছিল না, আজ সাধারণ মানুষের আশির্বাদ বিজেপিকে দৃঢ় করেছে। কোচবিহার জেলায় কয়টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ নাটাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্র।কারণ সেই কেন্দ্রের বিধায়ক বর্তমান উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী তথা উত্তর বঙ্গের অন্যতম বর্ষীয়ান এবং গুরুত্বপূর্ণ তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। বুধবার এলাকাতেই বিরাট জনসভা করে কার্যত তাক লাগিয়ে দিলেন দিলীপ ঘোষ। নাটাবাড়ি বলতেই রবীন্দ্রনাথ ঘোষ এটা যেন আর বলা যাবে না আজকের জনসভার পর থেকে। প্রায় ৭০ হাজার মানুষের ভিড় আজকের বিজেপির সভা কে সফল করেছে বলে দাবি করলেন দীলিপবাবু। তিনি বলেন,বাংলার মানুষকে এতটাই বোকা হয়ে গেছে যে বিহার থেকে একজনকে ভাড়া করে নিয়ে এসে বাংলায় নির্বাচন করাতে হবে এবং বাংলার মানুষ তার কথা শুনে ভোট দেবে…? বাংলার মানুষের কি নিজস্ব ধ্যান-ধারণা কিছুই নেই। তিনি প্রকাশ্যে কটাক্ষ করে বলেন,বাংলার মানুষ নিজের ভালোটা অবশ্যই বোঝে সেই কারণেই দলে দলে মিছিলে মিছিলে দ্বারা আজকের বিজেপির ছত্রছায়ায় কর্মিসভায় জনসভায় যোগ দান করেছেন।

Related Articles

Back to top button
Close