fbpx
দেশহেডলাইন

২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে রণকৌশল চূড়ান্ত করে দিলেন বিজেপির রাজনৈতিক চাণক্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ

ইন্দ্রাণী  দাশগুপ্ত, নয়া দিল্লি: ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে বঙ্গ বিজয় সুনিশ্চিত করতে বিজেপির বঙ্গ নেতৃত্বকে রণকৌশল চূড়ান্ত করে দিলেন বিজেপির রাজনৈতিক চাণক্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা।  দুর্গা পুজোর আগেই আগামী ১০ তারিখের পর  রাজ্যে সাংগঠনিক বৈঠক  করতে আসবেন অমিত শাহ। মূলত উত্তরবঙ্গ থেকে শুরু করে সমগ্র বাংলা জুড়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করবেন শাহ এবং নাড্ডা জুটি।

২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে পরপর দুবার বিজেপির কোর কমিটির বৈঠক বসে দিল্লিতে। যেখান থেকে তৈরি খসরা রণনীতি নিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে বারোটায় জেপি নাড্ডার বাড়িতে শুরু হয় এক দীর্ঘ বৈঠক। উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, জেপি নাড্ডা, কৈলাস বিজয়বর্গীয় শিবপ্রকাশ জী, অরবিন্দ মেনন, দিলীপ ঘোষ, মুকুল রায় এবং রাহুল সিনহা।

বৈঠক শেষে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, ”বাংলার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে খুব ভালোভাবে অবগত রয়েছেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে আজকের বৈঠক ছিল সম্পূর্ণ সাংগঠনিক। পুজোর পর থেকেই বাংলায় শুরু হয়ে যাবে ভোট যুদ্ধের দামামা। ঠিক কোন কোন জায়গা থেকে তৃণমূলকে আমরা জবাব দেব, কি ইস্যুকে সামনে রেখে আমরা ২০২১ এর নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করব, সেইসব নিয়ে আলোচনা হয় আজকের বৈঠকে। এছাড়াও আগামী ৮ তারিখের  নবান্ন অভিযানে  যুব বিজেপির প্রস্তুতির বিভিন্ন তথ্য ও ছবি  আমি তুলে ধরি অমিত শাহ এবং নাড্ডাজীর সামনে।

[আরও পড়ুন- একুশে গেরুয়া পতাকা ওড়ানোর লক্ষ্যে বিজেপির লক্ষ্য জনতার নবান্ন অভিযান]

২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে আমফান, রেশন, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, কাটমানি ইত্যাদি তৃণমূলের লাগামছাড়া দুর্নীতিতে কিভাবে বাংলার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সেগুলো তুলে ধরার জন্য অমিতজী আমাদের সুস্পষ্ট নির্দেশ দেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উন্নয়নমূলক কাজকর্ম যেমন উজ্জ্বলা যোজনা, স্বচ্ছ ভারত মিশনের মত একাধিক যোজনার মাধ্যমে কিভাবে পশ্চিমবঙ্গবাসী উপকৃত হয়েছেন সেগুলো তুলে ধরার জন্য অমিতজী আমাদের সুস্পষ্ট নির্দেশ দেন” ।

দিলীপ ঘোষ আরও বলেন, ”অমিত শাহজী আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন যে, কৃষি বিল নিয়ে যেভাবে তৃণমূল সরকার পশ্চিমবঙ্গের কৃষকদের বোকা বানাতে চাইছে তার বিরুদ্ধে একটা সুস্পষ্ট জনমত তৈরি করতে। কারণ হঠাৎ করেই পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল সরকারের কৃষকদের প্রতি দরদ দেখা যাচ্ছে। যখন কেন্দ্রীয় সরকার কৃষকদের প্রতি জনকে ৬ হাজার টাকা করে অনুদান দিচ্ছিল মমতা ব্যানার্জি বাংলার কৃষকদের তার থেকে বঞ্চিত করে রেখেছেন। এতদিনে না হলে বাংলার প্রতি কৃষকেরা ১৪ হাজার টাকা পেয়ে যেতেন। যে বাড়িতে ৫ থেকে ৭ জন কৃষক আছেন সেই বাড়ীতে প্রাপ্য টাকা করোনা সংকটকালে অনেক উপকারে লাগত।

এরই পাশাপাশি বিভিন্ন লোকাল ইস্যুকেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন অমিত শাহ। বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা আছে। কোথাও নদী বাঁধের এর সমস্যা, কোথাও অনুন্নত শিক্ষাব্যবস্থা, কোথাও স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর বেহাল দশা, অনুন্নত রাস্তাঘাট, পরিবহন ব্যবস্থার  বেহাল দশা থেকে শুরু করে আলু পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি এ সমস্ত কিছু নিয়ে সরব হব আমরা”।

দিলীপ বাবু বলেন, ”মূলত বাংলার মানুষকে মোদি সরকারের উন্নয়নের খতিয়ান দেখিয়ে আমাদের বোঝাতে হবে পশ্চিমবঙ্গের প্রকৃত উন্নয়ন করতে পারে একমাত্র বিজেপি।  ৩৪ বছর বাংলার মানুষ বামফ্রন্ট সরকারকে দেখেছে, গত ১০ বছর ধরে দেখছে তৃণমূল সরকারকে, একইসঙ্গে গত ৬ বছর ধরে দেখছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও। একমাত্র বিজেপি সরকার নির্বাচনের আগে যা যা কথা দিয়েছিল সেগুলো সফল করেছে। সেটা তিন তালাক বিল ই হোক বা কাশ্মীর সমস্যার সমাধান বা পশ্চিমবঙ্গ সহ ভারতে হাজার হাজার উদ্বাস্তু মানুষকে নাগরিকত্ব প্রদানই হোক।

তাই বেকারত্ব, অশিক্ষা, দুর্নীতি, সন্ত্রাসবাদের কবলে পড়া হাঁসফাঁস করা বাংলাকে একমাত্র মুক্তি দিতে পারে বিজেপি সরকারই। একমাত্র বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে বাংলা তার গৌরব ফিরে পেয়ে সোনার বাংলায় পরিণত হবে। এই বিষয়গুলিকে বাংলার সাধারণ মানুষের সামনে বারে বারে তুলে ধরবেন মন্ডল থেকে শুরু করে রাজ্য নেতৃত্ব বলে জানান দীলিপ ঘোষ।

Related Articles

Back to top button
Close